১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ০৭:১৭:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি - প্রধানমন্ত্রী ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সূচনা নিজেই শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেক্সাসে বিতর্কিত নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদনে মুসলিমদের ক্ষোভ ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তারেক-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন দুদকে তারেকের কূটনৈতিক চালে ধরাশায়ী হাসিনা মুসলিম বিদ্বেষে কিশোর আলী হত্যায় মায়ার্সকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড অক্টোবরে বাড়ছে স্ন্যাপ সুবিধা ও আয়সীমা


যুক্তরাষ্টের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের সংকট
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
যুক্তরাষ্টের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের সংকট


ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একতরফা বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। একটি অনির্বাচিত সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করার অধিকার রাখে না। যত দিন যাচ্ছে চুক্তির বিভিন্ন ধারা জনসম্মুখে প্রকাশিত হওয়ায় প্রমাণিত হচ্ছে চুক্তিটি আর্থিক অর্থনৈতিক ভাবে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পণবন্দি করে ফেলবে। খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাও এ চুক্তিতে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয় অস্বীকার করে কিচেন কেবিনেটের কয়েকজনের ওপর দায় চাপাচ্ছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উপেক্ষা করে চুক্তি সম্পাদন। স্মরণ করবো ১৯৭১ মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকার হানাদার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধের শেষ লগ্নে ৭ম নৌবহর পাঠিয়েছিল। ১৯৭৪ বাংলাদেশের সহায়তার জন্য আসা গমের জাহাজ ফিরিয়ে নিয়ে দুর্ভিক্ষ অবস্থা ত্বরান্বিত করেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই বঙ্গোপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আধিপত্য স্থাপনের জন্য সহায়তা প্রদানের চাপ প্রয়োগ করছিল। হাসিনা সরকার প্রতিবাদ করে এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের অপসারণের জন্য ডিপ স্টেটের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে। 

ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় আসা বিএনপি জোট সরকার ইউনূস সরকার সম্পাদিত যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করার সক্ষমতা রাখে না। দেশে বিভিন্ন মহলে চুক্তির বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ শুরু হলেও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ঘোষণা দেওয়া বিএনপি সরকার সংসদে এক বারের জন্য চুক্তিটি আলোচনা করেনি। এমনকি বিরোধী দলগুলো নানা বিষয়ে সোচ্চার হলেও চুক্তিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। সরকারি দল আর বিরোধী দলের নিস্পৃহ থাকা প্রমাণ করে চুক্তি সম্পাদন বিষয়টি তাদের জানা ছিল। দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি তাদের স্বার্থের কাছে জলাঞ্জলি দিয়েছে।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিপুল অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, দ্বিগুণেরও বেশি মূল্য দিয়ে এলএনজি, এলপিজি কিনেছে। গম থেকে শুরু করে নানা কৃষি পণ্য ক্রয়ের পায়তারা চলছে। চুক্তির ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নয় এমন রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বড় ধরনের আর্থিক চুক্তি করতে পারবে না। বাংলাদেশ সাগরে গ্যাস তেল অনুসন্ধানের যে দরপত্র আহ্বান করেছে সেখানেও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ছাড়া অন্য কারো সুযোগ থাকবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশ কাদের সঙ্গে বড় ধরনের আমদানি রপ্তানি করবে সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করবে। শুল্ক সমন্বয়ের যে অজুহাত তুলে চুক্তি করা হয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের আদালত সেটি বাতিল করেছে।

এহেন একটি দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির বিরোধী বাংলাদেশের সাধারণ জনসাধারণ প্রতিবাদী হয়ে ওঠা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ক্ষয় পাচ্ছে। মধ্যপ্রচ্যের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে সরে আসছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে প্রভাববলয় বিস্তার করে চীনবিরোধী অবস্থান নিতে মরিয়া হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ পারবে কি আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের করালগ্রাস থেকে মুক্ত হতে?

বিএনপি সরকার কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়ে ইতিমধ্যে চুক্তির পক্ষে অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। যত দিন যাবে চুক্তির ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমি দেশপ্রেমিক বাংলাদেশিদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার সময় এসেছে।

শেয়ার করুন