১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০১:৫৭:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইমাম নিহতের ঘটনায় টার্নারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ম্যানহাটনে মুসলিম মহিলাকে ছুরিকাঘাত, আলবার্টকে ১১ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে ওয়াশিংটনের ন‍্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সভা মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম বদলাতে মরিয়া ট্রাম্প জামায়াতের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি বাংলাদেশ গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশের সঙ্গেও ক্রিকেটে ভারতীদের ভূ-রাজনীতি


ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-০১-২০২৬
ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে প্রতীকী ছবি


যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে বিদেশে জন্ম নেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমলেও ২০২৫ সালে তার সুফল দেশটিতে জন্ম নেওয়া শ্রমিকরা পাননি, বরং উল্টো তাদের বেকারত্বের হার বেড়েছে। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসন কমানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়েনি, এমনকি নতুন শ্রমিকদের শ্রমবাজারে প্রবেশও উৎসাহিত হয়নি। সর্বশেষ ইউএস গভর্মেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তারা, বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার আগেই দাবি করেছিলেন যে অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হবে। বাস্তবে সে পূর্বাভাসের সঙ্গে শ্রমবাজারের বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি।

২০২৫ সালে বিদেশে জন্ম নেওয়া শ্রমিকের সরবরাহ কমেছে

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) গৃহস্থালি জরিপের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনগত ও অবৈধ অভিবাসনবিরোধী নীতির কারণে মার্কিন শ্রমশক্তিতে বিদেশে জন্ম নেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। জানুয়ারি ২০২৫ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিদেশে জন্ম নেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৮ লাখ ৮১ হাজার। মার্চ ২০২৫-এ সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে হিসাব করলে এই পতনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ লাখ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হ্রাস যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন -এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আরো অন্তত ১৩ লাখ বিদেশে জন্ম নেওয়া শ্রমিক যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে সেই সংখ্যার বদলে উল্টো শ্রমশক্তিতে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রত্যাশিত মাত্রার তুলনায় ২০ লাখেরও বেশি কম শ্রমিকের ঘাটতি নির্দেশ করে।

শ্রমশক্তি বৃদ্ধি কেন গুরুত্বপূর্ণ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একটি দেশের জীবনমান উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জরুরি, আর সেই প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে শ্রমশক্তি ও উৎপাদনশীলতার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকা দেশে অভিবাসী শ্রমিকরা এই দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমশক্তি বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে অভিবাসী শ্রমিকদের মাধ্যমে।

বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে যে, বর্তমান অভিবাসন নীতিগুলো বহাল থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীর সংখ্যা ৬৮ লাখ কমে যেতে পারে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে এই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখে। এর ফলে বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

মার্কিন নাগরিক শ্রমিকরা কেন লাভবান হননি

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল যে, বিদেশে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বহিষ্কার ও বৈধ অভিবাসন সীমিত করলে দেশজ শ্রমিকরা বেশি চাকরি পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্বের হার ছিল ৩.৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.১ শতাংশে, যা এক বছরে প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।

একই সময়ে দেশজ শ্রমিকদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হারও কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর যেখানে এই হার ছিল ৬১.৪ শতাংশ, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা নেমে এসেছে ৬১ দশমিক ২ শতাংশে। অর্থাৎ শুধু চাকরি পাওয়া কঠিন হয়নি, অনেক মার্কিন নাগরিক কাজ খোঁজার চেষ্টাও ছেড়ে দিয়েছেন।

অর্থনীতিবিদদের ব্যাখ্যা

শ্রম অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভিবাসন কমালে চাকরি বাড়বে-এই ধারণা মূলত লাম্প অব লেবার ভ্রান্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বাস্তবে অর্থনীতিতে চাকরির সংখ্যা নির্দিষ্ট বা স্থির নয়। শ্রমিক কমে গেলে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাতিল বা স্থগিত করেন, যার ফলে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হয় না, বরং কমে যায়।

এছাড়া অভিবাসীরা ভোক্তা হিসেবে খাদ্য, বাসস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যয় করে চাকরি সৃষ্টি করেন। অনেক অভিবাসী নতুন ব্যবসা শুরু করেন, যা আরও কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। তাদের অনুপস্থিতিতে কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ বিদেশে আউটসোর্স করতেও উৎসাহিত হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সীমিত নয় বা স্থির নয়। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে লাখ লাখ সৈনিক দেশে ফিরে এলেও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বেকারত্ব হয়নি; বরং তখন অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ঘটেছিল। এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, শ্রমশক্তি বাড়লেও চাকরি কমে না,বরং সঠিক নীতিতে অর্থনীতি আরো বড় হয়।

সার্বিকভাবে ২০২৫ সালের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, অভিবাসন কঠোর করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন