২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০৩:১১:০৫ অপরাহ্ন


পিরোজপুরে দাফন মাওলানা সাঈদীর
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৮-২০২৩
পিরোজপুরে দাফন মাওলানা সাঈদীর পিরোজপুরে সাঈদীর জানাজায় মানুষের ঢল


মোফাচ্ছেরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুকে ঘিরে ওই রাতে উত্তাল সময় কেটেছে শাহবাগ এলাকায়। সোমবার (১৪ আগস্ট)  রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএসএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। 

এর আগে রোববার (১৩ আগস্ট) বিকেলে বুকে ব্যথা অনুভব করলে সাঈদীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে ডাক্তারদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাঈদীকে রাজধানীর বিএসএসএমইউতে আনা হয়েছিল।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। একই বছর ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথমে ফাঁসি এরপর আপিলে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।  

মাওলানা সাঈদী ব্যাক্তিগত জীবনে ছিলেন একজন ইসলামীধর্মীয় জ্ঞান সমৃদ্ধ অভিজ্ঞ বক্তা। বিশেষ করে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে তিনি ব্যাখ্যা করতেন ইসলামের। সাথে কুরআনের তাফসীর। করতেন বিভিন্ন সময়ে ওয়াজ মাহফিলে। প্রথম দিকে তিনি জাময়াতের রাজনীতির সঙ্গে যোগ না দিলেও তিনি এক সময়ে ওই রাজনৈতিক দলটিতে যোগ দেন। কিন্তু এরপরও তিনি তার তাফসির ও ওয়াজ মাহফিল চালিয়ে গেছেন। তার সুমধুর কণ্ঠ ও সাবলীল তাফসিরের জন্য সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও ব্যাক্তি মাওলানা দেলওয়ার হোসেন সাঈদির ভক্ত ছিলেন। 

রাজনীতিতেও সফল ছিলেন তিনি। পিরোজপুরের একটি আসনে তিনি দু’বার সংসদ সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

অভিযোগ 

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে সাহায্য করার অভিযোগে তাকে ২০১৩ সালে আমৃত্যু কারাদ- দেওয়া হয়েছিল। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে-আমির ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১১ সালে সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার বিরূদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটতরাজ ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০ দফা অভিযোগ আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০টি অভিযোগের মধ্যে প্রদত্ত বিচারের রায়ে আটটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং দু’টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এই রায়ের নিন্দা করে এবং অভিযোগগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভুল পরিচয়ের মামলা বলে আখ্যায়িত করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার বিচারের রায়ের সমালোচনা করেছিল। তার ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ ও সহিংসতা শুরু করেছিল। এই রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিলের রায় পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির সাজা কমিয়ে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদান করে। 

এর আগে “ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে” মর্মে অভিযোগে ২০১০ সনের ২১ মার্চ তারিখে দায়েরকৃত বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর মামলার প্রেক্ষিতে ঐ বছর ২৯ জুন তারিখে রাজধানীর শাহীনবাগের বাসা থেকে পুলিশ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে গ্রেপ্তার করে।   

দেলাওয়ার হোসাইনন সাঈদীর বেড়ে ওঠা 

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ইউসুফ শিকদার গ্রামের খুব সাধারণ এক গৃহস্থ ছিলেন। তিনি তার বাবার প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় তার প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৬২ সালে পিরোজপুরের সরুপকাঠীতে অবস্থিত ছারছিনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন ও সেখানে লেখাপড়া করেন। পরবর্তিতে তিনি সেখান থেকে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসায় স্থানান্তরিত হন। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পর সাঈদী স্থানীয় গ্রামে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি মুসলমান আলেম বা মওলানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ৩০ বছর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিচারে তাকে ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে মানবাতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে। তার পুত্র মাসঊদ সাঈদীর মতে, তিনি ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে ছিলেন না এবং ১৯৬৯ সাল থেকে তিনি যশোরে বসবাস করছিলেন। মাওলানা সাঈদী একই সঙ্গে বাংলা, উর্দু, আরবি ও পাঞ্জাবি ভাষায় দক্ষ ছিলেন এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষাও তার আয়ত্তে ছিল। 

পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী স্ত্রীর নাম শেখ সালেহা বেগম। এই দম্পতীর চার সন্তান রয়েছে। তারা হলেন, রাফিক বিন সাঈদী, শামীম সাঈদী, মাসঊদ সাঈদী ও নাসিম সাঈদী। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন ১৯৭৯ সালে। তিনি ১৯৮২ সালে জামায়াতের রুকন ও ১৯৮৯ সালে মজলিশে শূরা সদস্য হন। ১৯৯৬ সালে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য হন। তিনি ২০০৯ সাল থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

৮০’র দশকের প্রথমদিকে সাঈদী দেশব্যাপী ইসলামী ওয়াজ-মাহফিল ও তাফসির করা শুরু করেন এবং তার সুন্দর বক্তব্য দানের ক্ষমতার জন্য দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনী জোট গঠন করে এবং তিনি এই নির্বাচন পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

পিরোজপুরে দাফন সাঈদীর 

পিরোজপুরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটায় পিরোজপুর শহরের বাইপাস সড়কে সাঈদী ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। ওইদিন সকাল ১০টার দিকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পুলিশি পাহারায় সাঈদী ফাউন্ডেশন মাঠে পৌঁছায়। সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী ঢাকা থেকে পিরোজপুরে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় জানাজা বেলা একটার দিকে শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজার শুরুতে পরিবারের পক্ষ থেকে সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী বক্তব্য দেন।

লাশ ঘিরে ঢাকায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ

জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ঢাকায় জানাজা অনুষ্ঠানের দাবিকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাসপাতাল থেকে সরিয়ে সাঈদীর লাশবাহী এম্বুলেন্স বের করে দেয়। পরে কড়া নিরাপত্তায় লাশবাহী গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় পিরোজপুরে। সেখানে আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন মাঠে জানাজা শেষে সাঈদীর লাশ দাফন করা হয়। ১৪ আগস্ট সোমবার দিবাগত রাত ৮টা ৪০ মিনিটে আল্লামা সাঈদীর মৃত্যুর পর হাসপাতালে আসতে থাকেন তার সমর্থকরা। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাউকে কাউকে আহাজারি করতে দেখা যায়। দলটির আইনজীবীরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। মানুষের চাপের কারণে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা গেট বন্ধ করে দেন। রাতভর সেখানে উত্তেজানা বিরাজ করে।

রাত ১০টার দিকে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সেখানে যান। তিনি সব নেতাকর্মীকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন যে, সাঈদী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এরপর সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তার বাবার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার আবেদন করেন। এই আবেদনের পর লাশের ময়নাতদন্ত না করে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সুরতহাল করা হয়। 

সুরতহালের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন কারা কর্তৃপক্ষ। রাতে হাসপাতালে আসেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখানে যারা আজ কাঁদছেন এবং আহাজারি করছেন তারা কোরআনের পাখি সাঈদীকে ভালোবাসতেন। এই ভালোবাসা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। মাওলানা সাঈদী অর্ধ শতাব্দী ধরে দেশে ও বিদেশে কোরআনের দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি। জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধান্ত যে, তার একটি জানাজা ঢাকায় হবে। আরেকটি জানাজা হবে পিরোজপুরে। কারও কোনো কথায় কান না দিয়ে দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে জানানো হলো।’ তার বক্তব্যের পরেই পুলিশ জামায়াত নেতাকর্মীদের হাসপাতাল ত্যাগ করার পরামর্শ দেয়। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাশ না নিয়ে সেখান থেকে যাবেন না বলে ঘোষণা দেন। তারা ঢাকায় জানাজা করতে চান বলে জানান। তখন হাসপাতালের সিসিইউ এর গেটে অনেক নেতাকর্মী শুয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ তারা সেখানে অবস্থান করেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে। লাশবাহী এম্বুলেন্সের সামনে অবস্থান নেন জামায়াত শিবির কর্মীরা। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো হাসপাতাল এলাকা। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে হাসপাতাল ও শাহবাগ এলাকা ত্যাগ করে বিভিন্ন দিকে চলে যান। তখন সাঈদীর লাশবাহী এম্বুলেন্সটি ঠেলে বাইরে নিয়ে আসে পুলিশ। গাড়িটির চাকা পাংচার এবং সামনের কাঁচ ভেঙে যাওয়ায় অন্য একটি এম্বুলেন্স এনে সাঈদীর লাশ নিয়ে পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হয়। সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেলেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় জামায়াত শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।

পিরোজপুরে সাঈদীর জানাজায় মানুষের ঢল 

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পিরোজপুর শহরে আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে দুই দফা জানাজা শেষে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সেখানকার বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে তার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় জামায়াত-শিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছাড়াও সাঈদীর হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন। এ সময় সাঈদীর বিরুদ্ধে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকেও দেখা যায়। সাঈদীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সাঈদী ফাউন্ডেশনে হাজির হন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন। জানান, সাঈদী ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি এমপি থাকা সময় এলাকার সব মানুষ মায়ের পেটে থাকার মতো নিরাপদে ছিলেন। 

এদিকে সাঈদীর জানাজাকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র‌্যাব, বিবিজি, আর্মড পুলিশ। এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর লাশবাহী এম্বুলেন্স পুলিশি পাহারায় পিরোজপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত সাঈদী ফাউন্ডেশন মাঠে পৌঁছায়। সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ বিন সাঈদী ঢাকা থেকে পিরোজপুরে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় জানাজা দুপুর সোয়া ১টার দিকে শুরু হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির প্রফেসর মুজিবুর রহমান। জানাজার পূর্বে তিনি ও সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ বিন সাঈদী উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুজিবুর রহমান বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদীকে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করে সবার ভোট চান। দুপুর ২টার দিকে সাঈদীর মেজো ছেলে শামীম বিন সাঈদী পিরোজপুরে পৌঁছান। পিতার অসুস্থতার খবর শুনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলেন। পরে তার উপস্থিতিতে বেলা ৩টার দিকে দ্বিতীয় দফা জানাজা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ৩টায় আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে অবস্থতি বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে জামায়াতে ইসলামীর এ শীর্ষ নেতাকে বড় ছেলে মাওলানা রাফীক বিন সাঈদীর পাশে দাফন করা হয়। অন্যাদিকে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অর্ধমত লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জ্যাকসন হাইটসে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ আগস্ট বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার সিটি প্লাজায়।

শেয়ার করুন