২২ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৫:২৩:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অবৈধ ট্যারিফ ফেরতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পোর্টাল চালু হার্ভার্ডে ঈদ উদযাপনের পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক মার্কিন কংগ্রেসে লড়ছেন বাংলাদেশি আমেরিকান সিনেটর সাদ্দাম সেলিম মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর কারা পেলেন মনোনয়ন উজ্জীবিত নববর্ষ উদযাপন যে বার্তা দিয়ে গেল ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ১৬ মিলিয়ন অভিবাসী ভোটার আইএমএফ’র শর্তের নেপথ্যে রাজনীতি না অন্যকিছু জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘কিছু রাজনৈতিক দল’ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে - তারেক রহমান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী


মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৪-২০২৬
মদ্যপানের খবরে দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা কাশ প্যাটেলের সাংবাদিক সারাহ ফিটজপ্যাট্রিক ও এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল


যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর পরিচালক কাশ প্যাটেল প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করেছেন। গত ২০ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এ মামলায় বলা হয়েছে, ম্যাগাজিনটি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ক্ষতিকর তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয় তিনি নিয়মিত অতিরিক্ত মদ্যপান করেন এবং তার আচরণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিতর্কিত এ প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাংবাদিক সারাহ ফিটজপ্যাট্রিক। প্রতিবেদনে দুই ডজনেরও বেশি সহকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কাশ প্যাটেল প্রায়ই অতিরিক্ত মদ্যপান করেন এবং অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে অনুপস্থিত থাকেন। প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, তার এমন আচরণ এফবিআই ও বিচার বিভাগে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় আছেন। মামলার নথিতে কাশ প্যাটেল এ প্রতিবেদনকে দুরভিসন্ধিমূলক ও ভিত্তিহীন আক্রমণ বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, দ্য আটলান্টিক ইচ্ছাকৃতভাবে বেনামী সূত্রের ওপর নির্ভর করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ভুয়া সূত্র ব্যবহার করে দায় এড়ানো সম্ভব নয়। এ ধরনের মিথ্যা তথ্যের জন্য প্রকাশকদের দায় নিতে হবে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ওয়াশিংটন ডিসির একটি বেসরকারি ক্লাব এবং লাস ভেগাসের একটি স্থানে প্যাটেলকে প্রায়ই অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা দল তাকে জাগাতে সমস্যায় পড়েছে বলেও দাবি করা হয়। আরো বলা হয়, একবার তাকে খুঁজে না পাওয়ার কারণে নিরাপত্তা বাহিনী ‘ব্রিচিং ইকুইপমেন্ট’ ব্যবহারের প্রস্তুতিও নিয়েছিল। এছাড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সম্প্রতি তিনি একবার তার সরকারি ইমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পেরে ভুলভাবে মনে করেছিলেন যে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে জানা যায়, এটি একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত সমস্যা ছিল। তবে কাশ প্যাটেল এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব দাবি ভিত্তিহীন এবং তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে দ্য আটলান্টিক তাদের প্রতিবেদনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ম্যাগাজিনটি জানিয়েছে, তারা তাদের রিপোর্টিংয়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং এ মামলাকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, প্রতিবেদনটি বহু নির্ভরযোগ্য সূত্র ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখিকা সারাহ ফিটজপ্যাট্রিক জানান, তিনি প্যাটেল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০ জনের বেশি ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অনেককে গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে তারা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে নির্ভয়ে কথা বলতে পারেন।

কাশ প্যাটেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে একটি বিতর্কিত নিয়োগ হিসেবে পরিচিত। তুলনামূলকভাবে সীমিত আইন প্রয়োগের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাকে এফবিআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আগেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মামলা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বনাম ব্যক্তিগত সুনাম রক্ষার মধ্যে একটি বড় আইনি লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। মামলাটি যদি এগিয়ে যায়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যমের রিপোর্টিং এবং বেনামী সূত্র ব্যবহারের নীতিমালা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে, কাশ প্যাটেল ও দ্য আটলান্টিকের এ আইনি দ্বন্দ্ব যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও মিডিয়া অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এখন সবার নজরে রয়েছে।

শেয়ার করুন