২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ১০:০১:১৪ অপরাহ্ন


শিল্পখাত পড়েছে গভীর সংকটে
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৭-২০২৬
শিল্পখাত পড়েছে গভীর সংকটে প্রতীকী ছবি


তীব্র জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংকঋণে অচলাবস্থা, ডলারের অবমূল্যায়ন নিয়ে শিল্পখাত পড়েছে গভীর সংকটে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আর বিনিয়োগ বাড়ানোর মূল চ্যালেঞ্জ এখন জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট। পত্রিকার খবরে প্রকাশ মাত্র চার বছর আগেও এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশ। এখন সেটি নেমে এসেছে ৫ শতাংশ। সরকার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে, প্রণোদনা, নীতি সহায়তাসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছে । কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঋণের সুদহার কমানো কিংবা নীতি ছাড়ের কোনোটিই পুরোপুরি কাজে আসবে না, যদি শিল্পোদ্যোগে চাহিদা অনুসারে গ্যাসসহ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়।

পেট্রোবাংলার হিসেবে দেশের গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সর্বোচ্চ সরবরাহ ২ হাজার ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন ১ হাজার ৬৪০ মিলিয়ন আর আমদানিকৃত এলএনজি ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশের উৎপাদন প্রতিদিন কমছে। ৩০ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে চলা জ্বালানি খাত ধুঁকছে। সংকটে পড়েছে বিদ্যুৎ, সার উৎপাদন ,শিল্প খাত। অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না, কোথাও কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর নতুন কারখানায় গ্যাসের সংযোগ একেবারেই বন্ধ। দেশের মোট ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৪২ শতাংশ গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের সংকটের কারণে এখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এ কারণে লোডশেডিংও করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ এ ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়বে সেই আশঙ্কা গত ১৫ বছর ধরেই নানা মাধ্যমে সতর্ক করেছি, সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। নিজে ১৯৭৮-২০০৫ গ্যাস সরবরাহ চেইনের সব সেগমেন্টে মাঠপর্যায়ে জড়িত থেকে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। মনে পড়ে, ২০০৩ ঢাকায় একটি উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে প্রয়াত প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, প্রয়াত জ্বালানিমন্ত্রী একেএম মোশারফ হোসেন, প্রয়াত পরিবেশমন্ত্রী শাজাহান সিরাজ এবং তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বলেছিলাম গ্যাস রফতানি করবেন বা নিজেদের কাজে লাগাবেন সে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক, কিন্তু নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান কাজ ত্বরান্বিত করুন।

মায়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করুন। না হলে দেশে গ্যাস সংকট ক্রমান্বয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হবে, শিল্পখাত মুখ থুবড়ে পড়বে। ২০০৫ সালে ইয়াঙ্গুনে মায়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত তিন জাতি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণবিষয়ক নেগোসিয়েশনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে একটি এমওইউ অনুস্বাক্ষরে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলাম। এ পাইপলাইন নির্মিত হলে বাংলাদেশ ২০০৮ থেকে প্রতি ঘনফুট ২ ডলার মূল্যে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে পারতো। 

বিএনপি জামাত জোট সরকার প্রকল্পটি গ্রহণ করেনি। এরপর থেকে কোনো সরকার দেশের গ্যাস অনুসন্ধান উন্নয়নে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকেছে। ভোলায় ১৯৯৪ সালে গ্যাস আবিষ্কৃত হলেও আজ পর্যন্ত সেই গ্যাস গ্রিডে সঞ্চালনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ভারত মিয়ানমারের সঙ্গে সাগর সীমানা বিরোধ নিস্পষ্টির একযুগ পরেও সাগর থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের কোন তোড়জোড় দেখিনি। মূল্যবান কয়লাসম্পদ মাটির নিচে পড়ে আছে। পেট্রোবাংলাকে আমলাদের একছত্র নিয়ন্ত্রণে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে।

বিদ্যমান অবস্থায় ২০৩০ পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নয়নের আদৌ কোনো উপায় দেখি না। তবে হাত-পা গুটিয়ে না রেখে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে গ্যাস আহরণ আর উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, কয়লা উত্তোলনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান বাড়াতে হবে, দেশে বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের বিপ্লব সৃষ্টি করতে হবে।

শেয়ার করুন