মিসিং চাইল্ড রেসকিউ অপারেশনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও পেশাজীবীরা
লং আইল্যান্ড ও নিউইয়র্ক সিটিতে নিখোঁজ ৩৪ শিশু ও কিশোরকে তিন দিনের বিশেষ উদ্ধার অভিযানে খুঁজে বের করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল গত ২ অক্টোবর এ তথ্য ঘোষণা করেন। গার্ডেন সিটিতে স্থাপিত নিউ ইয়র্ক স্টেটের একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার থেকে পরিচালিত এই অভিযানে ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু ও কিশোরদের সন্ধান পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে মানব পাচারের শিকার শিশুও ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
লং আইল্যান্ড মিসিং চাইল্ড রেসকিউ অপারেশন নামে পরিচালিত অভিযানে ৪০টির কাছাকাছি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ১০০ জনের বেশি কর্মকর্তা ও পেশাজীবী অংশ নেন। নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেসের মিসিং পারসন্স ক্লিয়ারিংহাউস, অফিস অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস এবং ন্যাশনাল চাইল্ড প্রোটেকশন টাস্ক ফোর্স যৌথভাবে অভিযানটির নেতৃত্ব দেয়। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশও এতে সহায়তা করে।
অভিযানের সময় তদন্তকারীরা নিখোঁজ শিশুদের মামলার নথি পুনরায় পর্যালোচনা করেন, নতুন সূত্র অনুসরণ করেন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করেন এবং প্রযুক্তির সহায়তায় শিশুদের অবস্থান শনাক্ত করেন। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে ১৮ জন নাসাউ কাউন্টি, ১২ জন সাফোক কাউন্টি এবং চারজন কুইন্সের বলে জানা যায়। শিশুদের উদ্ধারের পরই অভিযান শেষ করা হয়নি। সমাজকর্মী, শিশু সুরক্ষা কর্মী ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে প্রতিটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার কারণ এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নির্ধারণ করেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, পরিবহন, পোশাক ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল পরীক্ষা ও ফরেনসিক সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে।
গভর্নর হোচুল বলেন, প্রতিটি নিখোঁজ শিশুর বিষয়েই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রতিটি পরিবারকে জবাব দেওয়া জরুরি। তার ভাষায়, কোনো শিশুকে খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যত্ন, সহায়তা ও স্থিতিশীলতার ব্যবস্থাও করতে হবে।
ন্যাশনাল চাইল্ড প্রোটেকশন টাস্ক ফোর্সের প্রধান নির্বাহী কেভিন ব্রানজেট্টি বলেন, বাস্তবে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের ঘটনা অনেক সময় সিনেমার মতো নাটকীয় হয় না। তার মতে, কোনো শিশুকে খুঁজে পাওয়া কেবল প্রথম ধাপ। এরপর কেন সে নিখোঁজ হয়েছিল, নিখোঁজ থাকার সময়ে কী ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যাতে আবার এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়, তা বোঝা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া আরো গুরুত্বপূর্ণ।
অফিস অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেসের কমিশনার ডেমিয়া হ্যারিস ম্যাডেন বলেন, মানব পাচার, গৃহহীনতা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয়গুলোও এই অভিযানে গুরুত্ব পেয়েছে। শিশুদের পুনরায় নিখোঁজ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবার সঙ্গে তাদের যুক্ত করার লক্ষ্যও ছিল। অভিযানে এফবিআই, নাসাউ ও সাফোক কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয়, ব্রুকলিন ও কুইন্সের জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয়, পোর্ট অথরিটি পুলিশ, নাসাউ ও সাফোক কাউন্টির প্রবেশন বিভাগ, ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন, ইএসি নেটওয়ার্ক এবং দুই কাউন্টির চাইল্ড অ্যাডভোকেসি সেন্টারসহ বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেয়।
এটি নিউইয়র্কে এ ধরনের চতুর্থ বিশেষ অভিযান। এর আগে এরি কাউন্টি, ক্যাপিটাল রিজিয়ন এবং ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে পরিচালিত অভিযানে মোট ১৬৮ নিখোঁজ শিশু ও কিশোরকে খুঁজে পাওয়া হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ১০ হাজার ৬২৯ শিশুকে নিখোঁজ হিসেবে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছিল। তাদের ৯৪ শতাংশকে ‘রানঅ্যাওয়ে’ বা নিজে থেকে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। গত বছরের শেষেও অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ৭৯টি নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত মামলা খোলা ছিল। লং আইল্যান্ডে আরো ৩১টি নিখোঁজ শিশুর মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।