সাপ্লিমেন্টারি নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (স্ন্যাপ)
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির অর্থায়নের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন আরোপিত নতুন শর্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। শুক্রবার (৫ জুন) ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে বসা ফেডারেল বিচারক মিয়ং জৌন ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার করা মামলায় প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা (প্রিলিমিনারি ইনজাংশন) জারি করেন। এর ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থায়নের সঙ্গে নতুন ফেডারেল নীতিগত শর্তগুলো যুক্ত করতে পারবে না।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল পুষ্টি সহায়তা তহবিল পাওয়ার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে বিভিন্ন ফেডারেল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকার প্রত্যয়ন দিতে বাধ্য করতে চেয়েছিল। এই শর্তগুলো ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার পরিচালিত বিভিন্ন অনুদান ও কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, যার মধ্যে রয়েছে সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম (স্ন্যাপ)। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ খাদ্য কেনার জন্য সহায়তা পেয়ে থাকেন।
গত মার্চ মাসে ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলরা ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) নতুন অর্থায়ন শর্তারোপের মাধ্যমে কংগ্রেস অনুমোদিত তহবিলের ওপর এমন সব নীতিগত বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দিচ্ছে, যা খাদ্য সহায়তা, কৃষি গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। বাদীপক্ষের দাবি, ইউএসডিএর এই পদক্ষেপ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিডিউর অ্যাক্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের স্পেন্ডিং ক্লজের পরিপন্থী। তারা আদালতের কাছে যুক্তি দেন যে, কংগ্রেসের অনুমোদিত তহবিল পাওয়ার শর্ত একতরফাভাবে পরিবর্তনের ক্ষমতা নির্বাহী শাখার নেই এবং নতুন শর্তগুলো অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য গুরুতর প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
মামলায় আরো বলা হয়, ইউএসডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলোকে অভিবাসন, “জেন্ডার আইডিওলজি” এবং নারী ও মেয়েদের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণসংক্রান্ত ফেডারেল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকার প্রত্যয়ন দিতে বলা হয়েছিল। বাদীপক্ষের মতে, এসব শর্ত খাদ্য সহায়তা ও কৃষি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই আরোপ করা হয়েছে। ফলে স্ন্যাপ, ডব্লিউআইসি এবং স্কুল মিল কর্মসূচিসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সেবার অর্থায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত।
অঙ্গরাজ্যগুলো অভিযোগ করে যে, কংগ্রেস অনুমোদিত তহবিল পাওয়ার জন্য নতুন করে আরোপিত শর্তগুলো অস্পষ্ট, আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং খাদ্য ও কৃষি কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন। তাদের মতে, এসব শর্ত কার্যকর হলে স্ন্যাপ, স্কুল মিল কর্মসূচি এবং নারী, শিশু ও নবজাতকদের জন্য পরিচালিত স্পেশাল সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ফর উইমেন, ইনফ্যান্টস অ্যান্ড চিলড্রেন (ডব্লিউআইসি) কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।
ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলদের নেতৃত্বে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, ইউএসডিএ ফেডারেল আইনে অনুমোদিত কর্মসূচি ও সেগুলো পরিচালনাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে অসাংবিধানিক ও বেআইনি বাধা সৃষ্টি করেছে। বিতর্কিত শর্তগুলোর মধ্যে অভিবাসন নীতি, জেন্ডার আইডিওলজি এবং নারী ও মেয়েদের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণসংক্রান্ত ফেডারেল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে, এসব শর্তের উদ্দেশ্য ছিল করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, ইউএসডিএর তদারকি জোরদার করা এবং ফেডারেল তহবিল গ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে ফেডারেল আইন, বিধি ও নীতিমালা মেনে চলতে বাধ্য করা। প্রশাসনের দাবি, যেহেতু ফেডারেল অর্থায়ন পেতে অঙ্গরাজ্যগুলোকে বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলতে হয়, তাই অন্যান্য ফেডারেল নীতির ক্ষেত্রেও একই ধরনের শর্ত আরোপ করা যেতে পারে।
বিচারক জৌন আদালতে মৌখিকভাবে রায় ঘোষণা করলেও সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সম্বলিত লিখিত স্মারক পরে প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন। মামলার আওতাভুক্ত অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন, ওরেগন এবং কলোরাডোসহ আরো কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য। আদালতের নথি অনুযায়ী, এসব অঙ্গরাজ্য ইউএসডিএর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে সম্মিলিতভাবে ৭৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ পেয়ে থাকে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ম্যাসাচুসেটস অ্যাটর্নি জেনারেল আন্দ্রেয়া জয় ক্যাম্পবেল সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ইউএসডিএর অনুদান লাখো পরিবারের জন্য ‘জীবনরেখা’ হিসেবে কাজ করে এবং আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। একইভাবে নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, মামলার বিচার চলাকালে ফেডারেল অর্থায়ন সুরক্ষিত রাখতে তার দপ্তর লড়াই চালিয়ে যাবে।এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল তহবিলের সঙ্গে নীতিগত শর্ত যুক্ত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি কর্মসূচিগুলো আগের নিয়মেই পরিচালিত হবে।