১১ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৮:৪৬:২৩ অপরাহ্ন


নাড়ীর টানে আপনজনের সাথে ঈদ করা কঠিন
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০৩-২০২৬
নাড়ীর টানে আপনজনের সাথে ঈদ করা কঠিন গ্রামের ছবি


এবারে দেশে নাড়ীর টানে গ্রামে যেয়ে আপনজনের সাথে ঈদ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে (বাংলাদেশে)। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরেই আগে পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল সরকার। এর আগে ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণায় ঈদের আগে মিলছে চার দিনের ছুটি। আর ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা রয়েছে। ফলে এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। 

সরকারের নানা পদক্ষেপ

এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সড়ক, মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি ঈদের আগে তিন দিন মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজধানীর সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে প্রয়োজনীয় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এসব টার্মিনালকে বিআরটিএ ও পুলিশের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত করে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। উপজেলা, জেলা ও মেট্রোপলিটন সড়ক নিরাপত্তা কমিটিগুলোকে ঈদের আগে সভা করে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী বহন প্রতিরোধে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

কিন্তু ঢাকা ফাঁকা হবে তো?

তবে প্রতি বছর রাজধানী থেকেই একটি বড়ো অংশ ঈদের ছুটিতে গ্রামে গিয়ে আপনজনের কাছে ছুড়ে যাওয়ার ঝোক লক্ষ্য করা যায়। এর পাশাপাশি বলা যায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলি ফাঁকাই হয়ে যাবে। প্রায় প্রতিবছর পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় কোটি লোক ঢাকা ছাড়েন। গত বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের ছুটিতে কেউ গ্রামে নিজ বাড়িতে, কেউবা বেড়াতে দেশের বাইরে-ও গিয়েছিলেন রাজধানী ছেড়ে। সরকারি হিসাব বলা হয়েছিল গত বছরে ঈদ উদ্যাপনে গত ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল ৭ দিনে ১ কোটি ৭ লাখ ২৯ হাজার ১৫৫ সিমধারী ঢাকার বাইরে গেছেন। আর এবারে ঈদ উপলক্ষ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করবে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা-তে অনেকের সন্দেহ এবারের ঈদে কি ঢাকা ফাঁকা হবে তো? কেনোনা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশ জ্বালানি তেলের সংকটে ভুগছে। মহাসড়কের কোথাও কোথাও পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ। একটি পেট্রোল পাম্পে প্রবেশ করতে চাইলেও গাড়ির দীর্ঘ লাইনের কারণে সেখানেও ব্যর্থ হতে হচ্ছে যানবাহনকে। কয়েক দিন ধরে এভাবেই জ্বালানি তেলের সংকটে ভুগছেন গাড়িচালকরা। তেল না থাকায় দেশের অনেক এলাকায় পাম্প বন্ধ রাখছেন মালিকরা। সরকার বাধ্য হয়ে রেশনিং শুরু করেছে। কিন্তু এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। স্টেশনগুলোতে ক্রেতার সঙ্গে কর্মচারিদের মারামারির ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে পণ্য পরিবহনকারী গাড়িগুলো চাহিদা অনুসারে তেল পাচ্ছে না। সরজমিনের প্রতিবেদন হলো তিন-চারটি পাম্প ঘুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের গাড়ি বা মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করছেন চালকরা। যদিও সরকার বলছে, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তেল সংগ্রহে দেশজুড়ে মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু পাম্প মালিক ও ডিলার জ্বালানি তেল মজুত করা শুরু করেছেন। এটি ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দেশের প্রধান প্রধান তেল ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব বিবেচনাধীন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার এবং অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অতিরিক্ত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবার বলা হচ্ছে দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকে›ন্দ্রগুলোর মজুত জ্বালানি দিয়ে সর্বোচ্চ আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো সম্ভব হতে পারে। অনেকে জেলায় লোড শেডিং চলছে মারাত্মকভাবে। এসব কারণে নাড়ীর টানে বাড়ি যাওয়া মানুষে মনে এবার উদ্বেগ উৎকন্ঠা। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবার কি আপনজনের সাথে ঈদ করতে শহর ছেড়ে গ্রামে ঢল নামবে? যাবেন তারা তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে? আর এর পাশাপাশি সবার উৎসক্য এবার কি ঢাকা ফাঁকা হবে?

শেয়ার করুন