০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৩:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


ট্রাম্প আমলে বড় পদক্ষেপ
৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলে মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলে মামলা ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস


গুরুতর অপরাধ, অভিবাসন জালিয়াতি এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ জন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ইউএসএ বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলা ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে ১৯টি ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এটি একক নাগরিকত্ব বাতিলের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।

বিচার বিভাগ গত ৫ অক্টোবর মামলাগুলোর ঘোষণা দেয়। অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লশে বলেন, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিও রয়েছেন। প্রশাসন বলছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় কেউ যদি গুরুতর অপরাধ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তার নাগরিকত্ব বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ শুমেট বলেন, এসব মামলায় প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন নাগরিকত্ব ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মামলা চালিয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে দায়ের করা মামলাগুলোতে কলম্বিয়া, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, কিউবা, পাকিস্তান, ভারত, ফিলিপাইন, সিয়েরা লিওন, ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান, মিশর, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, নেপাল, হাইতি, ঘানা, ইরান, চীন, কম্বোডিয়া, কানাডা ও পেরুসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

মামলায় ইউসমারি শার্লি দুরান মেহিয়ার বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতি, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের আইয়ান লামসডেনের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তিনি এ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মেক্সিকোর গুমে রবার্তো গারজার বিরুদ্ধে অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় চুরি করে তা ব্যবহারের পাশাপাশি মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ ও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। রামিরো এসকট এসপারজার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর যৌন নির্যাতনের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিউবার হাভিয়ের মারেয়েরো-পান্দোর বিরুদ্ধে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক ব্যক্তির ওপর গুরুতর যৌন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

পাকিস্তানের আহমাদ বাহার খাত্তাকের বিরুদ্ধে একাধিক পরিচয় ব্যবহার, অভিবাসন জালিয়াতি এবং পূর্বের বহিষ্কারাদেশ গোপনের অভিযোগ রয়েছে। আহমেদ খানের বিরুদ্ধে বিবাহ-সংক্রান্ত প্রতারণা ও দ্বিবিবাহের অভিযোগ রয়েছে। ভারতের বলবিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মেক্সিকোর হোসে রামিরো মন্তিয়েল কারাসকোর বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কের যৌন নির্যাতন ও পারিবারিক যৌন নির্যাতনের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। ফিলিপাইনের আরনেল দাকুমোস তাবাফুন্দার বিরুদ্ধে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের সৈয়দ মাসুদ উল হকের বিরুদ্ধে একাধিক পরিচয়, আশ্রয়-সংক্রান্ত প্রতারণা এবং বহিষ্কার এড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

ডগলাস চুকউকা এজের বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তির জন্মসনদ ও পরিচয় চুরির অভিযোগ রয়েছে। মেক্সিকোর গিলবার্তো বারাজার বিরুদ্ধে ভুয়া জন্মসনদ ও পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সিয়েরা লিওনের ইফেওলু স্যামুয়েল আকিংবেমিসিলুর বিরুদ্ধে একাধিক পরিচয় ও পূর্বের বহিষ্কারের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মেক্সিকোর নোরমা পাত্রিসিয়া এসপারজার বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত স্বেচ্ছায় হত্যার ঘটনা গোপনের অভিযোগ রয়েছে। ভেনেজুয়েলার জয়স মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয়ে কিউবান নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নিউইয়র্কের ভ্যালি স্ট্রিমের বাসিন্দা আফগানিস্তানের ভারিস জান সাফির বিরুদ্ধে ভুয়া পাকিস্তানি পাসপোর্ট, একাধিক পরিচয় এবং অভিবাসন আবেদনে তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। মিশরের ওয়ালিদ আবদেলনাবি হাসান ওসমান এবং নাদিয়া হাসান মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ভুয়া এইচ-১বি চাকরি ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্য দেখিয়ে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নাইজেরিয়ার বিয়াত্রিস চিওমা নওহা আশামোলে এবং ক্যামেরুনের আনিতা মোয়ানজেহ আতেমের বিরুদ্ধে অতীতের পরিচয়, গ্রেপ্তার ও অপরাধের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। নেপালের দিব্যা ভট্টরাইয়ের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ইতিহাস গোপন এবং অভিবাসন নথি জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পাকিস্তানের সৈয়দ ফুরকান আলীর বিরুদ্ধে ভুয়া বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও সাবেক স্ত্রীর মৃত্যুর মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মেক্সিকোর রাউল সিসনেরোস এবং পেরুর হুয়ান হোসে এগুসকিসা-ভাসকেসের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন অপরাধের তথ্য নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় গোপনের অভিযোগ রয়েছে।

হাইতির আরনুস মেরলিয়েনের বিরুদ্ধে কর জালিয়াতি ও সরকারের কাছ থেকে ভুয়া কর ফেরত নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। ঘানার ফ্রান্সিস দারকো আসামোয়ার বিরুদ্ধে বিবাহ-সংক্রান্ত তদন্ত থেকে তথ্য আড়াল করতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইরানের রালফ নবাভির বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৫ লাখ ডলারের বেশি আয় গোপন এবং প্রায় ৩৫ লাখ ডলার কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে।

মেক্সিকোর গ্রাসিয়া দে রদ্রিগেজের বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার, পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। চীনের জিনচাও ওয়েইয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর চীনের কাছে সামরিক গোপন তথ্য বিক্রির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০২২ সালে দ্রুত প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়ার পর গুপ্তচরবৃত্তি-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০০ মাসের কারাদণ্ড পান।

মেক্সিকোর হোসে ভিয়ারেয়াল অর্তিজের বিরুদ্ধে মিথ্যা পারিবারিক পরিচয় ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কম্বোডিয়ার সোরসামখান সোমের বিরুদ্ধে ভুয়া বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিউবার লাজারো এদুয়ার্দো ত্রুজিলো ভিতোনের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

ঘানার ডেক্সটার অ্যানসনের বিরুদ্ধে পূর্বের পরিচয় ও বহিষ্কারাদেশ গোপনের অভিযোগ রয়েছে। কানাডার অ্যান্ড্রু কোল্ডিকাটের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে প্রতারণা ও মিথ্যা আর্থিক নথি দাখিলের অভিযোগ রয়েছে।

চীনের পিং লির বিরুদ্ধে ২০১২ সাল থেকে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কাজ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনা ভিন্নমতাবলম্বী, গণতন্ত্রপন্থী কর্মী, ফালুন গং অনুসারী ও বিভিন্ন সংগঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। মেক্সিকোর হারনান গার্সিয়া তোলেদোর বিরুদ্ধে অস্ত্র বহন ও আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।

নাইজেরিয়ার সেমিউ ওলাইয়ে ইজেলুর বিরুদ্ধে একাধিক পরিচয় ও পূর্বের বহিষ্কারাদেশ গোপনের অভিযোগ রয়েছে। ফিলিপাইনের রামন নাভারোর বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ভুয়া বিবাহ করার অভিযোগ রয়েছে। আফগানিস্তানের আসাদ জন রামিনের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ বছর ধরে অন্য ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার এবং অভিবাসন নথিতে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনি উপায়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, অথবা নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেন, তাহলে তার নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য মামলা করা যেতে পারে।

বিচার বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ৪০টি মামলা ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে দায়ের করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এতো অল্প সময়ে এতো বেশি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়েরের ঘটনা নজিরবিহীন মাত্রার বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। তবে অভিযোগপত্রে উত্থাপিত দাবিগুলো কেবল অভিযোগমাত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী সাব্যস্ত করার বিষয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

শেয়ার করুন