দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুর রহিম
মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সেই বিকেলটিই হয়ে রইলো এক বাবার জীবনের শেষ বিকেল। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে ১৮ বছর বয়সী মেয়ে তানজিলকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। গত ২৭ সেপ্টেম্বর গাড়ি ঘুরানোর একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দেয় গাড়িটি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর মেয়ে তানজিল ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করেন।
ওয়ারেন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর শহরের ২৪,০০০ ব্লক ওয়ার্নার অ্যাভিনিউতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এলাকাটি স্টিফেন্স রোডের কাছে এবং ডিকুইন্ডার ও রায়ান রোডের মাঝামাঝি। পুলিশ জানায়, আব্দুর রহিম তখন মেয়েকে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি প্যারালাল পার্কিং অনুশীলন করাচ্ছিলেন। অনুশীলনের একপর্যায়ে গাড়িটি তাকে ধাক্কা দেয় এবং থামার আগে অল্প দূরত্ব পর্যন্ত তাকে টেনে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করা হচ্ছে না। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনা সম্পর্কে মেয়েটির দেওয়া বিবরণের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের মিল রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর তানজিল ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। ওয়ারেন পুলিশের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে পুলিশ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
পরিবার ও বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে নিহতের পরিচয় মোহাম্মদ আব্দুর রহিম হিসেবে জানা গেছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেশী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা জানান, আব্দুর রহিমের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। বিশেষ করে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর মতো একটি স্বাভাবিক পারিবারিক মুহূর্ত এভাবে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় পরিণত হওয়ার ঘটনাটি পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।