৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০১:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চিয়তা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিনঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে’ এনসিপির ৩৬ দফার ইশতেহার, কী আছে তাতে? ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যা ভোট দেয়ারও আহ্বান তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের জয়, নাইকোকে ৫১৬ কোটি টাকা জরিমানা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ- ইসি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে- জাহাঙ্গীর তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান নিরাপদ কর্মপরিবেশের দায়িত্ব নিয়োগকর্তারই `খুব ঠান্ডা শীত এলে এখনো পিঠে ব্যথা হয়, কারাগারে নির্যাতনের ফল'


ভারতীয় ’র’ কর্মকর্তার মন্তব্য
বিড়াল সাদা কি কালো সেটা বড় কথা নয় ইঁদুর ধরলেই চলবে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
বিড়াল সাদা কি কালো সেটা বড় কথা নয় ইঁদুর ধরলেই চলবে প্রতীকী ছবি


বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত দীর্ঘমেয়াদী হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানোর এক অভিনব প্রচার-প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উপর সরাসরি আক্রমণ তার একটি নমুনা। মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভারতীয় মোদি ও অমিত শাহের তান্ডব ও অমিত শাহের ছেলে জয় শাহের গৃহীত ব্যবস্থা বাংলাদেশ- ভারতের সম্পর্ককে এক অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভারতের পত্র- পত্রিকায় এবিষয়ে কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে- যেমন আইপিএলে মোস্তাফিজের বদলে লিটন দাস কিংবা সৌমকে নেয়া হলে ভারত এমন প্রতিক্রিয়া দেখাতো কিনা? এই আইপিএলকে ঘিরে বাংলাদেশ একটি অবস্থান নিয়েছে, যেখানে মুস্তাফিজের ইস্যু ক্রমান্বয়ে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতঘেঁষা আইসিসি যখন প্রকাশ্যে তাদের কুৎসিত দন্ত বিস্তৃত করেছে, সেখানে এই আইসিসি পূনর্গঠনের প্রয়োজন আছে বৈকি? বিষয়টা নিয়ে আপাতত এইটুকু বলা যায়। কিন্তু যেহারে ভারত বাংলাদেশে তার সাংষ্কৃতিক আগ্রাসনের নীল নকশার প্রণয়ন করে চলেছে তাতে বাংলাদেশেরও তা রুখে দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ যে কখনো ভারতের আগ্রাসনের টার্গেট নয় তা বলা যায় না। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ যতটুকু না বাংলাদেশের নিরাপত্তা চেয়েছে ভারতের কাছ থেকে তার চাইতে বেশি ভারত নিরাপত্তা চেয়েছে নিজের। একবার লিখেছিলাম ”শেখ হাসিনা ভারতের ব্যর্থ খদ্দের।” অবশ্য তা জুলাই বিপ্লবের পরে, কিন্তু এখনো কি ভারত তাই মনে করে? কিছুদিন আগে ভারতের কংগ্রেস নেতা শশী থারুর একটি মন্তব্য করেছিলেন। মন্তব্যটি হচ্ছে- ”আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দুর্নীতির দৌরাত্ম্য দেখে ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশের মানুষ জামায়াত ইসলামকে ভোট দেয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষকে মৌলবাদ বলা যাবে না।” বিষয়টা বলা যতটা সহজ ভারতের বাংলাদেশবিরোধী মনোভাবের কাছে গ্রহণ করা ততটা সহজ নয়। ভারত এখন তাই বলে বেড়াচ্ছে- আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে না নেয়ার কারণ নিয়ে। শশী থারুরই কথা বলেছেন-বাংলাদেশে জামায়াতের উত্থান নিয়ে। যদিও তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে কিছু বলেননি, তথাপি দেখা যায় তিনি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়ার সমালোচনা করেছেন। বাংলাদেশের ব্যাপারে কথা বলতে ভারতীয় রাজনৈতিক ও সমর কুশলীদের কোনো রাখডাক নেই। আওয়ামী লীগ নেতা ডঃ মোমেনের ”স্বামী -স্ত্রী” বিষয়টার বাস্তবতা তাতে খুঁজে পাওয়া যায় অনায়াসেই। তিরিশ বছর বয়সী ক্রিকেট প্লেয়ার মোস্তাফিজের সাথেও দ্বন্দ্বে যাতে ভারতীয় ডাশা মশার মতো রাজনীতিকদের বাঁধে না। আর এই দেশ নাকি চায় জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যপদ।

ভারত এখন হিসেব নিকেশ শুরু করে দিয়েছে ইরান নিয়ে। ইরান থেকে সকল ভারতীয়দের বিতাড়ন করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভারতীয়রা ইসরাইলের দালালি করেছে ইরানে বসে। রাতারাতি ইরান থেকে অনেকে পালিয়েছে, অনেককে আবার ফেরত পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে ইরান থেকে চলে গিয়েছে ছাত্ররা। শুধু তাই নয়, ভারতের দুমুখো সাপ হচ্ছে সকল নাগরিক তাদেরকে সৌদি আরব থেকে বিতাড়ন করা হচ্ছে। চীন ভারতকে সহ্য করে না। পাকিস্তানের সাথে রয়েছে বৈরিভাব। আফগানিস্তান ভারতের বন্ধু হয়ে গেছে। অথচ আফগানিস্তানে রিলিফ দিতে গিয়ে মরেছে বাংলাদেশীরা। নেপাল হিন্দু রাষ্ট্র্র হয়েও ভারতকে সহ্য করে না। নিয়ত ভারত বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক ও সামরিক রণাঙ্গণে রয়েছে। যেমন তিস্তার পানি বণ্টনে ভারতের কোন ইচ্ছা নেই। যেমন গঙ্গাচুক্তির নবায়ণে ভারতের কোন ইচ্ছা নেই। ভারত বাংলাদেশকে যেভাবে বড়শিতে গেঁথে ফেলেছিল সেখান থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসতে চেয়েছে মাত্র। তার জন্য হাদিকে জীবন দিতে হয়েছে ভারতীয় চর ফয়সল দাউদের হাতে। সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ। কূটনীতিক সংলাপ বন্ধ। উভয় দেশে লাল পাসপোর্ট চালু ছিল। তাও বন্ধ। ভারত বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘ সূত্রিতার আশ্রয় নিয়ে সকল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের কর্মতৎপরতা বন্ধের বিষয়টাকে ভারতীয় গোষ্ঠি মনে করছে আওয়ামী লীগই বন্ধ হয়ে রয়েছে। পছন্দের দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না বলে ভারতের মনে ‘ভূতের দুঃখ’। এখন ভারত বাংলাদেশে আগামী দিনে কি হবে তার হদিস নিচ্ছে।

ভারতের প্রাক্তন ‘র’ কর্মকর্তা যিনি বাংলাদেশে ছিলেন সেই রামারতন কুমার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ না থাকায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এখন জামায়াত-এনসিপি এক কাট্টা হয়েছে। বিএনপি নির্বাচন করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লোক ভোট দিয়ে থাকে। ‘র’ মনে করে আওয়ামী লীগ হচ্ছে বাংলাদেশের লিবারেল সেক্যুলার সেকশন। 

রামারতন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামির রাজপথে যে ক্ষমতা ছিল। ভোটে তা ছিল না। এখন তারা ভোটেও ক্ষমতাবান। জামায়াত সংসদীয় কাঠামো মোতাবেক কাজ করে থাকে। ১৯৯১ সালে তারা ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। যা ১৯৯৬ সালে ৮ শতাংশে নেমে আসে, ২০০১ সালে আরও কমে যায় বলে ‘র’ কর্মকর্তার ধারণা। ‘র’ কর্মকর্তা মনে করেন যে কোনভাবে নির্বাচন হয়ে যাবে বাংলাদেশে।

হাদি হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডেইলি স্টারও প্রথম আলোতে ভাংচুর অগ্নিসংযোগকে রামারতন মনে করে এসব ঘটেছে জঙ্গিবাদের উত্থানের ফলে। অথচ ‘র’ এই কর্মকর্তা নয়াদিগন্ত কিংবা আমার দেশ পত্রিকার কথা উত্থাপন করেনি।

রামারতন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পূর্ব থেকেই বাংলাদেশ ইসলামিক দেশগুলোর কাছাকাছি ছিল। তার কথায় মানে হচ্ছে শেখ মুজিব নয় বরং শেখ হাসিনার সময়েই বাংলাদেশ ভারতের ঘনিষ্ঠ ছিল। শেখ মুজিবের সময়েই বাংলাদেশ পাকিস্তানের প্রতি, আমেরিকা ও চীনের প্রতি ঝুঁকেছিল বলে ‘র’ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন। চীনের সাথে তাদের বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হয়, আর তখন শীঘ্রই বাংলাদেশে ভারতের কর্তৃত্ব ক্রমাগতভাবে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, এরশাদের সময়ও ছিল ভারতের জন্য ডিস্টার্টিং। রামারতন বলেন, সে সময় অনেক ভারতীয় বিদ্রোহী গ্রুপ বাংলাদেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে। শেখ হাসিনার প্রথম টার্মে এই অবস্থায় তেমন উন্নতি হয়নি। হাসিনার প্রশাসনের উপর তেমন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। 

বিষয়টা আরও খারাপ হয় ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে যখন বিএনপি জামায়াত যৌথ সরকার প্রতিষ্ঠা করে। তখন বাংলাদেশ ভারতের জন্য সিকিউরিটি নাইট মেয়ারে পরিণত হয়। পাকিস্তানি গ্রুপ লস্কর ই তৈয়বা, জইশ-ই-মোহাম্মদী ইত্যাদির ছিল অবাধ বিচরন। উলফা গেরিলাদের অবাধ যাতায়াত। ভারতীয় বোডাল্যান্ড, ত্রিপুরার ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট সবাই বাংলাদেশে অবস্থান নেয় বলে ‘র’ এর ধারণা ছিল সে সময়। তারা ভারতের অভ্যন্তরে হামলা চালায় বলে ধারণা। ২০০৮ সালে আসাম ব্লাস্ট সংঘটিত হয়। এরপর শেখ হাসিনা দেড়যুগ সময় ধরে ভারতকে এসব সন্ত্রাস বন্ধ করার সুযোগ দেয়। ‘র’ এর প্রাক্তন কর্মকর্তা মনে করে আগামী দিনে এসব কর্মকান্ড আবার সংগঠিত হবে।

এসবের পেছনে ছিল ভারতের সব ডিম আওয়ামী লীগের বাস্কেটে রাখার ফল। রামারতন বিষয়টা উড়িয়ে না দিয়ে নতুন করে ভাবার কথা বলেন, ভারতীয় ‘র’ কর্মকর্তা বলেন, এখন যারা আসছে তাদের সাথে ভারতকে তৎপরতা চালাতে হবে। দেখতে হবে, ‘বিড়াল কালো কি ধলা সেটা কথা নয়। বিড়াল ইঁদুর ধরল কিনা’?

রামারতন কুমার বলেন, বাংলাদেশের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে বর্তমান নিয়ে এগুতে হবে। ২০২৩ সালে ভারত বাংলাদেশ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য কিনতো আর বাংলাদেশ কিনতো ১৪ বিলিয়ন ডলারের। সেই পণ্য ভারত ভারতীয় টাকা বিনিময় হিসেবে গণ্য করার কাজ শুরু করেছিল। সেই কারবার এতদিনে সম্পন্ন হয়ে যেত। সে প্রস্তাব এখন সম্পন্ন না হলেও ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। তবে তা ভারতের খোলা মনের হিসেব নয়।

শেয়ার করুন