সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন আবু তাহের
চট্টগ্রাম ভবনের একটি অন্যতম আয়ের উৎস হলো এ ভবনের ছয়টি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া। এ ভবনের এ আয়ের উৎস নানা সময়ে নানা মহল তছরুপ করেছেন। মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুইজন প্রার্থী চট্টগ্রাম ভবনের ভাড়াটিয়া। নির্বাচনের পর থেকে নিয়ে আজ অবধি এই দুইজন এবং তাদের যোগসাজশে অন্য আরো একজন ভাড়াটিয়া কোনো ভাড়া পরিশোধ করেনি। ভাড়া আদায় করতে গেলে তারা বলেছেন, তারা নাকি অন্য পক্ষকে ভাড়া দিয়েছেন। নানা চেষ্টা তদবির করার পর ও যখন তারা ভাড়া পরিশোধ করেননি তখন উপায়ান্তর না দেখে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির পরামর্শের ভিত্তিতে ল্যান্ডলর্ড এবং টেনান্ট কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। আজ অবধি এই তিনজন ভাড়াটিয়ার কাছে চট্টগ্রাম সমিতির পাওনা ভাড়ার পরিমাণ ৯৭৭১১.২০ সেন্ট। গত ৮ জুন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রহমান এ কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর রহিম, সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হানিফ, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনির আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ রিজভী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিঠু, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য এনাম চৌধুরী, উপদেষ্টা সাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, উপদেষ্টা শাহজাহান, জামাল চৌধুরী, মোহাম্মদ কামাল, মতিউর রহমান চৌধুরী, সহ-সভাপতি টি আনাম, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সফিক, সহ কোষাধ্যক্ষ নূরুল আমিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক কলিমুল্লাহ মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক তানিম মহসীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এনাম চৌধুরী, সহ-অফিস সেক্রেটারি ইমরুল কায়সার, ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ ইছা, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আক্তার, সহ-সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মহিউদ্দিন, কার্যকরি সদস্য নাছির উদ্দিন প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, সত্যিকারের মিডিয়া সমাজের নানা ছবি মানুষের সামনে তুলে ধরে। অন্যায়, অবিচার, মিথ্যাচারকে পরাজিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তেমনি একটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ক্রমাগত মিথ্যাচার, গোয়েবেলসিও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের নিরপেক্ষ সহযোগিতায় ০আমরা এইসব মিথ্যাচার এবং প্রোপাগান্ডার জবাব দিতে সক্ষম হবো এবং সত্যিকারের পরিস্থিতি, প্রমাণ সহকারে চট্টগ্রামবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সামনে তুলে ধরতে সমর্থ হবো।
আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই, এই চট্টগ্রাম সমিতির বিনির্মাণে যারা শ্রম, মেধা, অর্থসহ নানাভাবে আমাদের সাহায্য করেছেন কিন্তু আজ আমাদের মাঝে নেই- সর্বজন শ্রদ্ধেয় দীন এম রানা, সৈয়দ এম রেজা , আব্দুল হাই জিয়া, হেলাল উদ্দিন, তসলিম, কামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন উকিল, গিয়াস উদ্দিন, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ডাক্তার আনোয়ার মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউল আজম শফিসহ আরো অনেককে।
তিনি বলেন, চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা ইন্ক্ এই প্রবাসের একটি অত্যন্ত স্বনামধন্য আঞ্চলিক সংগঠন- যার বয়েস হাঁটি হাঁটি পা পা করে প্রায় ৩৭ বছরে পদার্পন করেছে। নানা চড়াই উৎরাইয়ের ভেতর দিয়ে এই সংগঠন এগিয়ে গেছে, এই পথ চলা সবসময় সহজ ছিল না, কোনো কোনো সময় এই পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। তারপর ও চট্টগ্রাম সুহৃদদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই কাঁটা বিছানো পথ অতিক্রম করতে আমরা সফল হয়েছি। কোভিড পূর্ববর্তী সময় থেকেই চট্টগ্রাম সমিতি নানা সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলো। প্রাণঘাতী কোভিডের আক্রমণে সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই জিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে সংকট আরো গভীরতর হয়। সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিবাদদমান সকল পক্ষের সমন্বয়ে একটি অর্থবহ নির্বাচন করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বতীকালীন কমিটি গঠন করা হয়। এই অন্তবর্তীকালীন কমিটি নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সতেরো মাস পরে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। যদিও প্রথমদিকে একটি দুষ্টু চক্র একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করার চেষ্টা করলে তীব্র বাধার সম্মুখীন হন এবং পরবর্তীতে সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশন সমিতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দক্ষতার সঙ্গে সময়োপযোগী তফসিল ঘোষণা করেন। নির্বাচনের ভোট গ্রহণ এবং অন্যান্য সব কার্যাদি সম্পাদনের লক্ষ্যে, সকল পক্ষের মতের ভিত্তিতে একটি ইনডিপেনডেন্ট সংস্থা ‘ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিস’ক নিয়োগ দেওয়া হয়। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয় ২০ অক্টোবর ২০২৪। নির্বাচনে দুইটি প্যানেলের মধ্যে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যদিও সাধারণ সম্পাদক পদের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। শান্তিপূর্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ব্রুকলিন, কুইন্স, নিউজার্সি এবং কানেক্টিকাট- চারটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচন ছিল চোখে পড়ার মতন। ভোট গ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিক ফল গণনায় একাধিক পদের ভোটের পার্থক্য চ্যালেঞ্জড ভোটার সংখ্যানুপাতে বিবেচনাযোগ্য হওয়ায় নির্বাচনের দিন নির্বাচন কমিশন পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা থেকে বিরত থাকেন। ছয়টি চ্যালেঞ্জড ভোটের ন্যায্যতা নির্ধারণ এবং গণনা শেষে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তাহের-আরিফ পরিষদের সদস্যরা নয়টি পদে এবং অন্য প্যানেলের দশজন নির্বাচিত হন। এখানে উল্লেখ্য যে, চ্যালেঞ্জড ভোটসহ সকল ভোটার গণনার কাজ ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিস সম্পন্ন করেছেন, নির্বাচন কমিশন চুক্তি এবং বিধি অনুযায়ী শুধু ফলাফল ঘোষণা করেন। ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিসের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে পাঁচজন নির্বাচন কমিশন পূর্ণ ঐক্যমতের ভিত্তিতে তাদের অফিসিয়াল ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল ঘোষণা করার পরপরই নির্বাচনে পরাজিত একজন সভাপতি পদপ্রার্থী নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় কিছু পত্রপত্রিকায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন। এই অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে ফেসবুক লাইভে এসে ওই ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের প্রধানসহ সম্মানিত চট্টগ্রামবাসীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে নানা ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করে। যার ভিডিও এখনো অনেকের কাছে সংরক্ষিত আছে- যদিও চট্টগ্রামবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে এবং জনরোষের ভয়ে ওই পোস্টটি সরিয়ে নেয়া হয়।
শুধু ওই পোস্টটি নয়, এমনতরো অনেকগুলো পোস্টই সেই ব্যক্তির ফেসবুক একাউন্ট থেকে সরিয়ে নেবার রেকর্ড আছে। চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী (আর্টিকেল-১৫.২৫) ফলাফল ঘোষণার পনেরো দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক শপথ দেবার বিধান আছে। নির্বাচন কমিশন আর্টিকেল ১৫ দশমিক ২৫ অনুযায়ী নির্বাচিত সকল সদস্যের তেসরা নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে শপথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তাহের-আরিফ পরিষদের সকল সদস্য শপথ গ্রহণ করলে ও অন্য প্যানেল থেকে নির্বাচিত সদস্যগণ শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় নির্বাচনের ফল ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের বিধান থাকলে ও পরিস্থিতি বিবেচনায় যৌক্তিক সময় অপেক্ষা করার পরও শপথ না নেওয়ায় সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং নির্বাহী ক্ষমতাবলে নব-নির্বাচিত সভাপতি তাদের শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে সংগঠনের দায়িত্ব অর্পণ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত হবার পর থেকেই ১৯ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিরলসভাবে চট্টগ্রাম সমিতিকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে নির্বাচনে জয়লাভ করা সত্ত্বেও, একদল তরুণ, প্রতিশ্রুতিশীল নতুন নেতৃত্ব কতিপয় অহংকারী, স্বার্থপর এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ক্রীড়নকদের অশুভ ইচ্ছার বলির পাঠা হয়েছেন।
ইফতার মাহফিল এবং ক্রিমিনাল কেস: শপথ গ্রহণের পর থেকেই চট্টগ্রাম ভবনের দায়িত্ব বুঝে পেতে নতুন কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরাজিত মহলটি গায়ের জোরে চট্টগ্রাম সমিতি ভবনের দখল নেয়, কিন্তু আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাহের- আরিফ এর নেতৃত্বে নতুন কমিটি পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির কাছ থেকে ব্যাঙ্ক হিসাব এবং ভবনের কাগজপত্র, ভবনের ডিড, কবরের এলোটমেন্ট পেপার, রেজ্যুলেশন বুক এইসব বুঝে নেবার পর চট্টগ্রাম সমিতির ভবন বুঝে নেন। এখানে অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আটজন বৈধ সদস্যদের ভেতর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন, সাতজনের ভেতর মোট পাঁচজনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। কোনো ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিবিশেষের একক সিদ্ধান্তে নয়।
পরবর্তীতে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ রাতের অন্ধকারে ভবনের তালা ভেঙে কতিপয় ব্যক্তি চট্টগ্রাম ভবনে প্রবেশ করলে সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক লোকাল প্রিসিঙ্কট এ অভিযোগ দায়ের করেন। এখানে উল্লেখ্য যে প্রাথমিক রিপোর্টে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। গোয়েন্দা তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজের আলামতের ভিত্তিতে আসামিদের সনাক্ত করে ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি নিজ উদ্যোগে ক্রিমিনাল মামলা দায়ের করেন এবং এর ফলশ্রুতিতে কেউ কেউ গ্রেফতারও হন। মামলার রেকর্ড (CR - 013245-25 KN) অনুযায়ী বার্গলারি, থার্ড ডিগ্রী, এটেম্পটেড বার্গলারি- থার্ড ডিগ্রী, ক্রিমিনাল মিসছেফ-ফোর্থ ডিগ্রী এবং ক্রিমিনাল ট্রেসপাস এর বিষয় উল্লেখ করা হয়। যদিও গ্রেফতারকৃতদের কেউ কেউ তাদেরকে মাদক মামলা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। উপরোক্ত ক্রিমিনাল মামলার ফলশ্রুতিতে কারোর কারোর বিরুদ্ধে অর্ডার অফ প্রটেকশনও জারি করা হয়।
অনাদায়ী ভাড়া আদায়ের মামলা
আপনারা অনেকেই অবগত আছেন চট্টগ্রাম ভবনের একটি অন্যতম আয়ের উৎস হলো এই ভবনের ছয়টি এপার্টমেন্টের ভাড়া। এই ভবনের এই আয়ের উৎস নানা সময়ে নানা মহল তসরুফ করেছেন। বিশেষ করে বিবাদমান দুই দলের পক্ষ এবং বিপক্ষ নিয়ে কতিপয় অসাধু ভাড়াটিয়া সুযোগ গ্রহণ করে আনছেন। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। মাকসুদ- মাসুদ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দু’জন প্রার্থী চট্টগ্রাম ভবনের ভাড়াটিয়া। নির্বাচনের পর থেকে নিয়ে আজ অবধি এই দুইজন এবং তাদের যোগসাজশে অন্য আরো একজন ভাড়াটিয়া কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি। ভাড়া আদায় করতে গেলে তারা বলেছেন, তারা নাকি অন্য পক্ষকে ভাড়া দিয়েছেন। নানা চেষ্টা তদবির করার পর ও যখন তারা ভাড়া পরিশোধ করেননি তখন উপায়ান্তর না দেখে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির পরামর্শের ভিত্তিতে ল্যান্ডলর্ড এবং টেনান্ট কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম সমিতির ভাড়া আদায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সময়ে, পরবর্তীতে বর্তমান সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ আবু তাহের এবং মহম্মদ আরিফুল ইসলাম চট্টগ্রাম সমিতির পক্ষে পুরানো চুক্তি নবায়ন করেন। আজ অবধি এই তিনজন ভাড়াটিয়ার কাছে চট্টগ্রাম সমিতির পাওনা ভাড়ার পরিমাণ ৯৭৭১১.২০ সেন্ট। (সাতানব্বই হাজার সত্য এগারো ডলার বিশ সেন্টস)। বর্তমানে এই অনাদায়ী ভাড়ার মামলাটি ট্রায়াল এর জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, অচিরেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তিনজন ভাড়াটেকে আমরা উচ্ছেদ কোর্টে সমর্থ হবো এবং অনাদায়ী অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হবো।
ল্যান্ডলর্ড এবং টেনান্ট কোর্টের মামলা # ৩২৪৭৬৮/২৫
নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি, বর্তমান কার্যকরি কমিটি এবং ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিসের বিরুদ্ধে সিভিল মামলা: নির্বাচনী প্রচারকালে চট্টগ্রামবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে পরাজিত মাকসুদ- মাসুদ প্যানেলের সদস্য এবং তাদের কিছু সহযোগী বর্তমান কার্যকরি কমিটি, ইলেকশন কমিশন, নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিস এর বিরুদ্ধে একটি সিভিল মামলা দায়ের করে। মামলার বিবরণীতে তারা নিজেদের চট্টগ্রাম সমিতির মালিক দাবি করে আদালতের কাছে বিচার চান। আসলে এর পেছনে অন্য কাহিনী লুকায়িত আছে বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। অন্যথায় আজ অবধি তাদের দায়ের করা এই মামলা আলোর মুখ দেখেনি, চট্টগ্রামবাসীদের এবং সংশ্লিষ্ট মহলকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে এই মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালীন সময়ে। এই মামলার অজুহাত দেখিয়ে তারা চট্টগ্রামবাসীর সামনে তাদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে চায়। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা এই মামলার নম্বর #৫৩৫১৪৬/২০২৪।
চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান কার্যক্রম
নভেম্বর, ২০২৪ এ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আজ অবধি চট্টগ্রামবাসীর অব্যাহত সহযোগিতায় তাহের-আরিফের নেতৃত্বে বর্তমান কার্যকরী কমিটি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করেছেন। দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙে যোগ্য এবং সৎ মানুষদের সমন্বয়ে ট্রাস্টি বোর্ড এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, বৃহৎ আঙ্গিকে ইফতার মাহফিল, প্রথম বারের মতন কুইন্স এ বড় আঙ্গিকে ইফতার মাহফিল, প্রায় সাড়ে তিন হাজার লোক সমাগমে বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কে পিকনিক, পবিত্র ঈদ এ মিলাদুন্নবী সাঃ উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল এবং চাটগাইয়া মেজবান, দুইটি বৃহৎ পরিসরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এর দ্বিতীয়বারের মতন নির্বাচিত কাউন্সিলওমেন শাহানা হানিফকে সংবর্ধনা প্রদান, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন ইত্যাদি।
এছাড়া ও যেই উদ্দেশ্য নিয়ে এই জনকল্যাণমুখী সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই অন্যতম প্রধান কাজ: মৃতের দাফন/সৎকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আজ অবধি সাতজনকে বিনামূল্যে কবরস্থ করা হয়েছে নিউজার্সির মার্লবোরো মুসলিম সিমেট্রিতে। এছাড়া ও অন্য দুইজনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সকলের দোয়াতে এবং সহযোগিতায় আমরা আরো কিছু কবর ক্রয়ের ব্যপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং এই বিষয়টিকে বাস্তবে রূপ দেবার জন্য একটি শক্তিশালী উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান
চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান নেতৃত্ব দুর্নীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং এই অবস্থান অব্যাহত থাকব। চট্টগ্রামবাসীর হকের অর্থ, লাশ দাফনের অর্থ যারা মেরে দিয়েছেন, তাদের কোনো ভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না, বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং হয়েছে। যেই অর্থে চট্টগ্রামবাসীর কল্যাণ হবার কথা ছিলো, সেই অর্থ ব্যক্তিবিশেষের পকেটস্থ হয়েছে, যে অর্থে চট্টগ্রামবাসীর লাশ দাফন হবার কথা ছিলো, সেই অর্থে ব্যক্তিবিশেষ ভোগ বিলাস করেছে। ২০২১ সালে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠনের পূর্বে ভুয়া নির্বাচন দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ৩৫০০০ হাজার ডলার। নয়শো সদস্য প্রদর্শন করে নির্বাচনের প্রহসন করে ‘অনেস্ট ব্যালট’কে ২৫ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বলে দাবি করলে ও সদস্য ফির অর্থ কোথায় জমা হয়েছে তার হদিস এখনো তৎকালীন নেতৃবৃন্দ দিতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আবু তাহের, আরিফুল ইসলাম ও কামাল হোসেন মিঠু।