১৭ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৫:৫৪:৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ নিজ হাতে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান সংসদে প্রথমেই বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ তারাবি নামাজ চলাকালীন মসজিদ লক্ষ্য করে গুলি নিউ ইয়র্কে সামগ্রিক অপরাধ কমলেও ব্রঙ্কসে বাড়ছে মুসলিম সম্প্রদায়কে বহিষ্কার ও নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব কেয়ারকে ফ্লোরিডা গভর্নরের সন্ত্রাসী ঘোষণার বিরুদ্ধে আদালতের রায়


জামায়াত-যুক্তরাষ্ট্র নীতিগত যোগাযোগ গভীর উদ্বেগের অশনি সংকেত- ফরহাদ মজহার
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০১-২০২৬
জামায়াত-যুক্তরাষ্ট্র নীতিগত যোগাযোগ গভীর উদ্বেগের অশনি সংকেত- ফরহাদ মজহার


বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে। এই সম্পর্ককে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।


শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ আয়োজিত ‘দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 



ফরহাদ মজহার বলেন, “গাজায় তথাকথিত ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী’ পাঠানোর বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট আপত্তি না আসা একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই নীরবতা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী—যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে দলটি ক্ষমতায় এলে তাদের শরিয়াহ নীতি বা মার্কিন স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়েও আগেভাগেই কৌশল সাজিয়ে রাখছে। 


ফরহাদ মজহার বলেন, “এতে স্পষ্ট হয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও জামায়াতের মধ্যে নীতিগত বোঝাপড়ার একটি জায়গা রয়েছে। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে।” 


যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রভাবশালী ভূ-রাজনৈতিক শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাস্তবতা হলো বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর বলে মনে হয় না, যার বড় প্রমাণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আচরণ।” বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনও না কোনোভাবে যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই বাস্তবতায় ১৭ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? 


ভারতীয় প্রভাব প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, দেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য প্রকটভাবে শোনা গেলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে বুদ্ধিজীবী মহলে তেমন আলোচনা নেই, যা এক ধরনের দ্বৈত মানসিকতার প্রকাশ। তিনি আরও যোগ করেন, “আমি কোনও যুদ্ধ চাই না। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন এবং ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের কাছে মুখ্য হওয়া উচিত।” 


আলোচনা সভায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল বক্তব্য দেন। বক্তারা বর্তমানে দেশে বিরাজমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন।  

শেয়ার করুন