৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ৬:৪০:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


নতুন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে জ্বালানি
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
নতুন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে জ্বালানি প্রতীকী ছবি


আর মাত্র তিন সপ্তাহ পরেই প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসীন হবে। দেশ জুড়ে এখন তীব্র জ্বালানি সংকট। বিবিধ কারণে গ্যাস গ্রিডে দীর্ঘদিন ধরে চলছে গ্যাস সংকট, অতিসম্প্রতি সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সৃষ্টি হয়েছে এলপিজি সঙ্কট। এমনিতেই গ্যাস উৎপাদন এবং সরবরাহ নিয়ে সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তার ওপরে গত কিছুদিন তিতাস গ্যাসের গ্যাস বিতরণ লাইনে কিছু দুঘর্টনা ঘটায় বিস্তীর্ণ বিতরণ এলাকা গ্যাস শূন্য হয়ে পড়েছিল। একই সময়ে সিন্ডিকেট সরবরাহ চেনে কৃত্রিম সংকট এলপিজি মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি করে। অন্তর্বর্তী সরকার এলপিজি বিতরণ ব্যবস্থা তদারকিতে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। ঘরে ঘরে রান্নার কাজে হাহাকার সৃষ্টি হয়। পেট্রোল পাম্পগুলোতে অটোগ্যাস সংকটে যাতায়াত ব্যবস্থায় অরাজকতা সৃষ্টি হয়। 

তবে শীতের সময়ে চাহিদা কম থাকায় কোনোভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ চাহিদা। মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে পবিত্র রমজান। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে নিবিড় সেচ কাজ। বিদ্যুতের চাহিদা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। দুঃখজনক হলেও সত্য নতুন সরকারের হানিমুন সময়ে তীব্র জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিয়ে জনজীবনে স্বস্তি বজায় রাখা হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। এরই মাঝে শোনা যাচ্ছে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে পেট্রোবাংলা।

পরিস্থিতির বিবেচনায় নতুন সরকারকে শুরুতেই জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরকে অগ্রাধিকার দিয়ে কিছু অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চিরুনি অভিযান চালিয়ে অবৈধ জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার অন্তত নিবিড় অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার কমিয়ে এনেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে, রমজানের সময়ে শহরতলিতে সাহরি এবং ইফতারের সময় যেমন রান্নার গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি নিশ্চিত করতে হবে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এই সময় পরিকল্পনা করে তেলভিত্তিক পিকিং প্লান্টগুলো চালু রাখতে হবে, সেচকাজ ভিন্ন সময় করতে হবে এবং শিল্প কারখানাগুলোর শিফট সমন্বয় করতে হবে। 

নতুন সরকারকে স্মরণে রাখতে হবে ২০২৬-২০২৭ জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরের বিদ্যমান সংকট তীব্রতর হবে। এই সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিবিড় তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জ্বালানি অনুসন্ধান এবং আহরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। পেট্রোবাংলা/বাপেক্স কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো নিবিড় এবং সমন্বিত করতে হবে।

গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য অন্তত ১১৫০-১২০০ এমএমসিএফডি গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সংস্থান করতে হবে। অন্যদিকে আমদানিকৃত কয়লার মাধ্যমে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২৬-এর মধ্যে উৎপাদনে আনতে হবে। এতো কিছুর পরেও পিক চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য তেলভিত্তিক অন্তত ২৫০০-৩০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন প্রয়োজন পড়বে। দেখতে হবে যেন জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি না হয়। ব্যক্তিখাতের প্লান্টগুলো যেন জ্বালানি আমদানির জন্য এলসি খুলতে সমস্যায় না পরে।

মনে রাখতে হবে শিল্পখাতে জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনীতির সংকট কাটবে না, দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগে মন্দা অব্যাহত থাকবে। ফলশ্রুতিতে একদিকে যেমন রফতানির প্রবৃদ্ধি হবে না, অন্যদিকে চাকরিচ্যুতি এবং বেকার সমস্যা তীব্রতর হবে। 

সরকার জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরের ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেক্টরকে কৌশলগত সেক্টর বিবেচনা করে পেশাদারদের মেধাভিত্তিক পদায়ন করে জবাবদিহিতা সৃষ্টি করতে হবে। 

নতুন সরকারকে জ্বালানি ব্যাবহারে কিছু অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিকল্প থাকায় গৃহস্থালি কাজ এবং সিএনজি খাতে পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। এভাবে সাশ্রয়কৃত গ্যাস শিল্পকারখানাগুলোতে সরবরাহ করতে হবে।

মধ্যমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে জলস্থলে নিবিড় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ব্যাপেক্সকে যথাযথ প্রণোদনার পাশাপাশি পিএসসি বিডিং রাউন্ড ঘোষণা করে স্বচ্ছভাবে যোগ্য বিদেশি কোম্পানি নিয়োগ দিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান বৃদ্ধির জন্য চ্যালেঞ্জগুলো পেশাদারি ভিত্তিতে সমাধান করে ২০৩০ নাগাদ ১৫-২০ শতাংশ জোগানের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশের কিন্তু এমিশন কমানোর কোনো বৈশ্বিক দায়বদ্ধতা নেই। এমতাবস্থায় বাংলাদেশকে আবিষ্কৃত কয়লাসম্পদ আহরণ এবং ব্যবহারের জন্য আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ করতেই হবে।

মনে রাখতে হবে মধ্য মেয়াদে আমদানিকৃত জ্বালানি, বিদ্যুৎ নির্ভরশীল হয়ে বাংলাদেশ কোনোভাবেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে না। আশা করি নতুন সরকার জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পেশাদারি দক্ষতায় সেক্টরকে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ প্রয়াস নেবে।

শেয়ার করুন