১১ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৮:৪৯:০৩ অপরাহ্ন


ভূরাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০৩-২০২৬
ভূরাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান আক্রমণ থেকে সূচিত ধ্বংসাত্মক সংঘর্ষ সর্বগ্রাসী আতঙ্ক ছড়িয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা আরব দেশসমূহ এবং পারস্য মহাসাগর অঞ্চলে। বিশ্বব্যাপী এর অশুভ প্রভাবে শুরু হয়ে জ্বালানি সংকট থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট। সংগত কারণেই সংকট ঘনীভূত বাংলাদেশে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দেশকে সংকট মুক্ত রাখতে সদ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বের জোট সরকারের প্রাধিকার এখন যে কোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা। সুস্থ রাজনৈতিক এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য সরকারকে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে উস্কানিদাতা অশুভ শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নাজুক অর্থনীতি, নড়বড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনর্গঠন করতে সব ধরনের রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সকল দল এবং মতের শান্তিপূর্ণসহ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সরকারের কিছু মন্ত্রী এবং শীর্ষস্থানীয় নেতার অতিশয় উক্তি সমাজে উষ্ণতা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের একটি সংগ্রামী ঐতিহ্য আছে, দীর্ঘদিন আন্দোলন আর সংগ্রামের পর রক্তঝরা স্বাধীনতা আন্দোলনের পর স্বাধীনতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে জীবন দিয়েছে লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা, সভ্রম হারিয়েছে মা বোনেরা। কিন্তু ২০২৪ ছাত্র-জনতা আন্দোলনের আড়ালে একটি অশুভ শক্তির মেটিকুলাস পরিকল্পনায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকাকরের সময়ে স্বাধীনতার অধিকাংশ অর্জন ভূলুুণ্ঠিত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। সে ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সরকার সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দেশ গড়ার জন্য অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জাতিকে ঐক্য বদ্ধ করতে হবে। আমি কিন্তু সরকারের মধ্যে সেই ধরনের উদ্যোগ দেখছি না।

অগ্নিঝরা এ মার্চ মাস কিন্তু বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শ কাতর। ৭ মার্চ, ২৫ মার্চ, ২৬ মার্চ প্রতিটি দিনের কিন্তু একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ৭১র পরাজিত শক্তি আর দেশে এবং প্রবাসে থাকা কিন্তু সন্ত্রাসী চক্রের উস্কানিতে দেশ সৃষ্ট মব সন্ত্রাসে অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতিগুলো পুষিয়ে নিয়ে সংকট সময়ে দেশকে উন্নয়নের সড়কে ফিরিয়ে নিতে এ মুহূর্তে বিভেদ বিভাজন বজায় রাখা কাম্য হতে পারে না। কেন সরকার ৭ মার্চ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করতে বা বাধাগ্রস্ত করলো? ইতিহাসকে আপন গতিতে চলতে দেয়ায় কেন এতো ভয়?

একটি অসংবিধানিক অনির্বাচিত সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে অনেক ক্ষত সৃষ্টি করেছে। অসংবিধানিকভাবে গৃহীত কিছু বিষয় ইতিমধ্যে আদালতে গড়িয়েছে। সরকারকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঘোষিত অর্ডিন্যান্সগুলো সংসদে আলোচনা করে নিষ্পত্তি করতে হবে। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অনেক অর্ডিন্যান্স হয়তো অনুমোদিত হবে না। ভেবে দেখুন যদি বিতর্কিত জুলাই সনদ এবং গণভোটের বিরুদ্ধে আদালত রায় দেয় কি পরিস্থিতি দাঁড়াবে? অন্তর্বর্তী সরকার তার ম্যান্ডেটবহির্ভূত কিছু চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাপানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে। এগুলো সংসদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে হবে। জাতি দেশের স্বার্থে ঐকবদ্ধ না থাকলে সরকার কি এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে?

বর্তমান যুদ্ধ ইতিমধ্যেই বিশ্বকে শংকিত করেছে। আর কিছুদিন যুদ্ধ স্থায়ী হলে ভেঙে পড়বে জ্বালানি নিরাপত্তা, নড়বড়ে অর্থনীতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু এখনো দেখছি কিছু অর্বাচীন মানুষের আস্ফালন। নানা ন্যারেটিভ সৃষ্টি করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি।

মনে রাখতে হবে ২০১-২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনকাল নিয়েও অনেক বিতর্ক ছিল। বাংলাদেশের সমাজের স্মৃতি কিন্তু জেলি মাছের মতো না। তবে আশার কথা প্রধানমন্ত্রী অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন। আশা করি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বহুদলীয় রাজনীতি ফিরিয়ে আনার অন্যতম প্রবক্তা জেনারেল জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দল জনঘনিস্ট ভূমিকা নিয়ে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে। কঠিন সময়ে ঠুনকো বিষয় নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি সরকারের কাজ পদে পদে বাধাগ্রস্ত করবে।

অর্থনীতিকে গতিময় করতে বর্তমান অবস্থায় দেশে প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ। একসময় কিন্তু বাংলাদেশ চীন, ভারত, জাপান, কোরিয়া, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র একই সময়ে বাধাহীনভাবেই দেশের উন্নয়নে কাজ করেছে। বিগত ১৮ মাস অশুভ মহলের কারসাজিতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিনিয়োগ শুণ্যের কোঠায়। বিনিয়োগকারীদের আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরমত সহিষ্ণুতার পরিবেশ সৃষ্টি জরুরি। আশা করি সরকার প্রধানের ‘আমার একটি প্ল্যান আছে’ সেখানে এগুলো বিবেচনায় আছে, বাংলাদেশ কিন্তু সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

শেয়ার করুন