২২ জুলাই ২০১২, সোমবার, ০৭:৫১:০৩ অপরাহ্ন


এক বছরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৪৫ জন নিহত
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৭-২০২৪
এক বছরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৪৫ জন নিহত ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ


২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত এক বছরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪৫ জন। মরদেহ উদ্ধার (হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান) হয়েছে ৭ জনের। হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১০ জনকে। হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে ৩৬ জনকে, হামলা-শারীরিক নির্যাতন-জখম হয়েছে ৪৭৯ জনকে। 

২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে এতথ্য জানানো হয়েছে। গত ৮ জুলাই সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, কাজল দেবনাথ, সাংবাদিক বাসুদেব ধর ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাংবাদিক নিখিল মানকিন, ইঞ্জিনিয়ার শুভদেব কর প্রমুখ।

সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে আরো জানানো হয় যে, অই এক বছরে চাঁদা দাবি করা হয়েছে ১১ জনের কাছ থেকে, বসতঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১০২টি, বসতবাড়ি-জমিজমা দখলের ঘটনা ঘটেছে ৪৭টি, বসতবাড়ি-জমিজমা দখলের-উচ্ছেদের তৎপরতা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে ৪৫টি, দেশত্যাগের হুমকি-বাধ্য করার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, দেবোত্তর-মন্দির-গীর্জার সম্পত্তি দখল ও দখলের চেষ্টার ঘটনা হয়েছে ১৫টি, শ্মশানভূমি দখল-দখলের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ৭টি, মন্দিরে হামলা-ভাংচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৯৪টি, প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে ৪০টি, গণধর্ষণ-ধর্ষণ-ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২৫টি, অপহরণ-নিখোঁজ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ঘটেছে ১২টি, ধর্ম অবমাননার কল্পিত অভিযোগে আটক হয়েছে ৮ জন, জাতীয় নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে ৩২টি, স্থানীয় নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে ৫টি, অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে ১৪টি, মোট ঘটনা ঘটেছে ১,০৪৫টি। 

প্রতিবেদনটি পেশ করে বলা হয় যে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের চালচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশেষ করে সংখ্যালঘু স্বর্ণব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার, মন্দির ও উপাসনালয় এবং বিগ্রহ, সংখ্যালঘুদের জায়গা-জমি ও স্কুল কলেছে পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়েরা সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চার পরিবেশ একেবারেই সংকুচিত করা হয়েছে।

পুলিশ প্রহরায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলাকালে সন্ত্রাসীদের কাউকে জনগণ আটক করলে পুলিশ প্রশাসন তাকে ‘পাগল’ বানিয়ে মূলত সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকেই উৎসাহিত করে। ফেইসবুক হ্যাক করে ধর্ম অবমাননার কল্পিত অভিযোগে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়িকে আক্রমণের শিকার করছে, অহেতুক যুবক সম্প্রদায়কে হয়রানি করছে।

সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ৭০ থেকে ৭৫% ভূমিকেন্দ্রিক। ভূমি জবরদখলের বদমতলবে ভূমিখেকো সন্ত্রাসীরা প্রায় বেশিরভাগ সময় নানান রাজনৈতিক দলের প্রভাবপুষ্ট হয়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এ সাম্প্রদায়িক সহিংস আক্রমণ পরিচালনা করছে। এছাড়া চলতি বছরের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের নেতাদের ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অপপ্রয়াসও দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা গেছে। শুধু তাই নয়, এ দু’টি নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তারা মূলত সরকারি দলের। কেউ দলীয় প্রতীকে, কেউবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। লক্ষ্য করা গেছে, ব্যতিক্রমবাদে প্রার্থীদের অনেকে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভোটদানে নানানভাবে শুধু বিঘ্নই সৃষ্টি করেনি, প্রকারান্তরে সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। এ বিভাজনের কারণে নির্বাচনের পক্ষ-বিপক্ষের হাতে সংখ্যালঘু জনাগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন নির্বাচনে নতুন এক মাত্রা যুক্ত করেছে। প্রতিবেদকটি তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ এই পরিস্থিতি উত্তরণে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন ও সংখ্যালঘু বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ ৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। 

শেয়ার করুন