১৪ জুলাই ২০১২, রবিবার, ১১:১৭:৫৮ পূর্বাহ্ন


কানাডায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কবি আসাদ চৌধুরী
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-১০-২০২৩
কানাডায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কবি আসাদ চৌধুরী কবি আসাদ চৌধুরী


কানাডার সময় অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজের পর কবি আসাদ চৌধুরীর জানাজার নামাজ টরন্টোর নাগেট মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজার পর কবির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য মসজিদের অভ্যন্তরে আধাঘণ্টা রাখা হয়। সর্বসাধারণের দেখা সম্পন্ন হলে কবির মরদেহ অন্টারিওর পিকারিং ডাফিন মেডোজ কবরস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, কবি আসাদ চৌধুরী গত ৫ অক্টোবর ভোর রাত তিনটার সময় কানাডার অশোয়া শহরের লেক রিজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি.. রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি গত এক বছর ব্লাড ক্যানসারে ভুগছিলেন। 

কবি আসাদ চৌধুরী দীর্ঘদিন কানাডার টরন্টোতে তার মেয়ে নুসরাত জাহান চৌধুরীর সঙ্গে থাকতেন। 

কবির জামাতা নাদিম ইকবাল জানান, কবি আসাদ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত মাসে তাকে কানাডার লেক রিজ হেলথ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। 

কবি আসাদ চৌধুরী ১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া জমিদার বাড়ির এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

কবি আসাদ চৌধুরীর প্রতি মুক্তধারার শ্রদ্ধার্ঘ্য

তিনি ভালবেসেছিলেন বাংলাদেশ ও তার মানুষকে। কবিতায় সেই মানুষের অনন্ত সংগ্রাম ও অবিশ্বাস্য অর্জনের কথাই তিনি বলতেন। কবিকে তিনি বলেছিলেন প্রথম বিদ্রোহী, নিদ্রাহীন প্রহরীর মতো যে আগলে রাখে দেশের স্বাধীনতা ও তার মূল্যবোধ। বস্তুত তিনি নিজেই ছিলেন সেই বিদ্রোহী। যেন দ্রষ্টা কোনো, বাংলাদেশের আকাশে ঘনকাল মেঘের কুঞ্জটিকা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি লিখেছিলেন,

প্রতিটি অর্জন ধুলোয় মিশে যায়

নতুন উৎপাত মৌলবাদ আর

জঙ্গিবাদ আসে, পশ্চিমের থেকে যেনই

স্বেচ্ছাচারিতার প্রতাপ চৌদিকে

দৃপ্ত পায়ে কবি কাতারে মিছিলের

কারফু কার ফুঁতে ওমন করে ভাগে

বাঙালির দ্রোহের ও স্বপ্নের ভাষ্যকার কবি আসাদ চৌধুরী ৫ অক্টোবর ৮০ বছর বয়সে টরন্টোতে দেহত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন জটিল রোগে তিনি ভুগছিলেন। তা সত্ত্বেও আশা হারাননি, মানবতার প্রতি আস্থা টলেনি। একদিনের জন্যও বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হয়নি। তার মৃত্যুতে শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের জন্য এই মৃত্যু গভীরভাবে ব্যক্তিগত। প্রথমাবধি তিনি এই ফাউন্ডেশন, বিশেষত মুক্তধারা আয়োজিত বার্ষিক বাংলা বইমেলার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে গেছেন। যখনই সাহায্য অথবা পরামর্শের প্রয়োজন হয়েছে, নির্দ্বিধায় তিনি এই সংগঠনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি নিউইয়র্ক বইমেলায় উদ্বোধক ছিলেন। কোভিডের কারণে ব্যক্তিগতভাবে নিউইয়র্কে আসতে পারেননি, কিন্তু এক দীর্ঘ ভিডিও বার্তায় তিনি শুধু বইমেলার সাফল্য কামনা করেননি, এই সংগঠনের দিকনির্দেশনাও দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রবাসে যদি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা অব্যাহত রাখতে তাহলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ ও তার মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালোবাসা ও চেতনা জাগ্রত রাখা। তিনি বিশেষ করে জোর দিয়েছিলেন নতুন প্রজন্মের বাঙালিদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর। তিনি আস্থা ব্যক্ত করেছিলেন, মুক্তধারা এই কাজটি যোগ্যতার সঙ্গে চালিয়ে যাবে।

২০২৩ সালে ৩২তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলায় মুক্তধারা ফাউন্ডেশন কবি আসাদ চৌধুরীকে মুক্তধারা/জিএফবি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করে। শারীরিক কারণে তিনি আসতে পারেননি, তার পক্ষে সে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন কবিপত্নী ও কন্যা। পরে নানাভাবে মুক্তধারার কর্মকর্তাদের তিনি কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জানিয়েছিলেন।

আসাদ চৌধুরীর তিরোধানের ফলে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন শুধু একজন সেরা বাঙালি কবিকে হারালো না, সে হারালো একজন অভিভাবককে। তিনি চলে গেলেও যে দিকনির্দেশনা তিনি দিয়ে গেছেন, তা মুক্তধারার জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে বিবৃতিতে জানান, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বইমেলার পক্ষে ড. নূরন নবী, চেয়ারম্যান, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, হাসান ফেরদৌস, আহ্বায়ক, নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা ২০২৪, বিশ্বজিত সাহা, প্রধান নির্বাহী, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন।

শেয়ার করুন