১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৬:৫৯:১৯ অপরাহ্ন


জামায়াত-এনসিপি চূড়ান্ত
ঢাকা মহানগরে তাহলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কে?
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৯-২০২৬
ঢাকা মহানগরে তাহলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কে?


ঢাকা সিটি উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াত উত্তরে মুহাম্মাদ সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে চূড়ান্ত করেছে। অপরদিকে দক্ষিণে এনসিপির প্রার্থী দলের মুখ্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া ও উত্তরে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে। 

এরপরই প্রশ্ন উঠেছে তাহলে বিএনপির প্রার্থী কে? বিএনপি এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। এমনকি কোনো আলোচনাও না। প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয় দলের শীর্ষস্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করবেন। বিএনপির দুই প্রশাসক ইতিমধ্যে ওই দুই সিটিতে কাজ করছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ উত্তরে মো: শফিকুর রহমান খান মিল্টন ও দক্ষিণে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুস সালাম দায়িত্ব নেন। সে থেকেই দু’জন কাজ করে আসছেন। এখন এ দু’জনই মেয়র পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বিএনপি মনোনয়ন দেবে কি না অন্য কাউকে মনোনয়ন দেবে সেটাই প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণে যে নামটা শোনা যায় তিনি ইশরাক হোসেন। সাবেক অভিবক্ত সিটির মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও। 

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ’২৬ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করবো, ইনশাআল্লাহ্।’ 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইশরাক হোসেন। পরে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ফলে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তার মেয়র পদে মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়ে কিছুটা সন্ধিহান কেউ কেউ। অবশ্য যেহেতু আওয়ামী লীগ নেই, সেখানে বিএনপির যে প্রতিদ্বন্দ্বী তাতে একজন দায়িত্বশীল ও সুনামের সাথে কাজ করতে পারেন এমন কাউকে খুঁজছে বিএনপি। সেটা কী আব্দুস সালাম না ইশরাক বা অন্য কেউ কি না সেটা জানতে আরো সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে আলোচনায় আছেন আমান উল্লাহ আমানও। 

অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান — ছাত্রদল থেকে উঠে আসা পরবর্তিতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। ঢাকার মাঠ পর্যায়ে বিশেষ করে মিরপুরের মত এলাকায় জনপ্রিয় ও বেশ প্রভাব বিস্তার করা নেতা। 

গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের কাছে হেরে যান। যদিও সমালোচকেরা ওই পরাজয় নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। এ আসনেও বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যায়। তাবিথ আউয়াল, হাবিবুন নবী খান সোহেল প্রমুখ। 

মেয়র নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দল কোনো প্রার্থী “মনোনয়ন” দেবে না, বরং তৃণমূলকে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমর্থন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বিএনপি এ দুই পদে মনোনয়ন দেয়ার আগে জরিপ হতে পারে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম ও গুরুত্বপূর্ণ দুই মেয়র পদ যাতে না হারাতে হয় সে জন্য সজাগ দৃষ্টি রেখেই এগুবে বিএনপি। কারণ ওই দুইয়ের বাইরেও যোগ্য প্রার্থী বিএনপির হাতে রয়েছে। যারা বিএনপিতে ত্যাগী, জনপ্রিয়। যাদের গ্রহনযোগ্যতাও রয়েছে। 

জামায়াতের প্রার্থী

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীর নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখি দল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে আমরা মাঠপর্যায়ের সব ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পর্যায়ে এসে গেছি। অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে আমরা আভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছি।

তিনি বলেন, ঢাকার ২ সিটি করপোরেশনেও আমরা ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব এবং সাংগঠনিকভাবে এখানেও আমরা আমাদের প্রার্থী মনোনীত করেছি। অফিশিয়ালি সময়মতো আমরা প্রার্থী ঘোষণা করব। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমেও এসেছে, ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের আগে তিনি তাদের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। 

অপরদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সমন্বয়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি (সহ-সভাপতি) নির্বাচিত হন।

এছাড়াও তিনি ২০২৪ সেশনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং পরবর্তীতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই নেতাকে সামনে রেখে দক্ষিণ সিটিতে তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ের পরিকল্পনা করছে জামায়াত। 

এনসিপির প্রার্থী 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তারা এনসিপির শাপলা প্রতীকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এনসিপির কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় ও সমন্বয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়।

নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং সার্বিক অর্গানাইজেশনাল প্রস্তুতি নিতে আয়োজিত এ সভায় নাহিদ ইসলাম নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

শেয়ার করুন