নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে মেয়র জোহরান মামদানির প্রস্তাবিত প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধির ঘোষণায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার কুইন্সের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন বাড়ির মালিক জরুরি সমাবেশে অংশ নিয়ে এ প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সম্পত্তি ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ক্যামব্রিয়া হাইটস এলাকার বাড়ির মালিক ভিভিয়ান ক্যাম্পবেল বলেন, এই বাড়িটি তাঁর জীবনের স্বপ্নপূরণ। নব্বইয়ের দশকে কলেজ শেষ করার পর তিনি বাড়িটি কেনেন। অবসরপ্রাপ্ত এই রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী বর্তমানে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি তিনি নতুন বারান্দা ও ছাদ নির্মাণে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন। কর বৃদ্ধির প্রস্তাব তাকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। সমাবেশে উপস্থিত আরেক বাসিন্দা জেমস জনসন বলেন, কুইন্সের মানুষ কোনো রাজনৈতিক দরকষাকষির অংশ হতে চান না। তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ দেওয়া উচিত নয়।
পিয়েরি বেঞ্জামিন নামের এক বাড়ির মালিক বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা ও বিতর্কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন। এখন সময় এসেছে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখানোর। মেয়রের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় দুটি পথ খোলা রয়েছে। একটি হলো ধনীদের ওপর কর আরোপে গভর্নরকে রাজি করানো, যা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। অন্যটি হলো নগরীর সম্পত্তি করের হার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। মেয়রের ভাষ্য, বিকল্প না থাকলে নগর কর্তৃপক্ষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজস্ব উৎসই ব্যবহার করতে হবে। তবে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সম্পত্তি কর বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনার টেবিলে থাকা উচিত নয়।
অন্যদিকে গভর্নরের অবস্থানও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, কারণ তিনি এ বছর পুনর্র্নিবাচনের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে কুইন্সের বাড়ির বাসিন্দারা কর বৃদ্ধির প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা নিজেদের বাড়িঘর রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।