জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতা জোট নিয়ে নানা রহস্য দেখা দিয়েছে। এই ধরনের জোট আসলে ইসলামী ভোট ব্যাংক তৈরি না-কি বিএনপিকে কঠোর মানসিক চাপে রাখার কৌশল। না এর পাশাপাশি কয়েকটি দলকে নিজ পকেটে রাখার যড়যন্ত্র কি-না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এসব তথ্য জানা গেছে রাজনৈতিক মাঠ থেকে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট গঠন করা হয়েছে। এই জোটে প্রথমেই ছিল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। পরে হঠাৎ চমক দেখিয়ে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জোটে নতুন করে যুক্ত হয়। প্রথমে কৌশলে ইসলামী ভোট এক বাক্সে আনার কথা বলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে কব্জা করে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের এমন আশ্বাসে বা পরিকল্পনায় ইসলামী রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যের ডাক দিয়ে দিয়ে চষে বেড়ান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। এসময় তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ। তাই ইসলামের পক্ষের সব ভোট দিতে হবে এক বাক্সে। এই অবস্থায় বলা চলে বেশ আলোচনার উঠে রাজনৈতিক অঙ্গনে। আর এই পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি- এদলগুলি ব্যাপক উৎসাহ উদ্বীপনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ৮ দলীয় জোটের পক্ষে নেয় নিজেদের ইমান-আকিদা-আদর্শিক অবস্থান ভুলে। অন্যদিকে জামায়াতের ব্যাপক তৎপরতায় ও ইসলামী ভোট এক বাক্সে আনার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিএনপির কাছে তেমন গুরুত্ব না পাওয়ায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টিও (এবি পার্টি) নিজেদের নীতি আদর্শ ফেলে দিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়।
ভেস্তে গেলো হেফাজতের পদক্ষেপে
কিন্তু বিএনপির সাথে হেফাজতে ইসলামী যোগাযোগ ও জোট গঠনে তাদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় বিপাকে পড়ে যায় জামায়াত। এর পাশাপাশি ইসলামের পক্ষের সব ভোট দিতে হবে এক বাক্সে বলে যে আওয়াজ তোলা হয়েছিলো তা-ও থমকে যায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের মারাত্মক মন্তব্যে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামী দলগুলিকে ঐক্যে আনতে বিশেষ করে তার মতকে প্রতিষ্ঠা করতে তার নেতৃত্বে টেনে আনা দলগুলিকে এককাতারে আনতে হোচট খাওয়া শুরু হয়। কেননা এমন প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সময়ে জামায়াতী ইসলামী বাংলাদেশকে ‘ভণ্ড আখ্যায়িত করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তীর্ষক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলাম একটি ভন্ড ইসলামী দল, সহীহ ইসলামী দল নয়। তারা মদিনার ইসলাম নয় বরং মওদুদীর ইসলাম কায়েম করতে চায়। মওদুদীর মতাদর্শ অনুসরণ করলে ইমান থাকবে না।’ এনিয়ে বলা চলে জামায়াতের নেতৃত্বে আসা জোটে অনেক ইসলাম পন্থী দলগুলি বাংলাদেশের সর্বসাধারণ মুসলামের কাজে নানান ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাদের ধারণা জন্মে বাংলাদেশের কয়েকটি ইসলামী দলকে নিয়ে জামায়াতের তথাকথিত ঐক্যের নামে মওদুদীর মতাদর্শের ছাতার তলে কৌশলে তাদের সমবেত করা হচ্ছে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে।
বিএনপির কৌশলে বিব্রতকর জামায়াত..
এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ওই বক্তব্যের পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাথে বিএনপি’র ঐক্য গঠনের খবরে বিপাকে পরে যায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন। কেননা বিএনপি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হেফাজত সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বিএনপির আসন সমঝোতা হয়ে যায়। এরই অংশ হিসেবে বিএনপি চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এধরনের ঘটনায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বড়ো ধরনের ধাক্কা খায়।
এনসিপি, এলডিপি-এবি পার্টিকে কে সাথে নিলো, কেনো?
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হেফাজতপন্থী ইসলামী দলকে বিএনপি’র বড়ো ধরনের ছাড় দেওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়ে জামায়াত। কারো কারো অভিমত এনসিপি- এলডিপি এবং এবি পার্টিকে মূলত জামায়াতের নেতৃত্বে জোটে নেওয়া হয় আসলে বিএনপি’কে কোয়দয়ায় ফেলতে। কারো কারো আশঙ্কা শুধু বিএনপি’কেই নয়, জামায়াতের নেতৃত্বে এই জোট একটি অন্য ধরনের ‘বিকল্প মঞ্চ’ বা তৃতীয় ধারা বলে প্রচার করে বাংলাদেশ ও বিশ্বাবাসীদের উপস্থিত হতে চায়। অন্যদিকে কারো কারো মতে, বহু চেষ্টা করে বিএনপি’র সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে এই দলটিকে উচিত শিক্ষা দিতে জামায়াত কৌশলে ইসলামী ভোট বাক্সের আওয়াজ তোলা হয়েছিল। আবার কারো কারো মতে, যারা রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ‘ফোর মাইনাস তত্ত্বে’র ব্যাপারে আওয়াজ তুলছিল বলে শোনা যায়, তাদের পালে হাওয়া দিতেও এমন ধরনের জোট গঠনের কৌশল নেওয়া হয়। জামায়াতের নেতৃত্বে এই নয়া জোটের ব্যাপারে অনেকের মধ্যে এসব ধারণা সৃষ্টি হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে জানা যায়। বিষয়টিতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে অনেকে।