১৭ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৪:০৫:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ নিজ হাতে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান সংসদে প্রথমেই বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ তারাবি নামাজ চলাকালীন মসজিদ লক্ষ্য করে গুলি নিউ ইয়র্কে সামগ্রিক অপরাধ কমলেও ব্রঙ্কসে বাড়ছে মুসলিম সম্প্রদায়কে বহিষ্কার ও নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব কেয়ারকে ফ্লোরিডা গভর্নরের সন্ত্রাসী ঘোষণার বিরুদ্ধে আদালতের রায়


রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ রক্ষার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-০১-২০২৬
রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ রক্ষার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার দাবি


আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নদী, সমুদ্র ও পরিবেশ রক্ষার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে গত ১০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাব সড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পরিবেশবাদী সংগঠন নোঙর ট্রাস্ট। এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন নদী ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা সংহতি প্রকাশ করেন।

নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডেভেলপমেন্ট (সিজিইডি)-এর প্রধান নির্বাহী ডক্টর আব্দুল ওহাব, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাইদ রানা, জুবের আলম খান এবং জাতীয় পার্টির ঢাকা-৮ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নদী, সমুদ্র ও পরিবেশ আজ চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ, নদীদখল, পাহাড় ও উপকূল ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকলেও অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে পরিবেশ ও নদীরক্ষার বিষয়টি এখনো গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিফলিত হচ্ছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ডক্টর আব্দুল ওহাব বলেন, ‘নদী ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না। নদীদখল ও দূষণ বন্ধ না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নির্বাচনী ইশতেহারে নদী ও পরিবেশ রক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা না থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।’

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাইদ রানা বলেন, পরিবেশ সংকট এখন আর শুধু পরিবেশবাদীদের ইস্যু নয়-এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন। তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণকে সাংবিধানিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

জাতীয় পার্টির ঢাকা-৮ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জুবের আলম খান বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষা ছাড়া দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও জনজীবন টেকসই হতে পারে না। তিনি নির্বাচিত হলে সংসদে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন।

নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস বলেন, ‘নদী ও সমুদ্র রক্ষা শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমরা চাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল তাদের ইশতেহারে নদী দখলমুক্ত করা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, উপকূল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করুক।”

রিভারাইন পিপল ট্রাস্টের সভাপতি এফএম আনোয়ার হোসেন জানান, নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

মানববন্ধনে আরে বক্তব্য রাখেন নোঙর ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম, মো. হোসাইন, পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটি আহবায়ক, নোঙরের সদস্য, ফজলে সানি, রাশিদুল হাসান সুজন, আমিনূল হক, মো. মাজেদ, তানভীর হোসেন বপ্পী, শান্তা রহমান, কামাল হোসেন, দীন ইসলাম দীপ্ত প্রমুখ।

সহযোগী সংগঠন হিসাবে নদী রক্ষা জোট, রিভার জাস্টিস, সিজিইডি, কসমস এবং তুরাগ নদী সুরক্ষা কমিট যুক্ত ছিল।

শেয়ার করুন