০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৪:৬:৫৬ অপরাহ্ন


মাঠে আ.লীগ-সক্রিয় জামায়াত
গুপ্ত পরিকল্পনা নিয়ে উৎকণ্ঠায় বিএনপি
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৩-২০২৬
গুপ্ত পরিকল্পনা নিয়ে উৎকণ্ঠায় বিএনপি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান


বেড়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি আরও অনেক সাংগঠিনক কার্যক্রম। দলীয় কার্যালয় খুলে দেওয়ার হিড়িকও বেড়ে গেছে। একিই সঙ্গে নির্বাচনে নিজেদের বিজয়কে কেড়ে নেওয়া হয়েছে কিংবা আরও বেশি আসন পেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকতো বলে মনে করে হুঙ্কার ছাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। এর বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি মাঠ গরমেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ২৪ জুলাই বিপ্লবের ইমেজে গড়ে উঠা এনসিপি-ও বসে নেই, দিয়ে যাচ্ছে আওয়াজ। পুরো বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত সদ্য ক্ষমতায় বসা বিএনপি। উদ্বিগ্ন নানান ধরনের গুপ্ত পরিকল্পনার আশঙ্কাতেও। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও সুপার টেনশনে সদ্য ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। এসব তথ্য মিলেছে রাজনৈতিক মাঠ থেকে...।

বেড়ে গেছে ঝটিকা মিছিল

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবারে ভোরবেলা ধানমন্ডি ২ নম্বর সড়কের স্টার কাবাব রেস্তোঁরার সামনে থেকে ২০-২৫ জন নারী একটি মিছিল বের করেন। ‘মুজিব প্রেমিক বাংলার নারীরা’ লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তারা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দিতে ৩ নম্বর সড়কের দিকে যায়। কিন্তু ধানমন্ডিতে ঝটিকা মিছিলের সময় মহিলা আওয়ামী লীগের সাত নেত্রী ও তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের চালককে গ্রেফতার করে ফেলে পুলিশ। শুক্রবারে ভোর সোয়া ৬টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। খোদ রাজধানী নয়, এমন ঝটিকা মিছিল বলা যায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে হচ্ছেই। 

অফিস খোলার হিড়িক

এদিকে সারাদেশে বিভিন্ন জেলা শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অফিস খুলে ফেলার হিড়িক পড়েছে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলি খুলে ফেলা হচ্ছে। এমনিভাবে পাবনার বেড়ায় গণঅভ্যুত্থানের পর তালাবদ্ধ থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শ্লোগান দিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বেড়া বাজারে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ওইদিন সকালে আওয়ামী লীগ নেতা রাইসুল ইসলাম তারেকের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী বেড়া বাজারস্থ কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে শেখ মুজিবুর রহমান, ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর ছবি সংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেন। এ সময় তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পরপরই সেখানে পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন বলে জানা গেছে। এটাকে অনেকে বিএনপির লোকদেখানো প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ বলে এলাকার জনগণ মনে করছে। 

কেনো বাড়ছে ঝটিকা মিছিল?

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। এর পরে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের দলের নেতাকর্মীদের প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করতে আহবান জানানো হয়। অন্যদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরেও বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না এবং এর পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেয়। কিন্তু এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায়ই ঝটিকা মিছিল বের করায় অন্তর্বর্তী সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। কেননা তখনও অন্তর্বর্তী সরকার কিছুটা ঢিলেমি দেয়। দেখা গেছে, সে-ই সুযোগে জামিন পেয়ে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী মিছিলেও যুক্ত হচ্ছে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোরতায় মিছিল ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, টহল জোরদার ও গ্রেপ্তারের ওপর জোর দেওয়া হলে আ.লীগের নেতাকর্মীরা বেকায়দায় পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল যা-র পরিপ্রেক্ষিতে সেসময় সিদ্ধান্ত হয় কড়াকড়ির। এরপর থেকে বলা যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তেমন জোড়ারোভাবে আওয়ামী লীগ মিছিল করতে পারেনি। জানা গেছে, কড়াকড়ি এমন পর্যায়ে ছিল যে, ২০২৫ সালের এক হিসাবে বলা হয় যে, ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ায় ওই বছরের গত ১০ মাসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তা-ই বলা যায় ২০২৫ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির ঝটিকা মিছিল কার্যক্রম বলা চলে ভাটা পড়ে। কিন্তু ত্রয়োদশ নির্বাচনের পরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা বিএনপি ক্ষতায় এলে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটিতে কিছুটা স্বস্তি থেকে ঝটিকা মিছিলের আয়োজন বেড়ে যায়। 

বসে নেই জামায়াত, সক্রিয় হচ্ছে বিভিন্ন ইস্যুতে কিন্তু কেনো?

দীর্ঘদিন পরে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে এতো আসন পেয়েছে। কিন্তু এতে দলটি সন্তুষ্টি পাচ্ছে না। তাদের ধারণা তারা আরও বেশি আসন পেয়েছিল। তাদেরকে হারানো হয়েছে। তা-ই বসে নেই জামায়াত ইসলামী। সক্রিয় হচ্ছে বিভিন্ন ইস্যুতে। ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই ৩২ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে দেখা করে তারা এ দাবি জানায় তারা। জামায়াতের অভিযোগ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন-অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে। জামায়াত মনে করে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। আসনগুলো হলো-ঢাকা ৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭; পঞ্চগড়-১; ঠাকুরগাঁও ২; দিনাজপুর-৩ ও ৫; লালমনিরহাট-১ ও ২; গাইবান্ধা-৪; বগুড়া-৩; সিরাজগঞ্জ-১; যশোর-১; খুলনা-৩ ও ৫; বরগুনা-১ ও ২; ঝালকাঠি-১; পিরোজপুর-২; ময়মনসিংহ-১, ৪ ও ১০; কিশোরগঞ্জের-৩; গোপালগঞ্জ-২; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫; চাঁদপুর-৪; চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন তিনজন যারা জামায়াতে ইসলামীর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে চারজন প্রার্থীর করা পৃথক চারটি নির্বাচনী আবেদন শুনবেন হাইকোর্ট। এই চার আবেদনের ওপর পৃথকভাবে শুনানি হবে আগামী এপ্রিল ও মে মাসে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আবেদনকারী চারজন প্রার্থীর মধ্যে একজন বিএনপির ও অপর তিনজন জামায়াতে ইসলামীর। যে চার আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো হলো শেরপুর-১, ঢাকা-৬ ও ৭ এবং গাইবান্ধা-৪। 

আরও অন্য ইস্যুতে 

মামলা মোকাদ্দমার পাশাপাশি আরও অন্য ইস্যুতে জামায়াত মাঠ গরম করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মাঠে ঘাঠে দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে পরিকল্পিতভাবে তাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ১০ থেকে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে যেসব প্রার্থীকে পরাজিত দেখানো হয়েছে, তা ইচ্ছাকৃত বলে তাদের কাছে স্পষ্ট। তার ভাষ্য, দু-একটি জায়গায় ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু স্পর্শকাতর আসনে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। মানুষ বলছে জামায়াত হারে নি, হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শাসক দলের কয়েকজন মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কাঁচা কথাবার্তা সমাজকে অস্থির করে তুলছে এবং তা অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ ভালোর দিকে যাবে কীভাবে? কারো কারো মতে, জামায়াত তাদের ভাষায় হারিয়ে দেওয়া বা হারানো হয়েছে বলে প্রকাশ্য বক্তব্য সামনের দিনে অন্য রকম পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নানান কথা

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে আকাশ-বাতাস ভারী হচ্ছে। বলা হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি ‘বৈষম্যমূলক’। বলা হচ্ছে চুক্তির ধারাগুলো দেখে হতবাক এবং স্তম্ভিত বিশিষ্টজনেরা। তাই নতুন সরকারের এই চুক্তি থেকে সরে আসা উচিত। কারো কারো মতে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত। ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে। শুল্ক সংক্রান্ত যে সব বিষয় রয়েছে তা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) নীতিমালা পরিপন্থি। তা-ই ‘চুক্তির কয়েকটি ধারা বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতিতে অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা তৈরি করবে। অন্য দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি করলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো এবং তাদের বিধিনিষেধ মানার বাধ্যবাধকতা থাকায় দেশের নীতি-স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি মসৃণ রূপান্তর কৌশল (এসটিএস) বাস্তবায়নে জটিলতা ও দেশের উন্নয়নে বড় বাধা তৈরি করবে।

বিএনপি এখন কি করবে..জামায়াত কি বসে থাকবে?

উপরের সার্বিক বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে বিএনপি সরকার বলা যায় অত্যন্ত নাজুক অবস্থাতেই রয়েছে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিটির নেতিবাচক দিকই বেশি। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সাথে করা চুৃক্তি নিয়ে বর্তমানে এদিক সেদিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনেক কঠিন ও ঝকিপূর্ণ বলেই অনেকের অভিমত। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ যে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই করে তা নিয়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে দেন। ফলে পাল্টা শুল্ক না থাকলেও সই করা এ চুক্তি বান্তবায়নে জটিলতা নিরসনেও বার্তা দেওয়া হচ্ছে মার্কিনীদের পক্ষ থেকে। আর এ পরামর্শ নিয়ে তিন দিনের সফরে ঢাকা আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস পল কাপুর। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ফলে চুক্তিটি নিয়ে বিএনপি সরকার আদৌ এদিক সেদিক ভাবতে পারবেন কি-না তা সময় বলে দেবে। তবে এনিয়ে বিএনপি অন্যরকম চিন্তিত কেননা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ব্রুস সোয়ার বৈঠক করেছেন। ভার্চুয়ালি পৃথকভাবে ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশটির সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে। বিএনপির কাছে এখন এ-বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর পাশাপাশি বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ যখন জামায়াত বলে বেড়াচ্ছে জাতীয় নির্বাচনে তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। পরিকল্পিতভাবে তাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তা-হলে কি ধরে নেওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়ার কারণেই কি জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপাারে বেশ আশাবাদী ছিল। একারণেই তারা কোনোভাবে কনফার্ম হয়েছিল যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় চলে আসছে? কিংবা আরও বেশি সংখ্যক আসন পাওয়ার নিশ্চয়তায় ছিল? তারা কি বড়ো ধরনের দরকষাকষি করেই মাঠে এমন হুঙ্কার ছেড়েছিল? বড়ো ধরনের সমঝোতা হয়েছিল কোনো শক্তিধর দেশের সাথে? যদি তা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে জামায়াত এখন কি তারা বসে থাকবে? সর্বশেষ ইরানে হামলার নিন্দা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম নেননি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বলেছেন, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই। এই বিষয়গুলি বিএনপির মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অন্যদিকে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠা আ.লীগ লীগের ঝটিকা মিছিল কিংবা তারা নিজেরাই তাদের অফিস খুলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরুর পরের পরিস্থিতি সামনে দিনে কোন দিকে নিয়ে যায়- তা-নিয়ে বিএনপিতে আছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। বলা চলে সরকারের উপর মহলে আছে সুপার টেনশন।

শেয়ার করুন