২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:২৭:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকজনিত মৃত্যুহার কমলেও ফেন্টানিল এখনো প্রধান হুমকি ৩৮ মিলিয়ন মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে নেতাসহ ৮ জন গ্রেফতার নারী স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক ২ মুসলিম নারীকে হয়রানি ও হুমকি রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেটদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার’ পরামর্শ ইসরায়েলি বন্ড থেকে ৮৫ শতাংশ বিনিয়োগ প্রত্যাহার মেরিল্যান্ডের মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার থেকে এক বছরে বাদ ৫০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব আবেদনের ফি ১৩৩০ ডলার বাতিল হতে পারে ফি মওকুফ ২০৩৪ সালের পর সোশ্যাল সিকিউরিটি পেনশন সুবিধা কমার আশঙ্কা এক ফোটা রক্তেই মিলবে ৫০ ধরনের ক্যানসারের ইঙ্গিত গ্রিন কার্ডধারীকেও বহিষ্কারের ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৬-২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি


২০২৬ ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো ম্যান্ডেট অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল না। কোনো নির্বাচিত সরকারের পক্ষেও এ ধরনের চুক্তি নির্বাচিত জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া স্বাক্ষর করার নজির নেই। চুক্তিটির শর্তগুলোর দেখার এবং জানার চেষ্টা করেছি। এ চুক্তির অনেক শর্তই বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পঘোষিত যে বিতর্কিত শুল্কনীতি থেকে এ চুক্তির সূচনা, খোদ মার্কিন আদালতেই সেটি বাতিল হয়েছে। চুক্তিটির শর্তগুলোর বর্ণনা এবং ব্যাখ্যা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ পড়েছি। 

শর্তগুলো শুধু বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক নয়, সার্বভৌমত্ববিরোধী মনে হয়েছে। খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে জ্বালানি, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার সংকুচিত হয়েছে। অবিলম্বে এ চুক্তির ধারাসমূহ সংশোধন বা বাতিল না করা হলে বাংলাদেশের পক্ষে ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চুক্তির প্রতিক্রিয়া অনুধাবন করতে পারবেন। 

ভারত, রাশিয়ার সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। হাসিনা সরকারকে স্বৈরাচার বা একনায়ক বলে অভিযুক্ত করা হলো ২০০৮-২০২৪, কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন, জাপান, ভারত, রাশিয়া, কোরিয়া, পশ্চিমা দেশগুলোর অংশগ্রহণ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র নানাভাবে চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়ে ডিপ টেস্টের পরিকল্পনায় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সৃষ্টিতে মদত জুগিয়ে সরকার পতন ঘটিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একতরফা চুক্তি এর জলজ্যান্ত প্রমাণ।

ভারসাম্য পূর্ণ বৈদেশিক নীতি ছাড়া বাংলাদেশ কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে বন্ধুহীন হয়ে পড়তে পারে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা, পানি বণ্টন ব্যবস্থা, বাণিজ্য সব ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। চীন, রাশিয়ার বিনিয়োগেও ভাটা পড়তে পারে। জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে রফতানি প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সরকারের মন্ত্রীদের আকাশছোঁয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অলীক স্বপ্নে পরিণত হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রভাব সীমিত হয়ে আসছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই ট্রাম্পবিরোধী জনমত জোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ শেষে বিশ্ব উপলব্ধি করবে। মার্কিন চুক্তি থেকে সরে না এলে চীনের বড় বিনিয়োগ আসবে না। ভারতের বিনিয়োগ ২০২৪ থেকেই সংকুচিত হয়ে আছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভারত বৈরিতা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করবে। আমি ভারত নিয়ন্ত্রণের কথা বলছি না। পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলছি। ২০২৪ পরিবর্তনের পর থেকে প্রবৃদ্ধি বলেন আর অর্থনীতি বলেন, অনেকটাই অচল হয়ে আছে। আশা করি সরকার সতর্ক সংকেত বুঝতে পারবে। বাস্তবিক অর্থেই বাংলাদেশ প্রথম নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করবে।

শেয়ার করুন