১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ০৩:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্ন্যাপ সুবিধাভোগীদের ভাতা চুরি রোধে বড় পদক্ষেপ ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৪.৭ শতাংশ যৌন নিপীড়নের মামলায় ক্যারলকে ৫.৬ মিলিয়ন দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঢালিউডের দু’জন চিত্রনায়িকার বক্তব্যে নিয়ে অনেক প্রশ্ন তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ‘জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন’ রাজধানীর বুক থেকে নদী গায়েবের চেষ্টা রুখে দিল পরিবেশবাদিরা বাংলাদেশি অভিবাসীরা কি যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা? নেতৃবৃন্দ নীরব কেন ৩১ অঙ্গরাজ্যে মারাত্মক ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী পরজীবীর প্রাদুর্ভাব ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৩ জন মানুষের মৃত্যু বারবার দেশে ফেরার ঘোষণায় হালকা হচ্ছেন হাসিনা


বিএনপির প্রয়োজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৭-২০২৬
বিএনপির প্রয়োজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি


বিএনপির এ টার্মে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসা বিএনপি জোট সরকার প্রথম চার মাসে বৈরী পরিস্থিতি মোটামুটি সামাল দিয়ে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ পর্বে উপনীত হয়েছে। দেশের অর্থনীতি এখনো নাজুক, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিপর্যস্ত. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি, মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি দুশ্চিন্তার কারণ। 

জনতার শক্তির ওপর ভরসা রেখে অশুভ শক্তির কাছে দায়বদ্ধতা মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ প্রথম দর্শনে দেশ পরিচালনার জন্য বিএনপিকে এখন রাজনীতিকে ভারসাম্য সৃষ্টি করতে হবে। মনে রাখতে হবে ১৯৭১ স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত দলটিকে দেশবিরোধী চক্রের কাছে মাথানত করে থাকার কোনো কারণ নেই। সব কুচক্রী মহলের ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে বিএনপির উচিত হবে রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেওয়া। স্বাধীন বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন রাখতে হবে। দেশের রাজনীতিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত না হলে কোনোভাবেই স্বস্তিতে দেশ পরিচালনা করতে পারবে না বিএনপি সরকার। আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরে এলেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংসদে আসা দেশবিরোধী চক্রের আস্ফালন স্তিমিত হয়ে আসবে।

বাংলাদেশ কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পরাশক্তিগুলোর আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু। ৩ দশমিক ৬ দিক আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত পরিবেষ্টিত বাংলাদেশ ভারত বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে থাকতে পারবে না। বাংলাদেশকে অবশ্যই অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। জন্যই প্রয়োজন দূরদৃষ্টির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত বিপুল ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে অবশ্যই আমলাতন্ত্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার করতে হবে। সঠিক পেশাদারদের সঠিক স্থানে পদায়ন করে স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বাজেটে সঠিকভাবেই কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি চ্যালেঞ্জ অনুধাবন করা হলেও এ খাতের অপশাসন আর দুর্বলতা দূর করার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে এ খাতে কাক্সিক্ষত দেশি-বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনা দিতে হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পেট্রোবাংলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অতি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার করে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের পদায়ন করে প্রভাবমুক্ত কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অশুভ সিন্ডিকেটগুলোর প্রভাব মুক্ত না হলে সরকারের স্বনির্ভর জ্বালানি দর্শন, স্মার্ট এনার্জি ট্রানজিশন বাস্তবায়িত হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ কোন কিছুতেই প্রবৃদ্ধি আশা করা যাবে না। শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়বে। 

সরকারের হানিমুন সময় শেষ হয়েছে। অচিরেই সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিবিড় বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়ন শুরু হবে। অধিকাংশ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এখনো নিজ নিজ মন্ত্রণালয়গুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো পুনর্বিন্যাস করলে ভালো হবে। সময় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিতর্ক, বিবাদ না করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অন্তত দুই বছর সবক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতা আর পরিমিতিবোধ অবলম্বন করে কঠিন সময় পার করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ক্ষয়িষ্ণু পরাশক্তির সঙ্গে অস্বচ্ছ পন্থায় স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি পুনরায় মূল্যায়ন করে সংশোধন বা বাতিল করে উন্মুক্ত পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে দেশ শাসন করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো নেই। বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে অনেক কিছুই চাপা পড়ে আছে। ভয়াবহ বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দিতে সরকারকে অবশ্যই জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাই দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক বিভাজন দূর করতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে হবে। আর বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুচিন্তিতভাবে ভারসাম্যের সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সহজ হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন