অপু বিশ্বাস
২০০৭ সালে ঢাকাই চলচ্চিত্রে পা রাখার পর থেকে একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দিয়ে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন দেখেছেন অনেক, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়ে তিনি ভীষণ হতাশ ও বিরক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক চর্চা এবং ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান কর্মপরিবেশকে তিনি সরাসরি ‘ডাস্টবিন’-এর সাথে তুলনা করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার ক্ষণে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে এক খোলামেলা আড্ডায় অপু বিশ্বাস কথা বলেছেন ঢালিউডের বর্তমান সংকট, ব্যক্তিগত জীবনের ট্রলিং এবং তার নতুন সিনেমা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির
প্রশ্ন : সম্প্রতি আপনি বলেছেন ঢালিউড এখন ‘ডাস্টবিনে’ পরিণত হয়েছে। এমন কঠোর মন্তব্যের পেছনের মূল কারণ কী?
অপু বিশ্বাস: দেখুন, আমি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে আসি, তখন একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র দেখে ভক্ত তৈরি হতো। কাজের প্রতিযোগিতা ছিল অভিনয়ের মান নিয়ে। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন কাজের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কাকে ছোট করতে পারে, কে কত বড় কন্ট্রোভার্সি তৈরি করতে পারে-সেটাই যেন মুখ্য। সৃজনশীল পরিবেশ যখন নোংরামিতে ঢেকে যায়, তখন সেটিকে আর চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি বলা যায় না, তাই আমার কাছে এটি এখন ডাস্টবিনের মতো মনে হয়।
প্রশ্ন : বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির পার্থক্য কোথায় বলে মনে করেন?
অপু বিশ্বাস: বলিউড, হলিউড বা টালিউডেও পক্ষ-বিপক্ষ আছে। কিন্তু সেখানে কাজের প্রয়োজনে সবাই পেশাদারিত্ব বজায় রাখে। তারা একে অপরকে সম্মান করতে জানে। আমাদের এখানে সেই সম্মানটুকু হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিল্পীদের প্রতি যে ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকা প্রয়োজন, তা এখন নেই।
প্রশ্ন : সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রচুর নেতিবাচক প্রচারণা হয়। আপনি কি মনে করেন এটি আপনার পেশাদার ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে?
অপু বিশ্বাস: অবশ্যই করছে। যখন একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত বিষয়গুলোকে নেতিবাচকভাবে সামনে আনা হয়, তখন চলচ্চিত্রের মূল জায়গাটি নড়বড়ে হয়ে যায়। মানুষ তখন কাজের চেয়ে ব্যক্তি অপু বিশ্বাসকে নিয়ে বেশি মাতামাতি করে। এই সংস্কৃতির কারণে ইন্ডাস্ট্রির সিরিয়াসনেস কমে যাচ্ছে।
প্রশ্ন : অনেকেই বলেন সোশ্যাল মিডিয়া এখন প্রচারণার বড় মাধ্যম। আপনি কেন নিজেকে এখান থেকে সরিয়ে রেখেছেন?
অপু বিশ্বাস: আমি গত সাত-আট মাস সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে একদম আড়াল করে রেখেছি। আমার কথাগুলো যেভাবে বিকৃত বা বাজেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা আমি আর দেখতে চাই না। আমি আমার শান্তি বজায় রাখতেই এখান থেকে দূরে আছি।
প্রশ্ন : আপনার ওপর যে অবিরাম ট্রলিং হয়, তা কি আপনার ব্যক্তিজীবনে কোনো প্রভাব ফেলে?
অপু বিশ্বাস: একদমই না। যারা এসব করছে, তারা আমাকে চেনে না, জানে না- তারা শুধু পর্দার অপু বিশ্বাসকে দেখে। আমার কাছে এগুলো এখন হাস্যকর লাগে। আমি আমার কাজ করি, উপার্জন করি, ভালো আছি। আমি এসব বিষয় এনজয় করি, কারণ আমার লক্ষ্য সামনে এগিয়ে যাওয়া।
প্রশ্ন : অনেকদিন পর নতুন কাজে ফিরলেন। ‘দুর্বার’ এবং ‘সিক্রেট’ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?
অপু বিশ্বাস: আমি সবসময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। এই দুটি সিনেমা একেবারেই ভিন্নধর্মী। একটি থ্রিলার, অন্যটি মার্ডার মিস্ট্রি। আবদুন নূর সজল এবং আদর আজাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো কাজ করছি। এই সিনেমাগুলো দর্শকদের মাঝে নতুন কিছু নিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।
প্রশ্ন : নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
অপু বিশ্বাস: আমি শুধু এটাই বলব নিজের কাজের প্রতি ফোকাস থাকো। সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক-কমেন্ট বা ট্রলিং দিয়ে শিল্পী হওয়া যায় না। দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার গড়তে হলে অভিনয়ের গুণগত মান বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।