১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ০৩:৩৬:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্ন্যাপ সুবিধাভোগীদের ভাতা চুরি রোধে বড় পদক্ষেপ ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৪.৭ শতাংশ যৌন নিপীড়নের মামলায় ক্যারলকে ৫.৬ মিলিয়ন দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঢালিউডের দু’জন চিত্রনায়িকার বক্তব্যে নিয়ে অনেক প্রশ্ন তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ‘জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন’ রাজধানীর বুক থেকে নদী গায়েবের চেষ্টা রুখে দিল পরিবেশবাদিরা বাংলাদেশি অভিবাসীরা কি যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা? নেতৃবৃন্দ নীরব কেন ৩১ অঙ্গরাজ্যে মারাত্মক ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী পরজীবীর প্রাদুর্ভাব ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৩ জন মানুষের মৃত্যু বারবার দেশে ফেরার ঘোষণায় হালকা হচ্ছেন হাসিনা


তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ‘জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন’
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৭-২০২৬
তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ‘জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ‘জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবার আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআট ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এক উদ্যোক্তার প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র নুসরাত জাহানের প্রশ্ন ছিলো, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণ দেয়া হয় জামানতের ভিত্তিতে অর্থাৎ জমি বা সম্পত্তির বিপরীতে। এখন যে তরুণ-তরুণীর বাবার জমির নেই তাদের ভালো আইডিয়া রয়েছে তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার কী ব্যবস্থা রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক কথায় যদি আমাকে বলতে হয় আপনার এই সমস্যাটা কিন্তু আমি সবাই জানি, আমরা সবাই জানি। আমাদের আইসিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে যে ফান্ড রাখা হয়েছে- ৫০০ কোটি টাকার মত বাজেট রাখা হয়েছে। এই ফান্ড থেকে আমরা ৫ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত উদ্যোক্তাকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। একই সাথে আমরা অলরেডি ডিসিশন নিয়েছি যে, আপনার মতো যদি এমন উদ্যোক্ত থাকে .. আপনি একদম ফ্রেশ স্টার্টআপ, আপনাকে ব্যাংকের যে হ্যাসেলগুলো বিভিন্ন রকম সম্পদের সিকিউরিটি দিতে হয়, বিভিন্ন রকম কাগজপত্র দিতে হয়-এর ভেতর দিয়ে যাতে আপনাকে যেতে না হয়। আপনি আসবেন, আপনার প্রজেক্ট দেখবেন একটা কমিটি- নিরপেক্ষ একটা কমিটি করা হয়েছে সেখানে মন্ত্রী সাহেবও নেই, এডভাইজার সাহেবও নেই.. একদম পিউর একটা কমিটি করা হয়েছে। তারা আপনার প্রজেক্ট দেখবেন, দেখেন ডিসিশন নিয়ে উইথআউট এ্যানি কো-রেটারল আপনাকে ফান্ড করবে।

নসুরাতের দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিলো একজন স্টার্টেআপ যেমন সফলতা আছে তেমনি ব্যর্থতাও আছে। দেখা যায় যে, একটা স্টার্টআপ যদি প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে তার দ্বিতীয়বারি ঋণ পেতে অসুবিধা হয়। এ ব্যাপারে কী করা যেতে পারে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখুন আপরাকে যেটা হেল্প করা হবে যেটা তো কারো প্রাইভেট মানি নয়, পাবলিক মানি। তবে নিশ্চয় আপনার ওটা (প্রকল্পের) যদি পটেনশিয়াল থাকে ডেফিনেটলি তাকে আবার রি-থিংক করা হবে, তাকে আবার ফারদার করা যায় কিনা- যদি করা যায় অবশ্যই করা যাবে। হতেই পারে, ব্যবসা করতে গেলে অনেক সময় অনেক জিনিস ক্লিক করে না, একটু সময় হয়ত থাকে। তবে ওটা পসেবিলিটি যদি থাকে অবশ্যই সেটাকে সেকেন্ড টাইম আবার ফাইন্যান্স করা হবে ইনশাল্লাহ।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া প্রান্তিক পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে সরকারের কী ধরনের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি বলেছেন যে, স্টার্টআপ শুধু ঢাকা শহর কেন্দ্রিক নয়, সারা দেশে যাতে হয়। স্টার্টআপের এ বিষয়টা আমরা নতুনভাবে শুরু করতে চাইছি। আমরা চাইছি যে, আপনাদের মতো ইয়াং ইন্টারপ্রেণর যারা আছেন তারা আস্তে আস্তে আসুক। আমরা আপনাদের কাছে রিচ করতে চাইছি। একটু আমাদের সময় লাগবে, আমরা যদি সকলে মিলে সিনসিয়ারলি কাজ করি নিশ্চিয়ই আমরা আমাদের গোলে এচিভ করতে পারব এটা আমরা মনে করি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ফাহিম স্টার্টআপকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সরকারের পরিকল্পনা আছে বলে জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়ো টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম নাফিউ প্রশ্ন ছিলো একটি জাতীয় জেনোটিক ডাটা ব্যাংক গড়ে তোলা হবে কিনা। প্রধানমন্ত্রী এই প্রশ্নের জবাবটা প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে দিতে বলেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এই মুহূর্তে কোন ডিপিআই মানে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কিংবা কোন ডেটা ব্যাংক নেই। সরকার অলরেডি এনাউন্স করেছে যে, আমরা টপ প্রায়রিটি ফর আস এবং এই প্রথমবারের মত আমরা ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি এন্ড ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ চালু করতে যাচ্ছি। এটা আমাদের ফাস্ট পপুলেশন ডেটাবেস যেটা পপুলেশন রেজিস্ট্রি হিসেবে কাজ করবে এবং এটা ফাস্ট স্টেপ। পুলেশন ডেটাবেস, পপুলেশন রেজিস্ট্রি তখন আপনি নেক্সট হেলথকেয়ারে যেতে পারবেন, আপনি এডুকেশনে যেতে পারবেন।

ওয়ার্ল্ড বেস্ট ডেটাবেস চিন্তা করেন.. বেস্ট পপুলেশন সিস্টেম, বেস্ট ই-গভার্নেন্স এস্তোনিয়ায়। গত সপ্তাহে আমরা আটজনের একটা টিম এস্তোনিয়াতে গিয়েছিলাম উনাদের কাছে জিনিসটা দেখতে এবং শিখতে। উনারা কিভাবে এটা তৈরি করেছেন। ২০০২ সালে, তারা কিভাবে এটা মেইনটেইন করে। আমরা আগস্টের ফার্স্ট উইক থেকে আমাদের এই ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কাজ শুরু করছি। যেখানে আমরা বিভিন্ন মন্ত্রালয়ের ডেটা একসাথে একটা ক্লাউডে নিয়ে আসবো। ফাস্টে পপুলেশন রেজিস্ট্রিতে শুরু করা হবে। তারপরে আস্তে আস্তে হেলথকেয়ার এডুকেশন এবং অন্যান্য মিনিস্ট্রিতে যাওয়া হবে। সো জাস্ট স্টার্টিং আওয়ার জার্নি। হয়ত ১২ মাস থেকে ১৮ মাস আমাদের সময় লাগবে। ইনশাল্লাহ আজ থেকে দু’বছর পরে আপনি যে প্রশ্ন করলেন আপনি আপনার রুমে বসে আপনি ডেটা এক্সেস করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী মিলনায়তনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন পর্ব। তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা প্রধানমন্ত্রী কাছে জানতে চান। অনুষ্ঠানে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ মনজুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নোত্তরে মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করেন। এই পর্বে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

প্রশ্নপর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নুসরাত জাহান,মেহরাব আনোয়ার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল ইসলাম নাফিউ, আসিফ আজাদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহিদ হোসেন, ইউনিভার্সিটি অফ প্রফোশনালসের আদনান সাবাব আজাদ, মিলিটারি ইন্সটিটউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির নাফিসা তাসকিন জাহারা, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামিয়া তাহসিন প্রমুখ শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন।

‘তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে সরকার’

ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিয়া তাহসিসের প্রশ্ন ছিলো বিভিন্ন স্টার্টআপ দেশীয় বাজারে অনেক ভালো করলেও দেখা যায় বিদেশী যখন ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে যায় অনেক সমস্যা মুখোমুখি হয়। এই ব্যাপারে কিভাবে হেল্প করতে পারে সরকার?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নীতিমালা প্রণয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘‘ আমাদেরকে কিছু পলিসি নিতে হবে। এই পলিসি গুলোর উপর আমরা কাজ করছি। একই সাথে আপনাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় গভমেন্ট থেকে হেল্প করতে হবে। আপনারা যখন বাইরে যাচ্ছেন পলিসির সাথে সাথে আমাদের ফরেন অফিস কিছু কাজ করতে হবে। সেগুলার উপরে আমরা কাজ করছিৃ নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে একটু হয়তো সময় লাগবে।”

যেমন শেয়ার ট্রিপের বিষয়টি যতটুকু আমার ধারণা আছে এটাকে আমরা একটা খুব সম্ভবত যতটুকু আমার ধারণা আছে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশে এই কোম্পানিটাকে আমরা গ্লোবাললি আমরা নিতে চাচ্ছি তো সেজন্য আমরা কাজ করছি। আমরা যদি এটাতে ইনশাল্লাহ সাকসেসফুল হই তাহলে আপনি যেটা চাচ্ছেন আপনাদের মত আরো ছোট ছোট অনেক কোম্পানিগুলোকে আমরা ইনশাল্লাহ নিতে পারব।”

এই তরুণ উদ্যোক্তারা প্রধানমন্ত্রীকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানায়।

শেয়ার করুন