১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ০৭:১২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্ন্যাপ সুবিধাভোগীদের ভাতা চুরি রোধে বড় পদক্ষেপ ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৪.৭ শতাংশ যৌন নিপীড়নের মামলায় ক্যারলকে ৫.৬ মিলিয়ন দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঢালিউডের দু’জন চিত্রনায়িকার বক্তব্যে নিয়ে অনেক প্রশ্ন তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ‘জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন’ রাজধানীর বুক থেকে নদী গায়েবের চেষ্টা রুখে দিল পরিবেশবাদিরা বাংলাদেশি অভিবাসীরা কি যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা? নেতৃবৃন্দ নীরব কেন ৩১ অঙ্গরাজ্যে মারাত্মক ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী পরজীবীর প্রাদুর্ভাব ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৩ জন মানুষের মৃত্যু বারবার দেশে ফেরার ঘোষণায় হালকা হচ্ছেন হাসিনা


কি হচ্ছে বাংলাদেশে?
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৬-২০২৬
কি হচ্ছে বাংলাদেশে? প্রতীকী ছবি


শিশুধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড- নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না হাম সংক্রমণ, প্রতিনিয়ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে কোমলমতি শিশু। আদ-দ্বীনের মতো একটি নামকরা হাসপাতালে অবহেলাজনিত ছয় নবজাত শিশুমৃত্যু, পদ্মা সেতুর রেললাইনের পিলারের নিচ থেকে মাটি চুরি, ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার মানহানি, সীমান্তে পুশইন সমস্যা, জাতীয় দলের ক্রিকেটারকে পুলিশের হেনস্তা করা। সনাতনিরা হঠাৎ কোনো ইস্যু ছাড়াই সোচ্চার হয়ে ওঠা- একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনা। সবকটি কিন্তু বিচ্ছিন্ন বা কাকতালীয় বলার সুযোগ নেই। দেশবিরোধী চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। সরকার বিচক্ষণ কূটনীতি অবলম্বন না করে প্রভাবশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করার উদ্যোগ নিচ্ছে না। পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দলদাস মুক্ত হচ্ছে না। প্রশাসনিক সংস্কার শুরু হয়নি।

এরই মধ্যে অনেকের মতে অতি উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রস্তাব পেশ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় পাস করে নিচ্ছে বিএনপি। বিশ্বজুড়ে যখন সংকট ঘনীভূত এগুলো কি মহাপ্রলয়ের আলামত বাংলাদেশে? মুক্তিযুদ্ধের ভ্যানগার্ড দাবি করা বিএনপি কি পারবে সব সংকট মোকাবিলা করে দেশকে স্বপ্নের মহাসড়কে নিয়ে যেতে? দেশে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র সক্রিয়। গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত রাখা হয়েছে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে। দেয়ালের লিখন পড়তে পারছে বলে মনে হচ্ছে না সরকার।

আওয়ামী সরকার কিন্তু দীর্ঘ সময়ে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন যজ্ঞ করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই আমলা নিয়ন্ত্রিত সরকার দুর্নীতির কারণে মাত্রাতিরিক্ত খরচ করায় প্রকল্পগুলো কাঙ্ক্ষিত উপযোগিতা অর্জন করেনি। কিন্তু যথাযথ তথ্য-উপাত্ত না জেনেই সরকারের মন্ত্রীরা ঢালাওভাবে সমালোচনা করছে। কীভাবে রুগ্ণ অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে, সেটি ব্যাপক বিচার-বিশ্লেষণ না করেই কিছু হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কেউ কেউ বলছে সবে চার মাস হয় সরকারের বয়স। পড়ে আছে দীর্ঘ পথ। সকালে সূর্য দেখে কিন্তু ভরসা পাচ্ছি না। জনগণ অনেক আশা নিয়ে বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সমস্যা সংকটের গভীরতা কতটুকু সঠিক অনুধাবন করতে পেরেছে বিএনপি অনুমান করতে পারছি না।

সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করে দেশের প্রশাসন যন্ত্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা। সরকারি সংস্থাগুলোর ব্যাপক সংস্কার করে জবাবদিহিতার আওতায় না আনা হলে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হবে।

উপমা রয়েছে আওয়ামী সরকারের ব্যর্থতায়। জানি না, কাদের পরামর্শে দুর্যোগ মুহূর্তে বিপুল ঘাটতি বাজেট প্রস্তাব করেছে সরকার। বর্তমান এনবিআর আর করকাঠামো দিয়ে কোনোভাবে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় হবে না। বাড়বে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ। দেশি বিনিয়োগের পথ রুদ্ধ হবে। জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকট বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে। নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ নাগাদ সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে দেখা দেবে।

সময় কিন্তু দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। দেশের মানুষ এখন বিশ্বকাপ ফুটবলে বুঁদ হয়ে আছে। আশা করি, শাসক দলের শুভাকাক্সক্ষীরা সরকারকে সঠিক পরামর্শ দেবে। দেশ চালাতে ভাবাবেগ কাজে লাগে না, সর্বক্ষেত্রে পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দিতে হয়। বাংলাদেশের বড় সম্পদ মেধাবী তরুণ প্রজন্ম। এদের সুস্থ পরিবেশে মেধাবিকাশের সুযোগ দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। ভুল ন্যারেটিভসে যেন বিভ্রান্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আমি কিন্তু ঈশান কোনে মেঘ দেখতে পাচ্ছি। সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয় হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন