চবি এলামনাই এসোসিয়েশনের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের দু:শাসন আর বাকস্বাধীনতার অভিযোগ করতে করতে যারা মুখরিত ছিলেন তারা অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে কি পেয়েছেন-প্রশ্ন তোলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অধ্যাপক ও চবি এলামনাস অধ্যাপক হোসাইন কবির। সমবেত সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকদের এই সময়ে কিভাবে নির্যাতন করা হল আপনারা দেখেছেন। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রাক্তন অধ্যাপক ও স্বাগতিক বক্তা সুদীপ্ত দেব বলেন, সারা দেশ যখন সভ্যতার সংকটে নিমজ্জিত তখন বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাসরা দেশ-জাতি নিয়ে স্বাধীনভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চা অব্যাহত রাখবেন এটাই কাম্য। তিনি ১৯৯০ সালের চবি নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের উদাহরণ দিয়ে বর্তমান সরকারি দলকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহবান জানান। বক্তব্যগুলো হলভর্তি দর্শক সমাবেশে চবি এলামনাই এসোসিয়েশনের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে উপস্থাপিত হয় সেদিন শুক্রবার ২৭ মার্চ।
নিউইয়র্কে জ্যামাইকার স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই সভায় সভাপতি সামসুদ্দিন আজাদ মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার উল্লেখ করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে এক থাকার কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী, চবি এলামনাইর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর শাহনেওয়াজ ডিকেন্স বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলি উদযাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধেও আদর্শ ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
প্রধান বক্তা ও সাবেক সভাপতি মাহমুদ আহমেদ মুক্তিযুদ্ধেও স্মৃতিচারণ করে জেনারেল এম এ জে ওসমানীর বীরত্ব ও কমান্ডের নানা দিক তুলে ধরেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু নোমান সরকার মঞ্চ আলোকিত করলেও অজ্ঞাত কারণে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহ সাধারণ সম্পাদক সাদেক শিবলী। শুরুতেই বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক আবু নোমান সরকার। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শকে ধারণ করার ছদ্মবেশে মুক্তিযুদ্ধেও বিপক্ষের যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে বসেছিল তারা বর্তমান সরকারের মধ্যেও যাতে না থাকে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রকৃতপক্ষে তারাই মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসির খান পল, এটর্নী খায়রুল বাশার, প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, রফিকুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, বিষ্ণু গোপ, নোয়াব মিয়া, শাহীন আজমল হোসেন, নজরুল ইসলাম বাবুল ও পরেশ সাহা। কবিতা আবৃত্তি কওে মন্ত্রমুগ্ধ করেন গোপন সাহা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাসান মাহমুদ ও মাহের।