১০ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৫:০৯:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেডারেল আদালতের রায়ে সুরক্ষিত থাকছে স্ন্যাপ সুবিধা মুসলিমবিরোধী আইন প্রত্যাখ্যানে ১১৯ ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান সেন্ট্রাল পার্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখবে ৫০ হাজার দর্শক মামলার কারণে তিন ভাড়াটিয়ার কাছে পাওনা প্রায় এক লাখ ডলার নিউ ইয়র্ক পুলিশের বাংলাদেশি আমেরিকানদের পদোন্নতি নর্থ ক্যারোলিনার স্টেট সিনেটর হলেন বাংলাদেশী হাসিব ফাতমী নিউইয়র্ক স্টেট থেকে ৪৫ হাজার ডলারের চেক পেল বাংলাদেশ সোসাইটি গ্রেস মেংকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহবান প্রতিবছর ৭৫ হাজার অভিবাসী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে জি কে প্রকল্পের সফলতা ভেস্তে যাবার উপক্রম


মুসলিম শিক্ষার্থীদের শাস্তির ঘটনায় স্কুল বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৬-২০২৬
মুসলিম শিক্ষার্থীদের শাস্তির ঘটনায় স্কুল বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলা থমাস জেফারসন হাই স্কুল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি


ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পাবলিক স্কুলস (এফসিপিএস)-এর বিরুদ্ধে ফেডারেল নাগরিক অধিকার মামলা করেছে মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)। অভিযোগ করা হয়েছে, থমাস জেফারসন হাই স্কুল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এমএসএ) কয়েকজন সদস্যকে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওর কারণে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, অথচ একই ধরনের ভিডিও তৈরি করা অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত ৪ জুন ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ভার্জিনিয়া ফেডারেল আদালতে কেয়ার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড মামলাটি দায়ের করে। মামলায় বলা হয়, গত বছরের শরতে এমএসএর সদস্যরা তাদের সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও তৈরি করেছিল, যা তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় একটি কৌতুকধর্মী ভিডিও ট্রেন্ডের অংশ ছিল। ভিডিওটিতে দেখানো হয়, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তারা এমএসএর অনুষ্ঠানে অংশ নেবে কি না। যারা ‘না’ বলে, তাদের মজার ছলে ক্যামেরার ফ্রেমের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। যারা ‘হ্যাঁ’ বলে, তারা ক্যামেরার সামনে থেকেই যায়। ভিডিওর শেষে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, এই ভিডিও তৈরির সময় কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।

মামলা অনুযায়ী, ভিডিওটি স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের সময় প্রার্থনা কক্ষে ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওতে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ ফিলিস্তিন-সমর্থিত সোয়েটশার্ট, কেউ চাঁদ-তারার প্রতীকযুক্ত পোশাক ও কেফিয়াহ, আবার কেউ হিজাব পরেছিলেন। ভিডিওটি এমএসএর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশের পর প্রথমে কোনো আপত্তি ওঠেনি। কিন্তু দুই দিন পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু ব্যবহারকারী সেটিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করে। পরবর্তীতে কয়েকজন ডানপন্থী ভাষ্যকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ভিডিওটিকে হামাসকে মহিমান্বিত করা এবং ৭ অক্টোবরের অপহরণের ঘটনা পুনর্নির্মাণ বলে আখ্যা দেন। কেয়ার -এর অভিযোগ, ওইসব পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচারণা চালানো হয় এবং তাদের লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভুয়া বা “ডিপফেইক” ভিডিওও তৈরি করা হয়।

মামলায় বলা হয়েছে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরদিন স্কুল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে দেখিয়েছিল যে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির অন্যান্য স্কুল ও একই স্কুলের অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোও একই ধরনের ভিডিও তৈরি করেছিল। কিছু ভিডিওতে খেলনা অস্ত্রের ব্যবহারও ছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এরপর আটজন শিক্ষার্থীকে ডিটেনশনে পাঠানো হয় এবং এক সপ্তাহেরও বেশি সময় তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। কেয়ার -এর অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে ভিডিওটিকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে নিন্দা করে এবং মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, যা শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

মামলায় বলা হয়েছে, এফসিপিএসের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং চতুর্দশ সংশোধনীতে নিশ্চিত সমান সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল সিক্সের অধীনেও বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের সন্তানরা মেধাবী শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, স্বেচ্ছাসেবক এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল। তারা কেবল একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রেন্ডে অংশ নিয়েছিল, যা দেশের বিভিন্ন স্কুলে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও করেছিল। অথচ শুধুমাত্র মুসলিম শিক্ষার্থীদেরই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

মামলায় আরো দাবি করা হয়েছে যে এই শাস্তির কারণে শিক্ষার্থীদের জীবনে গুরুতর প্রভাব পড়েছে। একজন শিক্ষার্থী যেসব কলেজে আবেদন করেছিলেন, সেসব সবকটি থেকে প্রত্যাখ্যাত হন। আরেকজন একটি মর্যাদাপূর্ণ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েন। তৃতীয় একজন শিক্ষার্থীকে ফিলিস্তিনের মানচিত্রসংবলিত একটি সোয়েটশার্ট পরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়, যদিও এর আগে তাকে একই পোশাক পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পাবলিক স্কুলস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এখনও মামলার কপি হাতে পায়নি। আইনজীবীরা বিষয়টি পর্যালোচনা করার পর আদালতের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জবাব দেওয়া হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা এফসিপিএসের স্টুডেন্ট রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ নীতিমালার আওতায় পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি স্কুল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা চলছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মশক্তি বিষয়ক কমিটি ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি এবং আরো দুটি স্কুল জেলার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। কমিটির চেয়ারম্যান টিম ওয়ালবার্গের পাঠানো এক চিঠিতে এমএসএর প্রচারমূলক ভিডিওকে ৭ অক্টোবরের অপহরণ পুনর্নির্মাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে কেয়ার বলছে, স্কুল জেলা মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং ঘৃণামূলক গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগকে বৈধতা দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, সরকারি স্কুল কোনো শিক্ষার্থীকে তার ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আলাদাভাবে শাস্তি দিতে পারে না। মামলায় আদালতের কাছে শিক্ষার্থীদের অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন