০১ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১১:৬:০৮ অপরাহ্ন


সংবিধান সংস্কার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৪-২০২৬
সংবিধান সংস্কার নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ সংসদ অধিবেশন


আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম সংবিধানের কাঠামোর ভেতরেই পরিচালিত হবে এবং ‘জুলাই সনদ’ সেই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের অনেক সদস্য একদিকে ১৯৭২ সালের সংবিধান অস্বীকার করছেন, অন্যদিকে একই সংবিধানের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, যা একটি সাংঘর্ষিক অবস্থান। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বানসহ বর্তমান কার্যক্রম সম্পূর্ণ সাংবিধানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করেন বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫)।

আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। তাই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে নয়, বরং সেটিকে সামনে রেখেই পরিবর্তন আনতে হবে। তার ভাষায়, সংসদে উত্থাপিত প্রায় প্রতিটি প্রশ্নই সংবিধান সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা জুলাই সনদের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটায়নি। নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সনদের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা মানা হয়নি এবং ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণের প্রস্তাবও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে তাদের অবস্থানের অসংগতি স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যাদেশ ও আইনের বৈধতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা অধ্যাদেশ আইনের মর্যাদা পায়। ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথাযথ আইনি ক্ষমতার ভিত্তিতে জারি করা আদেশ ও অধ্যাদেশ বৈধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে সাংবিধানিক ভিত্তি ছাড়া কোনো আদেশ আইনের মর্যাদা পেতে পারে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি দেশের সর্বোচ্চ সামাজিক চুক্তি, যার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে আলোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা সম্ভব হবে। বিরোধী দলীয় নেতাও পরোক্ষভাবে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি স্পিকারকে দ্রুত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি এবং জুলাই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কার অবশ্যই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে। 

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব 

এদিকে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এ বিষয়ে সর্বদলীয় সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটির মাধ্যমে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে সংসদে উত্থাপন করা সম্ভব হবে।

একই দিনে সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। সংসদে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওই আদেশের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিধান রয়েছে। তবে তার মতে, এই পরিষদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি সংবিধানের ৭২ ও ৭৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদান করেছেন, যা সংবিধানসম্মত। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই বলে তিনি মত দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির আদেশ বৈধতা পেয়েছিল এবং পরবর্তীতে সংবিধানের বিভিন্ন তফসিলে তা স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান আদেশের আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস— এ বিষয়টি স্মরণ রেখে যেকোনো সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশ্ন প্রণয়ন ও উপস্থাপনার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা থাকা প্রয়োজন। তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় একত্রে উপস্থাপনের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর প্রতি বিএনপির সমর্থন রয়েছে এবং দলটি সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের ম্যান্ডেট গুরুত্বপূর্ণ এবং সংসদের মাধ্যমেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট আদেশ ও গণভোটের বৈধতা ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিচারাধীন। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমাদের সংস্কারের পথে এগোতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ 

যা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রম করলেও জনগণের প্রত্যাশিত পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে একাধিক সরকার গঠিত ও পরিবর্তিত হলেও জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বিরোধী দলীয় নেতা মঙ্গলবার সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ ধারায় জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনকালে এসব কথা বলেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং ০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে’ তিনি সংসদে নোটিশ আকারে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, এখানে বংশানুক্রমিক শাসনের সুযোগ নেই; জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও জনগণের ভোটাধিকার বহুবার খর্ব হয়েছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথমদিকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুযোগ সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সংবিধানের মূল চেতনারও অবক্ষয় ঘটে এবং জনগণের ভোটের মূল্য অনেকাংশে কমে যায়।

শফিকুর রহমান বলেন, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার এলেও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। বিশেষ করে ২০০৯ সালে গঠিত সরকারের সময় দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে দেশে দুঃশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

এ সময়ে বিরোধী মতের মানুষের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার শিকার সংসদের অনেক সদস্যও হয়েছেন। তিনি বলেন, এই সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করে। তার দাবি অনুযায়ী, ২৩৫ জন গুম হওয়া ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং ২ হাজার ৬৬২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, যারা কোনো বিচার পাওয়ার সুযোগ পাননি।

তিনি আরো বলেন, এই দুঃসময়ে বহু মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে— মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, নারীরা বিধবা হয়েছেন এবং শিশুরা এতিম হয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দলীয় প্রভাব বিস্তার লাভ করে। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এর চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে, যেখানে তরুণ-যুবসমাজের নেতৃত্বে সর্বস্তরের মানুষ— কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, এমনকি নারী ও শিশুরাও অংশ নেয়।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে- যেখানে সবার সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে।’ তিনি আরো বলেন, সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি একটি আদেশ জারি করেছেন, যা ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে একটি কার্যকর, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

‘ছয় বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি’

ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্রিকেটিয় ভাষায় বলেছেন, ‘শুনেন, আপনারা ৬ বলে ১২ রান করেছেন। কিন্তু, এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। সুতরাং আপনারা এমন কথা বলবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়, যেন জুলাইয়ে আমাদের কোনও কন্ট্রিবিউশনই নেই। যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিল, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও কিন্তু শহীদ হয়েছে। অবদান কারও কম নয়।’

৩১ মার্চ মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের (বিধি-৬২) ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ নিয়ে আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গণভোটের কারিগরি দিক নিয়েও সংসদে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, ‘আপনারা গণভোটে চারটি বিষয় দিয়েছেন। কিন্তু, কোনও ভোটার যদি একটি বিষয়ে একমত না হয়, তবে সে কী করবে? হ্যাঁ-তে ভোট দেবে নাকি না-তে? আপনারা তো তাকে বাধ্য করেছেন। সনদের বাকি বিষয়গুলো কেন গণভোটে দিলেন না?’

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ওপর আমাদের শ্রদ্ধা থাকতে হবে, একইসঙ্গে জুলাইয়ের স্পিরিটকেও তুলে ধরতে হবে। আমরা সবাই মিলে বসে আলাপ করি। কিন্তু কোনও সদস্যের বক্তব্যে যেন জুলাইকে আন্ডারমাইন করা না হয়। আসুন আমরা পজিটিভ কিছু নিয়ে আসি।’ সংবিধান বাতিল বা ছুঁড়ে ফেলার চেষ্টার সমালোচনা করেন বিজেপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা জুলাই নিয়ে নয়, সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা যদি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে চাইতেন, তবে সেই সময় রেভল্যুশনারি (বিপ্লবী) বা ট্রানজিশনাল সরকার গঠন করলেন না কেন? একটি সাধারণ সরকার গঠন করে, পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধান বাতিল করতে চাচ্ছেন, এটা হয় না।’

সংবিধানকে মুক্তিযুদ্ধের দলিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংবিধান ছুড়ে ফেলব কেন? এতে এত গাত্রদাহ কেন? আমরা চাইলে তো পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারি। এর জন্য ছুড়ে ফেলার তো দরকার নেই।’ তার বক্তব্যের জবাব দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি।

শেয়ার করুন