০৮ জুন ২০২৬, সোমবার, ০৩:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাত্র এক ডোজেই কমতে পারে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত খারাপ কোলেস্টেরল নিউ ইয়র্কের ফোনমুক্ত স্কুলে কমেছে বুলিং আরবি ভাষা ও শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারো বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ভিসা : দুইবারের বেশি দূতাবাসে যেতে হবে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ : তারেক রহমানের ‘না’ সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের


কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ ইমিগ্রেশনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও দালালি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-১২-২০২৫
কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ ইমিগ্রেশনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও দালালি ইমিগ্রেশন


কমিউনিটিতে যেন দালালির মহোৎসব চলছে। সর্বত্রই দালালি। দালালি যেন কারো কারো পেশায় পরিণত হয়েছে। দালালির কারণে কারো পৌষ মাস আবারও কারো কারো সর্বনাশ। আমেরিকায় ইমিগ্রেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিষয়। এই ইমিগ্রেশন নিয়েও দালালি চলছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে অনেকেই আমেরিকায় ইমিগ্র্যান্ট হওয়ার জন্য আসেন। সাধারণ বাংলাদেশিরা দালাল ধরে বিভিন্ন দেশ ঘুরে, জেল জুলুম ভোগ করে আমেরিকায় আসেন। তাদের আমেরিকায় আসতে বাবা-দাদার সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়। আবার পথও দুর্গম। জানা গেছে, বাংলাদেশ রাজধানী ঢাকাসহ জেলা সদরগুলো দালাল রয়েছে। তারাই মূলত মোটা অর্থের বিনিময়ে তাদের আমেরিকায় পাঠিয়ে থাকেন। জানা গেছে, দালালরা জনপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা বিনিময়ে আমেরিকায় পাঠিয়ে থাকেন। আবার অন্যান্য দেশেও তাদের দালাল রয়েছে। বিভিন্ন দেশ অতিক্রম তরার সময় অনেককে জেলে যেতে হয়। সব দালালরাই অর্থে বিনিময়ে তাদের ফিরিয়ে আনেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাকাতের খপ্পড়েও পড়েন। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে জীবনরক্ষা করতে হয়। পরিবার পড়েন মহাবিপদে।

এসব অবৈধ ইমিগ্র্যান্টরা আমেরিকায় প্রবেশ করেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে আবার অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা আমেরিকায় পাড়ি দেন। আমেরিকায় এসেই তারা প্রথমে তাদের প্রফেশনের লোকজনের শরণাপন্ন হন। এসব লোকজনই কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালালে পরিণত হন। জানা গেছে, বাংলাদেশের নামকরা অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী আমেরিকায় এসে ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন করেন। বহু বাংলাদেশি অভিনেতা-অভিনেত্রী এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করে আমেরিকায় বৈধ হয়েছেন। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী আমেরিকায় এসে দালালদের মাধ্যমে আবেদন করেন। এসব দালালরা আবেদনকারীর সঙ্গে ১০ থেকে ১২ হাজার ডলারে কন্ট্রাক্ট করেন। সেই দালালই আবার আইনজীবীর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করেন। আইনজীবীদের সঙ্গে প্রতি কেসের জন্য তারা ৫ থেকে ৭ হাজার ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কেউ কেউ লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে আইনজীবীকে বলেই ফেলেন এ কেস আমি ১০ হাজার ডলারে নিয়েছি। আপনি আমাকে ৫ হাজার দিলে আমি আপনাকে কেসটি দেবো। এই প্রপোজাল কোনো কোনো আইনজীবী মেনে নেন, আবার কোনো কোনো আইনজীবী মেনে নেন না। এই দালালগুলো নিজেদের বেশি লাভ খুঁজতে গিয়ে অনেক আবেদনকারীর সর্বনাশ করছেন। বন্ধু পরিচয় দিয়ে শুধু অর্থের কারণে বন্ধুত্ব নষ্ট করছেন, হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। বেশি অর্থ বানানোর জন্য ফিলিপাইনি, নেপালিসহ অন্যান্য কমিউনিটির আইনজীবীদের কেস দিয়ে দেন। এসব আইনজীবী বাংলাদেশি অভিনেতা- অভিনেত্রী বা শিল্পীদের সম্পর্কে জানেন না। যে কারণে অনেকেরই আবেদন বাতিল হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ এটাকে চাকরি হিসেবে নিয়েছেন, তারাও কোনো না কোনো আইনজীবী অফিসে কাজ করেন। নিজেদের বাংলাদেশি পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকায় মহাপণ্ডিত সেজে বসেছেন। সে পণ্ডিতের পাণ্ডিত্যে অনেকের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছেন। কেস ডিনাই হচ্ছে। অতিসম্প্রতি বেশ কয়েকজন নামকরা নায়িকার আবেদন ডিনাই হচ্ছে।

এই অবস্থায় অনেক আইনজীবী মনে করেন ইমিগ্রেশন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া, রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা, ইবি-১ এর আবেদন করতে হলে অবশ্যই প্রফেশনাল আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সময়ে এমনিতেই ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি নাজুক। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই প্রফেশনাল আইনজীবী নিয়োগ করা প্রয়োজন। শিল্পী, সাংবাদিক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পীদের আবেদনের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত। আবার ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা আবেদন করবেন তাদেরকেও বিষয়টি মাথায় রেখে সিদ্ধান্তগ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ একবার আবেদন ডিনাই হলে পরবর্তী সময়ে তা ইয়েস করা কঠিন ব্যাপার।

শেয়ার করুন