৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৭:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তারেক রহমানের ভারত সফরে প্রাণান্ত চেষ্টা মোদী সরকারের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর নিজেদের সামর্থ যাচাইয়ে অগ্নি পরীক্ষা বাংলাদেশের অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের প্রবণতা উদ্বেগজনক আবদুল এল সায়েদকে লক্ষ্য করে রিপাবলিকানদের আক্রমণাত্মক প্রচারণা আবারও জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ দিল্লিতে বসে ঢালাওভাবে অডিও বার্তার সুযোগ হারাচ্ছেন হাসিনা সাকিব প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- ‘আর কোনো সুযোগ নেই’ ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি এআইপ্যাক সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে মিশিগানে চমক দেখালেন ড. আবদুল এল-সায়েদ


দেশে পৌর বর্জ্য যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৮-২০২৬
দেশে পৌর বর্জ্য যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না পৌর বর্জ্য


বাংলাদেশের পৌর বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, সম্পদ পুনরুদ্ধার ও জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। বরং বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে, জলাভূমি ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। এর ফলে পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের জন্য সম্পদ, শক্তি ও অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করতে হবে। দেশব্যাপী সকল সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে নিয়ে একটি ন্যাশনাল সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন ও অপারেশনাল হ্যান্ডবুক তৈরি করতে হবে। 

এসব বক্তব্য উঠে আসে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিকমিয়া হলে “বাংলাদেশের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও টেকসই সমাধানের রূপরেখা শীর্ষক এক সেমিনারে। 

বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এর সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও বাপা’র জীবন সদস্য, ড. নাসির উদ্দীন খান, এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাপা’র সহ-সভাপতি, মহিদুল হক খান। সেমিনারে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ, বিশিষ্ট পানি বিজ্ঞানী, সহ-সভাপতি বাপা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: আরিফুর রহমান ও প্রকৌশলী শুভ কিবরিয়া। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র কোধাধ্যক্ষ আমিনূর রসুল, যুগ্ম সম্পাদক যথাক্রমে ড. হালিম দাদ খান, হুমায়ুন কবির সুমন এবং জাভেদ জাহান। নির্বাহী সদস্য এড. পারভীন আক্তার, মোনছেফা তৃপ্তি, ফাহমিদা নাজনিনসহ বাপা কেন্দ্রীয় ও জাতীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ। 

মূল প্রবন্ধে ড. নাসির উদ্দীন খান বলেন, “বর্জ্যকে আর বোঝা হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং বাংলাদেশের জন্য এটিকে সম্পদ, শক্তি ও অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করা উচিত। বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন সমন্বিত, কম খরচের ও স্থানীয়ভাবে পরিচালনাযোগ্য সমাধান। বর্তমানে বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মূলত ঈড়ষষবপঃ → ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ → উঁসঢ় নির্ভর। ফলে বর্জ্যরে পুনর্ব্যবহার, সম্পদ পুনরুদ্ধার ও জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। বরং বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে, জলাভূমি ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। এর ফলে পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থার কারণে মিথেন নির্গমন, নদী ও জলাশয় দূষণ, নদীর তলদেশ ভরাট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, ডেঙ্গু ও অন্যান্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে মূল্যবান নগরভূমির অপচয়, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ, জ্বালানি, কর্মসংস্থান ও সম্ভাব্য রাজস্ব হারানোর মতো অর্থনৈতিক ক্ষতিও হচ্ছে।

অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, বায়োগ্যাস মূলত উনবিংশ শতাব্দিতে চালু হয়েছে জার্মানীতে। কিন্তু সেই বায়োগ্যাস নিয়ে এখনও গবেষণা চলমান। ইউরোপের সলিড ওয়েস্ট আর বাংলাদেশের সলিড ওয়েস্টের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তিনি দেশের পরিবেশকে সুস্থ্যরাখতে পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন।

অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ বলেন, ঢাকা শহরের সব বাস স্ট্যান্ডগুলো বর্জ্য ডাম্পের উপরে নির্মিত। অনেকেই কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার আশায় থাকে। কিন্তু চায়ণা একায় ৬০% কার্বন ক্রেডিট নিয়ে গেছে। সেকেন্ডারী ডাম্পিংগুলোতে যেন বৃষ্টির পানি না পড়ে তা নিশ্চিত করতে পারলে সেই বর্জ্যগুলো থেকে ভালো জ্বালানী পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

নূর আজিজুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে একটু বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই বর্জ্যগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে আমরা ইতোমধ্যে দক্ষিণকোরিয়ান একটি কোম্পানির সাথে আলাপ আলোচনা করছি। বাস্তবায়নের জন্য আরো সময় ও গবেষণা ও সমীক্ষার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন দেশের বিশেষজ্ঞ ও টেকনোলজিগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি।

মো: আরিফুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরের ড্রেনেজ সিসটেম ও ইন্টার লিংকগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্কার রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সলিড ওয়েস্টের কারনে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ওয়েস্ট টু এনার্জি প্রজেক্ট চালুর প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছি। এটা পুরো পুরো পুরি চালু হলে প্রতিদিন ৩ হাজার টন ময়লা তারা নিবে। তারা আমাতের কাছে ৩০ একর জমি চেয়েছে। সেখান থেকে ৪২-৪৫ মেগা ওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

প্রকৌশলী শুভ কিবরিয়া যে কোন নতুন প্রডাক্ট বাজারে ছাড়ার পূর্বেই চিন্তা করা উচিত এটা থেকে ভোক্তা কি কি সুবিধা পাবে। দেশের সাধারণ জনগণের উপকারে আসে এমন প্রকল্পই বাস্তবায়নের আহ্বান তিনি।

মহিদুল হক খান বলেন, দেশের বর্জ্যরে ধরণ ও আকার দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। দেশের সামগ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রোডম্যাপ তৈরির দাবি জানান তিনি।

আলমগীর কবির বলেন, জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না; বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উন্মুক্ত স্থান-জলাভূমি ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। এর ফলে পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে।

শেয়ার করুন