০৪ মার্চ ২০১২, সোমবার, ০৯:৩৬:৪০ অপরাহ্ন


মুসলিম সম্প্রদায়ের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত
চার হাজার মসজিদ ও খোলা মাঠে ঈদ জামাত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৭-০৪-২০২৩
চার হাজার মসজিদ ও খোলা মাঠে ঈদ জামাত জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ঈদ জামাত


মুসলিম সম্প্রদায়সহ সারা বিশ্বের সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় চার হাজার মসজিদ ও খোলা মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সুন্দর এবং অবহাওয়া ভালো থাকায় প্রতিটি ঈদ জামাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। প্রতিটি ঈদ জামাত শেষে মুসলিম উম্মাহ তথা বিশ্বশান্তির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। নামাজ শেষে একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলির দৃশ্য সম্প্রতির এক অনন্য নজিরও ফুটে ওঠে। স্কুল বন্ধ থাকায় প্রতিটি ঈদ জামাতে ছিল অভিভাবকদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি। একই সঙ্গে মহিলাদের ব্যাপক উপস্থিতি। নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটেই মুসলমানেরা আনন্দ উৎসবে এবং নির্বিঘ্নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। তবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও একত্রে ঈদুল ফিতর উদযাপিত করেছেন। আগে একসময় লোকাল মুনসাইটিং এবং আন্তর্জাতিক মুনসাইটিং নিয়ে মুসলিম কমিউনিটি বিভক্ত হয়ে পড়তেন। গত কয়েক বছরে তা লক্ষ করা যাচ্ছে না। মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদ উদযাপন করছেন। মুসলমানদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক সিটিতে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নিউইয়র্কে সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত টমাস এডিসন হাইস্কুল মাঠে। সকাল ৯টায় এখানে জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও  মূলধারার রাজনীতিবিদরা বক্তৃতা করায় জামাত শুরু হয় সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে। এর আগেই টমাস এডিসন হাইস্কুল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এদিন ঈদ জামাতের আগে মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তৃতা করেন কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনাভান রিচার্ড, কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ, নিউইয়র্ক গভর্নরের প্রতিনিধি অ্যাশলে মেজা, মেয়র প্রতিনিধি, অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, অ্যাসেম্বিওম্যান জেনিফার রাজকুমার, কাউন্সিলম্যান জিম জিনারো, কাউন্সিলওম্যান নাতাশা উইলিয়া, কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল জাজ সোমা সাঈদ প্রমুখ।

সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তৃতা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ডা. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আফতাব মান্নান। সহযোগিতায় ছিল সহসাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।

ঈদ জামাত পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের খতিব মাওলানা আবু জাফর বেগ। নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের খতিব মাওলানা শামসে আলী। সবশেষে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবু জাফর বেগ।

দারুস সালাম মসজিদ 

জ্যামাইকা দারুস সালাম মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ১ম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আবদুল মুকিত। ২য় জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আলী। ৩য় জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা আল আমীন আরাফাত। চতুর্থ জামাতে ইমামতি করেন হাফেজ আশরাফুর রহমান। প্রথম জামাত ছাড়া প্রতিটি জামাতে মহিলারা নামাজ আদায় করেন। এছাড়া প্রতিটি জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। ঈদ জামাতগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়সহ সারা বিশ্বের সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

নিউইয়র্ক ঈদগাহ 

ঈদুল ফিতরের পাঁচটি জামাতই বরাবরের মতো অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্কের মিনি বাংলাদেশ জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায়। সকাল ৭টার প্রথম জামাত থেকে নিয়ে বেলা ১১টায় শেষ জামাতটিতে মুসল্লির সংখ্যা ছিল সন্তোষজনক। নতুন প্রজন্মকে মুসলিম সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ‘ঈদগাহে’ এসে নামাজ পড়ার বিশেষত্ব ও গুরুত্ব বোঝাতেই কোয়ান্টিটি নয়, বরং কোয়ালিটি সম্মত ঈদের নামাজ নতুন প্রজন্মকে উপহার দিতে তারা এখানে আসেন আনন্দ ও প্রফুল্ল চিত্তে। ঈদের নামাজের বিশেষ সুন্নাহ মোতাবেক প্লাজার একদিকে তারা আগমন করে নামাজ শেষে প্রস্থান করেন অন্যদিকে। নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাসহ ডাইভার্স কমিউনিটির সর্বস্তরের মুসলমানদের এখানে উপস্থিত হতে দেখা যায়। ঈদ শেষে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছার আদান প্রদানে মনে হচ্ছিল যেন  এ ঈদের নামাজ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসে নয়, বরং বাংলাদেশের কোনো ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্লাজার চতুর্দিকে দাঁড়িয়ে কমিউনিটির অমুসলিম প্রতিবেশীরাও এসে মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নিউইয়র্ক ঈদগাহের ঈদের নামাজের প্রশংসায় তারা পঞ্চমুখ ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১১ সনে নিউইয়র্ক ঈদগাহ মুসলিম শান্তির ধর্ম ইসলামের মহাসংস্কৃতির ঈদ আনন্দ উদযাপনের সত্যিকারের তাহজিব ও তমদ্দুন চর্চার যাত্রা শুরু করে।

আল আমিন 

এস্টোরিয়ার আল আমিন মসজিদের উদ্যোগে ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদ-সংলগ্ন ৩৬ স্ট্রিটে। ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা হাফেজ লুৎফর রহমান চৌধুরী। ঈদ জামাত শেষে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়সহ সারা বিশ্বের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। জামাতের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন আল আমিন মসজিদের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনি তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বর্বর হামলা তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। সেই সঙ্গে প্রবাসে নতুন প্রজন্মের ইসলামি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জেবিবিএ

জ্যাকসন হাইটস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ স্ট্রিটে সকাল সাড়ে ৮টায়। ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মুফতি মাওলানা আব্দুস সালাম। জামাতপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান এবং মেয়রের উপদেষ্টা দীলিপ চৌহান, জেবিবিএর প্রেসিডেন্ট হারুণ ভুইয়া, সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান এবং কোষাধ্যক্ষ সেলিম হারুণ। ঈদ জামাত শেষে মুসলিম সম্প্রদায়ের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করেন মাওলানা আব্দুস সালাম।

ওজনপার্কের ঈদের জামাত

ওজনপার্কের মসজিদ আল আমানের ঈদের জামাত সকাল  সাড়ে  ৮টায় স্থানীয় ডিওটি  পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বাংলাদেশ থেকে আগত সুনামগঞ্জের গাজী  হাম্মাদ নাগরী। এর  আগে  ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র ফারুকুল হক। 

আল-ফোরকান মসজিদ

৭৭ স্ট্রিট ও গ্লিন মোড়ে অবস্থিত আল-ফোরকান মসজিদের সামনে খোলা   আকাশের নিচে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত সকাল ৮টায়। ২য় জামাত সকাল ৯টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা হাফিজ আবু  সুফিয়ান। ২য় জামাতে ইমাম ছিলেন ঢাকা থেকে আগত মাওলানা মাহমুদুল হাসান। 

ফুলতলি জামে মসজিদ ওজনপার্ক 

সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে স্থানীয় পিএস ৬৪ স্কুলে একটি  জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমাম ছিলেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুল আলিম।

নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশ ও উৎসব আমেজে উদ্্যাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

গত ২১ এপ্রিল নিউইয়র্কে নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদের উদ্যোগে খোলা মাঠে বিশাল ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সকাল ৯টায় ব্রঙ্কসের ওভাল পার্কের খোলা মাঠে এই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি এই ঈদ জামাতে অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মুসাদ্দেক আহমেদ। নামাজের আগে ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ইউএসএর সভাপতি আল্লামা সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি সৈয়দ জামিন আলী এবং সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইনেরসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ।

নামাজ শেষে হাফিজ মুসাদ্দেক আহমেদ মুসলিম উম্মাহসহ সমগ্র মানবতার কল্যাণ ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

পার্কচেস্টার জামে মসজিদ

গত ২১ এপ্রিল মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয়। নিউইয়র্কে বাঙালি অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের প্রাচীনতম মসজিদ পার্কচেস্টার জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা ও সকাল ৯টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জামাতে মহিলাদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।

পার্কচেস্টার জামে মসজিদের প্রথম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা জুবাইর রাশিদ। তিনি পবিত্র ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেন। মুসলিম বিশ্বসহ সমগ্র মানবতার কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। দ্বিতীয় জামায়াতে ইমামতি করেন মৌলভী নূরুল ইসলাম। ঈদ জামায়াতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আহিয়া, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ সরাফিন মোর্শেদসহ অন্য কর্মকর্তারা।

বাংলাবাজার জামে মসজিদ

নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে খোলা মাঠে বিশাল ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টায় মসজিদের নিকটবর্তী ২১২০ সেন্ট রেমন্ডস অ্যাভিনিউয়ের পিএস ১০৬ খোলা মাঠে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি এই ঈদ জামাতে অংশ নেন।

ঈদ জামাতে ইমামতি করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আবুল কাশেম এয়াহইয়া। নামাজ শেষে বাংলাবাজার জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ গিয়াস উদ্দিনের আত্মার মাগফিরাত ও মুসলিম উম্মাসহ বিশ্ব মানবতার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। নামাজের আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মসজিদের সভাপতি ডা. আবদুস সবুর এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লালন আহমেদ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কমিটির সহসভাপতি মো. আহসান রাসুল নাসির, কোষাধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন, কার্যকরি সদস্য ওয়ালিউর রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামিম উদ্দিন, জাফর তালুকদার, আজিজুল হক ও সোহেল চৌধুরী।

গাউসিয়া মসজিদ

গত ২১ এপ্রিল সকাল ৯টায় নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের গাউসিয়া মসজিদের সামনে খোলা জায়গায় ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল ব্রঙ্কসে গাউসিয়া মসজিদের প্রথম ঈদ জামাত। খলিফায়ে ফুলতলী আল্লামা জালাল সিদ্দিকীর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এ ঈদ জামাতে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ মুসল্লিরা অংশ নেন। মুসলিম উম্মাসহ বিশ্ব মানবতার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা জালাল সিদ্দিকী।

আল কুবা মসজিদ

গত ২১ এপ্রিল সাউথ জ্যামাইকার আল কুবা মসজিদের আয়োজনে ১০১ এভিনিউ পিএস ৫০ এর খোলা মাঠে এক বিশাল ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলিম নর- নারী এই জামাতে অংশগ্রহণ করেন। নামাজে ইমামতি করেন মসজিদের পেশ ইমাম মাওলান মোঃ আবু সাঈদ। উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কের সিনেটর জন লু, এসেম্বলী ওমেন জেনিফার রাজকুমার, সিটি মেয়র এরিক এডাম এর সাউথ এশিয়ান প্রতিনিধি সুকরানী, কমিনিটি বোর্ড -১২ এর এরিয়া চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলী, ডিস্ট্রিক্ট লিডার ও সিটি স্পিকার এডরিয়ানী এডামের সাবেক চিফ অব স্টাফ জামাল হেকার সন, মূলধারার রাজনিতিবিধ এডভোকেট মজিবুর রহমান। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সভাপতি সেলিম থান, সাধারণ সম্পাদক জামাল পাশা,  ট্রাস্ট্রি বোর্ড চেয়ারম্যান আখলাক জাহান ও কার্যকরি পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ। জেনিফার রাজকুমার ইসলাম ধর্মকে শান্তির ধর্ম বলে আখ্যায়িত করে নবী করিম মোহাম্মদ (সাঃ) কে  শান্তির দূত  বলে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও তিনি রোজার মধ্যে এই মসজিদের তরুণ চার জন ইমামকে সাইটেশন দিয়ে সম্মান জানান।

জন লু বলেন, আমি বাংলাদেশিদের বন্ধু হয়ে থাকতে চাই। এবার আমি প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশীদের ইফতারে অংশগ্রহণ করেছি। বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ আলী, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকলকে মোবারক বাদ জানিয়ে বলেন, এই মসজিদের পক্ষ থেকে এই এলাকার উন্নয়নে বহুমূখি ভূমিকা পালন করা হচ্ছে। মসজিদ শুধু নামাজই নয় তারা নতুন প্রজন্মের সন্তানদের সুন্দর চরিএ গড়ায় সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ওজনপার্ক, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, এস্টোরিয়ায় বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন