১৯ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৩৬:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে বাফেলোতে বাংলাদেশি বয়স্ক নারীর ওপর সশস্ত্র হামলা টেক্সাসে স্টেট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম অভিভাবকদের মামলা নিউইয়র্ক সিটির স্কুল জোনে ঘণ্টাপ্রতি ১৫ মাইল গাড়ির গতিসীমা মুসলিম নারীকে নগ্ন করে তল্লাশির অভিযোগে শেরিফের বিরুদ্ধে মামলা ‘আমি ভারতীয়দের সহ্য করতে পারি না বলেই থুথু নিক্ষেপ’ নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য জেল শাস্তি বাতিল মামদানি ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক যে কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতির কৌশলে ইমিগ্রেশন সুবিধা : ১১ ভারতীয় গ্রেফতার


কংগ্রেসে ড্রিমারদের নাগরিকত্ব প্রদানে দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-১২-২০২২
কংগ্রেসে ড্রিমারদের নাগরিকত্ব প্রদানে দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ


ড্রিমারদের জন্য সিনেটে একটি দ্বিপক্ষীয় বিল প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন সম্প্রতি তার অ্যারিজোনা সফরের সময় সীমান্তে গমন পরিহার করে বলেছিলেন, সীমান্তে ভ্রমণের চাইতে আরো গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলছে। সৌভাগ্যবশত কংগ্রেসের সিনেটকক্ষে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক প্রস্তুতির কাজ দানা বেঁধে উঠেছে। 

রিপাবলিকান সিনেটর বস টিলিস ও ডেমোক্রেট সিনেটর (সম্প্রতি স্বতন্ত্রের খাতায় নাম লেখানো) কার্সটেন সিনেমা বর্তমানে এক সমঝোতা বিল নিয়ে আলোচনা করছে। এই বিল চলতি ১১৭তম কংগ্রেস মুলতবি হওয়ার পূর্বেই পাস হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। এই বিলে তথাকথিত ড্রিমারদের সিটিজেন হওয়ার পথ সৃষ্টি হবে। বিলে টাইটেল ৪২-এর আরো এক বছর মেয়াদ বাড়ানো বা আমেরিকায় আসা লোকদের আমেরিকায় সীমান্তের বাইরে রাখার পথ সৃষ্টি হবে। তাতে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমকারীদের বিতাড়ন সহজ হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এই পরিচালনায় সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ৪০ বিলিয়ন ডলার অর্থ প্রদানের বিষয়ও থাকছে। তারপর অ্যাসাইলাম দাবিদারদের ব্যাকলগ কমানোর ব্যবস্থা করা হবে। 

এসব সমস্যা সময়ের নিরিখে আরো খারাপ হয়েছে। ২০২২ সালে ২৪ লাখ অবৈধদের সীমান্ত অতিক্রম, পূর্ববর্তী ২০২১ সালের নির্ধারিত সংখ্যার দিক থেকে অনেক বেশি। এই অধিক মাত্রায় অ্যাসাইলাম প্রার্থী আসার কারণ হচ্ছে অ্যাসাইলামের মন্থরগতি ও অ্যাসাইলাম আবেদনের ব্যাকলগ। যাতে অনেক অ্যাসাইলাম প্রার্থীর আবেদন শুনানির পূর্বে এদেশে বছরের পর বছর অবস্থান করা যায়। টাইটেল ৪২ ও ডাকা, যা ড্রিমারদের বিতাড়নকে বন্ধ করেছে। তা সাম্প্রতিক কোর্ট রুলিংয়ের কারণে শিথিল হয়ে পড়েছে আর তা বাস্তবায়নে এখন কংগ্রেসের আইনের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে, অনেকে কংগ্রেসে এ নিয়ে সমঝোতার বিরোধিতা করছে। ট্রাম্পের সাথে ইমিগ্রেশনবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার গত সোমবার টুইট করেছেন যে, ড্রিমারদের সিটিজেনশিপ দেয়া হলে তা শিশু স্মাগলিংয়ের বর্তমানে সুনামিকে, প্রাগৈতিহাসিক প্রবল বন্যায় রূপান্তর করবে। কিন্তু ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ড জানায়, এটা সে রকম নয়। এই ড্রিমাররা কোনো আইন ভঙ্গ করেনি। তারা শিশু হিসেবে এদেশে এসেছেন। এখন তারা বয়স্ক হয়েছে আর আইনগত সমস্যায় পড়েছে। অন্যদিকে মাইগ্র্যান্ট অ্যাডভোকেসি গ্রুপ আরো দ্রুত ডিপোর্ট করার সম্ভাবনাকে সমালোচনা করছে। কিন্তু এই বর্তমান ইমিগ্রেশন গ্রিডলক এসব রাজনৈতিক জঙ্গিদের সাহায্য করছে মাত্র। এটা সীমান্ত সিকিউরিটিকে সহায়তা করে না। অথচ মাইগ্র্যান্টের স্রোত বাধাহীনভাবে এদেশে প্রবেশ করছে আর ফেডারেল সরকার তার সমাধান করতে পারবে বলে এমন কোনো সমাধান ফেডারেল সরকারকে দেখানো হচ্ছে না। 

ভোটাররা ভালোভাবে জানে, হার্ট রিসার্চে সুইং স্টেটে দেখা যায়, ৭৪ শতাংশ লোক ড্রিমারদের বৈধ স্ট্যাটাসের পক্ষে। নভেম্বর মাসে এই জরিপ চালিত হয়। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ড্রিমারদের স্ট্যাটাস বৈধ করার জন্য ২০১৮ সালে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাতে তিনি অধিকাংশ সিনেট রিপাবলিকানদের সমর্থন পেয়েছিলেন। 

একইভাবে তারা প্রচলিত আইনপ্রয়োগের পক্ষেও বলেন, রাসমুসেন রিপোর্ট করে যে, মিডটার্ম ভোটারদের ৫৮ শতাংশ বলে যে, সরকার অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম বন্ধের জন্য খুব কম কাজই করছে। এজন্য মিস সিনেমাসহ কয়েকজন ডেমোক্রেটিক সিনেটর টাইটেল ৪২ বলবৎ রাখার কথা বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন গত মে মাসে তা বাতিল করেন। 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, তারা সমঝোতার পুরো বিষয় দেখেনি; কিন্তু কয়েকটি নতুন সংযোজনের মাধ্যমে বিলটি উন্নতমানের হবে বলে ধারণা। মিস সিনেমা ইতিপূর্বে অ্যাসাইলাম আইন পরিবর্তনের কথা বলেন, তিনি বলেন, অ্যাসাইলাম প্রার্থীরা যে, সহিংসতা এড়ানোর জন্য দেশত্যাগ করেছেন তা পরিষ্কার করতে হবে। তারা অর্থনৈতিক কারণে আসছে, তা যাতে দেখা না যায়। অন্যদিকে মি. টিলিস চান যে, টেম্পোরারি গেট ওয়ার্কার বাড়াতে। যাতে তা নিয়োগকর্তাদের কর্মচারী স্বল্পতা না হয় আর তাতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আগমন কমে যাবে। 

ছোট এ ধরনের একটি বিল পাস হলে তাতে অন্তত ভেঙে পড়া জনসমর্থন আবার ফিরে আসবে। এই ধরনের সমঝোতা সিনেটে ৬০ ভোট পাবে বলে বিশ্বাস। তাতে উভয় দল তাদের নিজস্ব সমর্থন দিয়ে এই সময়কে এক মাহেন্দ্রক্ষণে পরিণত করতে পারে।

শেয়ার করুন