১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ১১:১৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি - প্রধানমন্ত্রী ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সূচনা নিজেই শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেক্সাসে বিতর্কিত নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদনে মুসলিমদের ক্ষোভ ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তারেক-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন দুদকে তারেকের কূটনৈতিক চালে ধরাশায়ী হাসিনা মুসলিম বিদ্বেষে কিশোর আলী হত্যায় মায়ার্সকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড অক্টোবরে বাড়ছে স্ন্যাপ সুবিধা ও আয়সীমা


মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট
বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম


আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বর্তমানে দেশে যা চলছে, তা মূলত দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের ‘ইনসিকিউরিটি’ বা নিরাপত্তাহীনতা বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ‘কৌন বনেগা লীগকা বাপ’Ñএমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দেশের মানুষ নিশ্চিত মৃত্যু জেনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে তাড়িয়েছে এবং ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর এ দেশে ফিরে আসতে পারবে না।

গত সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। মাহফুজ আলম লিখেন, ‘১৯৮৬ এবং ১৯৯৬ সালের স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না, আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা ও সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-আওয়ামী লীগের ১৯৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত।’

তিনি আরো লিখেন, ‘স্মৃতি আসলে ভয়ের উৎস বটে এবং আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সবচেয়ে বড় বিপদ ও চ্যালেঞ্জ হবে সেই প্রজন্মের জন্য, যারা আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদের’ বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছেন। জামায়াত জোটে যাওয়ায় সেই বিপদ আরো ত্বরান্বিত হয়েছে এবং নগদ যা লাভ হয়েছিল, সেটাকেও বড় করার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি লিখেন, ‘দুঃখজনক হলো, এ প্রজন্ম এখন ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগি নিয়ে।’ নতুন প্রজন্মকে নিজেদের হাতের রুটি বড় করার এবং এ জাতিকে তথা গ্লোবাল সাউথকে লিড দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণদের যার যার পার্টি, দোকান, ফেরকা ও তরিকা থেকে সংগঠিত হতে হবে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নিজেদের স্বচ্ছল করতে হবে। বড়দের আস্কারা ও উসকানিতে তরুণদের অনেক শক্তিক্ষয় হয়েছে এবং বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। এর সঙ্গে ছোটদের কোরাম আর মতাদর্শভিত্তিক একপাক্ষিক বয়ানও সক্রিয় ছিল এবং আছে, যার কারণে ১৯৭০ ও ১৯৯০-এর দশকেও তরুণদের এভাবে খেয়ে ফেলা হয়েছিল।’

লড়াইটা পুরোপুরি প্রজন্মের উল্লেখ করে সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আগের প্রজন্ম বর্তমানের তরুণদের বাঁচাবে না, এটি মাথায় রেখেই সবাইকে নতুন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।’ নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণরা যার যার ইমাম, খতিব, ফেরকা ও তরিকা বানাক, তাতে কোনো সমস্যা নেই এবং মতাদর্শের তর্ক চললেও সবার কেবলা বা মূল লক্ষ্য যেন থাকে জুলাই বিপ্লব আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম।’

তিনি আরো লিখেন, ‘নিশ্চিত মৃত্যু জেনে যে সাহসের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে তাড়ানো হয়েছে, সে সাহসের সঙ্গে এখন নতুন প্রজন্মকে সাংগঠনিক শক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করতে হবে, যাতে ফ্যাসিবাদ আর কোনোভাবেই ফিরে আসতে না পারে।’

শেয়ার করুন