০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৩:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাসসের নবনিযুক্ত এমডি ও প্রধান সম্পাদককে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবর্ধনা বাসস'র এমডি ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পেলেন কাদের গনি চৌধুরী কপ সম্মেলনে যোগ দিতে নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৯২, নিখোঁজ প্রায় ১,৪০০ আফগান-আমেরিকান হিসেবে প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসে আইশা ওয়াহাব আমেরিকানদের গৃহস্থালি ঋণ ১৮.৮ ট্রিলিয়ন, ক্রেডিট কার্ড ১.২৬ ট্রিলিয়ন ওহাইওতে মসজিদে সাত বছরে তৃতীয় হামলা জনপ্রিয় হচ্ছে তিন বছরের কলেজ ডিগ্রি, তবে আছে বিতর্ক মুসলিম নারীকর্মীর বৈষম্যের অভিযোগে ওক পার্ক সিটির বিরুদ্ধে মামলা সশস্ত্র ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি মহসিন রানা নিহত


অদ্ভুত আইন
কাজী জহিরুল ইসলাম
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৯-২০২২
অদ্ভুত আইন


‘ফ্রি কান্ট্রি আমেরিকা’ নামে একটি সিরিজ গদ্য লিখেছি ২০১২/১৩ সালের দিকে। সেখানে আমেরিকার ফানি (কিছুটা আজগুবিও) বিষয়গুলো তুলে ধরতাম। আজ আমেরিকার তেমন একটি আজগুবি আইনের কথা লিখছি। 

আমার শ্যালিকা তামান্না দিপু ও তার পরিবার টরন্টো থেকে বেড়াতে এসেছে ২৯ ডিসেম্বর। ইচ্ছে আমরা দুই পরিবার একসাথে হয়ে একুশকে বিদায় জানিয়ে গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকার ২০২২ সালকে বরণ করবো। ওদের ছোট মেয়ে আইদা জিওপার্ডি নামক একটি শিক্ষামূলক গেম খেলার জন্য খুবই উৎসুক। মূলত ওর জন্যই আমরা এই কয়দিনে বেশ অনেকবার এই গেমটি খেলি। খুব মজার খেলা। খেলতে খেলতে অনেক কিছু শেখা যায়। 

খেলার এক পর্যায়ে একটি প্রশ্ন এলো, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমেরিকানরা একটি কাজ দিনে ২২ বার করে। এখন প্যানডামিকে তা আরো বেশি করে, কাজটা কি? নাহ, কিছুতেই বুঝতে পারছি না। তবে অনুমান করে বলেছিলাম, কিচেনে যায় বা খায় এরকম কিছু হবে। পরে জানলাম সঠিক উত্তর হলো, ফ্রিজ খোলে। একজন আমেরিকান প্রতিদিন অন্তত ২২ বার ফ্রিজ খোলে, ইন্টারেস্টিং তথ্য। কিছুক্ষণ পরে আরেকটি মজার প্রশ্ন এলো। ফ্লোরিডার স্টেইট ল’ অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার পরে পাবলিক প্লেসে কোন কাজ করা নিষিদ্ধ?  আমরা ভাবছিলাম মদ্যপান হতে পারে, কিন্তু তা কি করে হয়? ছুটির দিন সন্ধ্যা ৬টার পরেই তো বারগুলো জমজমাট হয়ে ওঠে। প্রশ্নটা ছিল আইদার জন্য এবং ওর অনুমানভিত্তিক জবাব কিন্তু সঠিক হয়েছে। সঠিক উত্তর হলো, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে কেউ সন্ধ্যা ৬টার পরে পাদ (বায়ুত্যাগ) দিতে পারবে না। 

উত্তরটি স্ক্রিনে দেখার পর আমরা হাসতে হাসতে মরে যাই। আমাদের পুত্র অগ্নি এবং পুত্রবধূ ব্রিজিত থাকে ফ্লোরিডায়। ভাবছিলাম ওদের স্টেইটের এই গোপন (মানে তেমন আলোচিত নয়) আইনটি অগ্নিকে জানিয়ে দিই। অগ্নি শুনে হাসতে হাসতে বলে, দিলে কি জেলে নেবে? আইন যদি কোনো কিছু নিষিদ্ধ করে, তা করলে তো জেলে যেতেই হবে। কিন্তু কথা হলো ভিড়ের মধ্যে কাজটি কে করলো তা খুঁজে বের করবে কীভাবে? ফ্লোরিডায় আরো কিছু অদ্ভুত আইন আছে। মায়ামি বিচে কমলা বিক্রি করা যাবে না। সুইমিং স্যুট পরে কোনো দলিলে স্বাক্ষর দেয়া যাবে না। রাস্তা দিয়ে ব্যারেল (ড্রাম) গড়িয়ে গড়িয়ে নেয়া যাবে না। পোষাপ্রাণি কোথাও পার্ক করতে চাইলে টাকা দিতে হবে। সেলুনে বসে চুল কাটতে কাটতে ঘুমিয়ে পড়া যাবে না।

সবচেয়ে কষ্টের আইন হলো কেউ নিজের সন্তান বিক্রি করতে পারবে না। কষ্টের এজন্য বলছি, এই বিষয়েও স্টেটকে একটি আইন করতে হয়েছে। 

লেখক: কবি, কথাশিল্পী

শেয়ার করুন