২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৯:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন


গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্প-মামদানি বৈঠক
সানিসাইড ইয়ার্ডসের ১২ হাজার আবাসন নিয়ে আলোচনা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৯-২০২৬
সানিসাইড ইয়ার্ডসের ১২ হাজার আবাসন নিয়ে আলোচনা গ্রেসি ম্যানশনে বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি


নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেসি ম্যানশনে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের পর দুই নেতা সানিসাইড ইয়ার্ডস এলাকায় বড় ধরনের আবাসন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা আরো এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান। মামদানি বলেন, হোয়াইট হাউস ও সিটি হলের আবাসন এবং পরিচালনা-সংক্রান্ত টিমগুলোর মধ্যে এ প্রকল্প নিয়ে কারিগরি আলোচনা শুরু করার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডস রেলইয়ার্ডের ওপর একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করে সেখানে প্রায় ১২ হাজার আবাসন ইউনিট, পার্ক, স্কুল ও অন্যান্য সুবিধা গড়ে তোলা হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ফেডারেল অনুমোদন এবং প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তাদের বক্তব্য ছিল সংযত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।

গত সোমবারের বৈঠকটি গ্রেসি ম্যানশনে কোনো বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরল সফরগুলোর একটি। এর আগে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ১৯৮১ সালে গ্রেসি ম্যানশনে তৎকালীন মেয়র এড কোচের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ১৯৬২ সালে সেখানে বয়স্কদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে বক্তব্য দেন এবং প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট এক মধ্যাহ্নভোজে গ্রেসি ম্যানশনে উপস্থিত হয়েছিলেন।

বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, সানিসাইড ইয়ার্ডস উন্নয়নের আলোচনা প্রায় ৫০ বছর ধরে চলছে। তিনি প্রকল্পটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাশ্রয়ী আবাসন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। মামদানি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এখনো অনেক কাজ বাকি থাকলেও দুপক্ষের আলোচনা সেই পথকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। মামদানি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিবারের আলোচনায় নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং সরকারের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, যারা নিউইয়র্কে বসবাসের ব্যয় বহন করতে পারছেন না, তাদের জন্য আবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাধান খুঁজতে তিনি যে কারো সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

বৈঠকে অভিবাসন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মামদানি জানান, হাইতি থেকে আসা অভিবাসীদের টেম্পোরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের অভিবাসী বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং টিপিএসের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন খাতের কর্মীদের বিষয়টি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসন ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে। মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযান, টিপিএস এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণকারীদের গ্রিন কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত কিছু নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বা এনওয়াইপিডির বিষয়টিও উঠে আসে। মামদানি বলেন, শহরের নিরাপত্তা এবং পুলিশ বিভাগের ভূমিকা নিয়েও তারা আলোচনা করেছেন।

গ্রেসি ম্যানশনে বৈঠকটি ছিল নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও মামদানির প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। এর আগে তারা হোয়াইট হাউসে দুইবার সাক্ষাৎ করেছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির বৈঠকেও মামদানি সানিসাইড ইয়ার্ডস প্রকল্পের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে ২১ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের বিষয়টি তুলেছিলেন। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি ১২ হাজার বাড়ি এবং প্রায় ৩০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প মামদানির সমালোচনা করেছিলেন। পরে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের মাধ্যমে দুপক্ষের মধ্যে কাজের সম্পর্কের নতুন পর্যায় শুরু হয়। বৈঠকের পর ট্রাম্প মামদানিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি আশা করেন মামদানি একজন ভালো মেয়র হবেন এবং তার সম্ভাবনা রয়েছে। জবাবে মামদানি বলেন, তার কাজের মূল্যায়ন নিউইয়র্কবাসীর ওপরই ছেড়ে দিতে চান।

বৈঠকের সময় ট্রাম্প জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। বৈঠকে মামদানির চিফ অব স্টাফ এলি বিসগার্ড-চার্চ এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসও উপস্থিত ছিলেন। আবাসন নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মামদানি প্রশাসন ইতোমধ্যে আগামী এক দশকে ২ লাখ নতুন সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ এবং আরো ২ লাখ সংরক্ষণের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। জুলাইয়ে সিটি প্রশাসন জানিয়েছিল, শহরের মালিকানাধীন ১০০টির বেশি স্থানে ৫০ হাজারের বেশি নতুন বাড়ির সম্ভাব্য পাইপলাইন নিয়ে কাজ চলছে।

শেয়ার করুন