হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি স্কট টার্নার
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সংকট মোকাবিলায় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণ খরচ কমানো এবং নতুন বাড়ির সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে বাড়ি ও ভাড়ার দাম কমানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি স্কট টার্নার দাবি করেছেন, অবৈধ অভিবাসনের কারণে বাড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক আমেরিকান নাগরিকের জন্য আবাসন ব্যয় বেড়েছে।
ফক্স নিউজ ডিজিটালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে টার্নার বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবাসন খাতে সংকট কমাতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি নিয়মকানুন কমানো, নতুন বাড়ি নির্মাণ সহজ করা, বন্ধকী ঋণ বা মর্টগেজ সুবিধা বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা।
টার্নারের মতে, আগের প্রশাসনের সময় সীমান্ত দিয়ে বিপুল সংখ্যক অননুমোদিত অভিবাসী প্রবেশের ফলে আবাসনের চাহিদা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাড়ির দাম ও ভাড়ার ওপর। তিনি বলেন, আমরা যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন আমাদের দেশে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। দেশে কোটি কোটি অবৈধ অভিবাসী ছিল, যারা আবাসনের চাহিদা বাড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমেরিকায় আমরা আমেরিকান জনগণকে অগ্রাধিকার দিই। আমেরিকার বাড়ি আমেরিকান মানুষের জন্য।রিপাবলিকান নেতারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন, অতিরিক্ত সরকারি নিয়ম এবং নির্মাণ খাতে বাধার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম বেড়েছে। তাদের মতে, নিয়ম কমানো, নির্মাণ বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসন কমানোর মাধ্যমে আবাসন সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
সম্প্রতি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের একটি গবেষণাপত্রেও অননুমোদিত অভিবাসন ও আবাসন বাজারের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, অননুমোদিত অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা ১ শতাংশ বাড়লে গড়ে বাড়ির দাম প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং ভাড়া প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ার সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সংকটের পেছনে শুধু অভিবাসন নয়, বরং আরো অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুদের হার বৃদ্ধি, নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘাটতি, জমির মূল্য বৃদ্ধি, নির্মাণ শ্রমিক সংকট এবং স্থানীয় পর্যায়ের জোনিং নিয়ম।
স্কট টার্নার বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আবাসন খাতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও বিউরোক্রেটিক রেড টেপ কমানোর কাজ করছে। তার দাবি, নির্মাণ ব্যয় কমলে ডেভেলপাররা আরো বেশি বাড়ি তৈরি করতে পারবে এবং এর ফলে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়া সহজ হবে। তিনি বলেন, আমরা এখন নিয়ন্ত্রক বাধা কমাচ্ছি, খরচ কমাচ্ছি এবং সরবরাহ বাড়াচ্ছি, যাতে নির্মাতারা বাড়ি তৈরি করতে পারে এবং সাধারণ মানুষ বাড়ি কিনতে পারে।
অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি আরো জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে আবাসন নির্মাণে বাধা কমানো, মর্টগেজ সুবিধা বাড়ানো এবং নতুন বাড়ির সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক পরিবারের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ মর্টগেজ সুদের হার এবং বাড়ির দাম বৃদ্ধির কারণে প্রথমবারের ক্রেতারা বিশেষভাবে চাপের মধ্যে রয়েছেন। অনেক শহরে ভাড়ার দামও সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের নতুন নীতির ফল ধীরে ধীরে দেখা যাবে এবং এর মাধ্যমে আগামী দিনে বাড়ির দাম ও ভাড়ার চাপ কমানো সম্ভব হবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সংকট সমাধানে আরো বেশি সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক নীতির সমন্বয় প্রয়োজন।