১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:০০:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


চাটুকারিতা নিয়ে দুটি কথা!
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৯-২০২৬
চাটুকারিতা নিয়ে দুটি কথা!


আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসন আমলে যেমন দেখেছি বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা বন্দনা, ঠিক তেমনি এখন দেখছি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং দীর্ঘ তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্লজ্জ চাটুকারিতা। দলের ভক্ত-সমর্থকরা দলের নেতা-নেত্রীদের স্তুতি গাইবেন সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু জাতির বিবেক তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা পদলেহন তথা চাটুকারিত্বের প্রতিযোগিতায় নামবেন? এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়াকে প্রশংসায় ভাসানো হচ্ছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও তারেক রহমানকে কীভাবে নিন্দিত করা হতো। সময় কীভাবে সবকিছু পাল্টে দেয়? 

নেতা-নেত্রীদের বন্দনা করতেই পারে ভক্তকুল। কিন্তু অন্য দলের শীর্ষ স্থানীয় জাতীয় নেতাদের কেন অবজ্ঞা অস্বীকার করা হবে? বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসে যেমন বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য ঠিক তেমনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ঘোষক, সেক্টর কমান্ডার, বহু দলীয় গণতন্ত্রের অন্যতম রূপকার প্রয়াত রূপকার জিয়াউর রহমানের অবদান ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। ইতিহাস উভয়কে তাদের উজ্জ্বল অবস্থায় রেখেই স্মরণ করবে। একজনকে সম্মানিত করার জন্য অন্যজনকে খাটো করার প্রয়াস নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা এবং শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নেতা নেত্রীদের সকল বিতর্কের উর্ধে রাখলে জাতি প্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে। জাতির দুর্ভাগ্য দুই জন মহান নেতা দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে বিপদগামী সেনা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। প্রতিক্রিয়াশীল চক্র নানা মনগড়া গল্প সাজিয়ে মহান নেতাদের ভাবমূর্তি কালিমা লিপ্ত করার অশুভ কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। আমি এ প্রবণতার অবসান চাই। 

দুজন সরকারপ্রধানের নির্মম হত্যাকাণ্ড না হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আর জিয়াউর রহমান জায়া বেগম খালেদা জিয়ার হয়ত উন্মেষ ঘটতো না। হয়তো একজন এতিম আর একজন বিধবাকে প্রতিকূল অবস্থার সংগে সংগ্রাম করে নিজ নিজ দলকে প্রতিষ্ঠিত করতে হতো না। আমি দুই নেত্রীর রাষ্ট্রীয় শাসনকালে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালন করেছি। সুযোগ হয়েছে উভয়কে কাছে থেকে দেখার। মানুষ মাত্রই দোষ গুণের সমন্বয়ে গঠিত। আমি মনে করি দুই নেত্রী তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউ সমালোচনার উর্ধে নয় তেমনি দুইজনের অনেক সাফল্য অস্বীকার করা যাবে ন। একই স্বাধীন দেশের অগ্রযাত্রায় সকল জাতীয় নেতার সঠিক মূল্যায়ন হবে আশা রাখি। কিন্তু সুধী সমাজ যখন দৃষ্টিকটু চাটুকারিতা করে তখন লজ্জা হয়, কষ্ট লাগে।

ইতিহাস আপন গতিতে এগিয়ে যাবে। ইতিহাস যাদের বরণ করে মানুষ কখনো কাউকে বঞ্চিত রাখতে পারবে না। সাময়িকভাবে কাউকে অবমূল্যায়ন করা হলেও চিরদিনের জন্য কাউকে ভুলে থাকা যাবে না।

শেয়ার করুন