ভোলা গ্যাসক্ষেত্র
১৯৯৫ থেকে ৩১ বছর পাইপলাইন সংযুক্তির বিষয়টি নানা অজুহাতে ঝুলে থাকায় ভোলায় আবিষ্কৃত অন্তত ২ টিসিএফ গ্যাস অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। দেশজুড়ে যখন তীব্র গ্যাস সংকট তখনও ভোলার গ্যাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে এমনকি বর্তমান সরকার। অশুভ সিন্ডিকেটগুলো সরকারকে সিএনজি, এলএনজি করে গ্যাস পরিবহনে সরকারকে কুপরামর্শ দিচ্ছে। অথচ ১৯৯৯ সালে মার্কিন কোম্পানি ইউনোকোল ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন দলের বিনিয়োগ করে ওয়েস্টার্ন রিজিওন ইন্টিগ্রেটেড প্রজেক্ট (ডজওচ) প্রস্তাব করে পেট্রোবাংলার এবং বিপিডিবির সঙ্গে প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ছিল গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়ন, ভোলার শাহবাজপুর থেকে খুলনার দিঘলিয়া পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ২৪ বাসের ক্রস কান্ট্রি গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন নির্মাণ, ভোলা, বরিশাল অ্যান্ড খুলনায় তিনটি গ্যাসভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। উল্লেখযোগ্য যে বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১.৫ টিসিএফ গ্যাসের ওপর ভিত্তি করে ১৯৮০ দশকের শুরুতে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ পূর্ব বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাস সঞ্চালন এবং বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল।
দুনিয়ার কোনো দেশ গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সঞ্চালনের সুযোগ থাকলে অন্য কোনো বিকল্প নিয়ে সময় নষ্ট করে না। হাজার কাজের কিলোমিটার পাইপলাইন সাগর তলায় নির্মিত হয়। ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রক্রিয়ায় তেঁতুলিয়া, মেঘনাসহ তিনটি ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ খরস্রোতা নদী এবং ১২টি নদী অতিক্রম প্রয়োজন হবে। ২০০০ সালে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরেজমিনে পাইপলাইনের পথ স্বত্ব পরিদর্শন করে রুট নির্ধারণ করা হয়েছিল। রাজনৈতিক ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে সেই সময় প্রকল্পটি শেষ ধাপে এসে পরিত্যক্ত হয়। এরপর অতিবাহিত হয়েছে ২৬ বছর। ভোলায় আরো দুটি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। অনেকের মতে ভোলায় বর্তমান প্রমাণিত গ্যাস রিজার্ভ কমবেশি ৫ টিসিএফ। ইতিমধ্যে খুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়েছে। সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানি গঠিত হয়েছে। কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। অথচ গ্যাস সরবরাহ না থাকায় খুলনা যশোর এলাকায় অনেক শিল্প বন্ধ হয়ে আছে। বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে শিল্প গড়ে উঠছে না।
বর্তমান সরকারও ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে। কারো ভুল পরামর্শে সরকার প্রধান জাতীয় সংসদে পাইপলাইন নির্মাণে ৭ বছর সময় লাগার কথা বলেছেন। দেশ বিদেশে ৫০ বছর ক্রস কান্ট্রি পাইপলাইন নির্মাণের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি ভোলা-বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ তিন বছরে সম্পাদন করা সম্ভব। তবে এই নির্মাণ প্রক্রিয়ায় উন্নত প্রযুক্তি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার প্রয়োজন বিধায় মাধ্যমে যোগ্য ইপিসি ঠিকাদার নিয়োগ করার প্রয়োজন হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে জিটিসিএলের অভিজ্ঞ প্রকৌশুলীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে যথা সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে। প্রয়োজনে একটি অভিজ্ঞ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তিকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
প্রতিবেদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রজ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদের সঙ্গে দুবার দেখা করে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযোজন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদ্বয়ের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছি। ২০২৬ শেষদিকে পাইপলাইন নির্মাণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ২০৩০ শেষ নাগাদ গ্যাস বরিশাল হয়ে খুলনায় জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে। ২০০-৩০০ মিলিয়ন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের সুযোগ সৃষ্টি হলে ভোলা বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণ বাংলায় ব্যাপক শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অত্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কাজে নতুন বিনিযোগে আগ্রহী হবে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো।