১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:০২:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইমাম নিহতের ঘটনায় টার্নারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ম্যানহাটনে মুসলিম মহিলাকে ছুরিকাঘাত, আলবার্টকে ১১ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে ওয়াশিংটনের ন‍্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সভা মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম বদলাতে মরিয়া ট্রাম্প জামায়াতের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি বাংলাদেশ গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশের সঙ্গেও ক্রিকেটে ভারতীদের ভূ-রাজনীতি


ষড়যন্ত্র অব্যাহত
অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকুন
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০৮-২০২৪
অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকুন সচিবালয়ের সামনে আনসারদের বিক্ষোভ


ছাত্র-জনতার গণবিস্ফোরণের পর কনস্টিটিউশন বহাল রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। দেশে কিন্তু জরুরি আইন অথবা সামরিক আইন জারি করে কনস্টিটিউশন স্থগিত করা হয়নি। এমতাবস্থায় যতটা সম্ভব প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করে সরকারকে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে। এ মুহূর্তে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নানাধরনের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন শুরু করে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। সরকারকে স্বস্তিতে গুছিয়ে নিয়ে কাজ করতে দিচ্ছে না। সরকারকে সর্বোতভাবে সহায়তার অঙ্গীকার করেছে সেনাবাহিনী। সেই অবস্থায় কেন, কীভাবে সচিবালয়ের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একবার একশ্রেণির এইচএসসি পরীক্ষার্থী, এরপর তথাকথিত আনসারবৃন্দ সমবেত হয়ে দুর্যোগ সৃষ্টি করলো? কেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের এসে যুদ্ধ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হলো?

২০ দিন হয়ে গেছে সরকারের। এখনো কিন্তু নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারের মোট অতীব অপরিহার্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ হয়নি। দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। চারিদিকে বিপুল পরিমাণ জঞ্জাল পরিষ্কার করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে দ্রুত দেশকে নির্বাচনমুখী করতে হলে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দলসহ সবাইকেই সংযত আচরণ করতে হবে। জনতা কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পতিত রাজনৈতিক দলকে ম্যান্ডেট দেয়নি। সব দলের সুযোগ আছে নিজেদের সংস্কার করে, অতীতের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার।

দেখছি, গণআন্দোলনে শাহাদাত বরণকারীদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সনাতন ঢঙে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মামলার ধরন একই ধরনের এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অশুভ অভিপ্রায় দৃশ্যমান। একই ধরনের মামলা অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমলেও হয়েছে। তাহলে আর মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন হলো কোথায়? সরকার সব হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক মানের বিচারের অঙ্গীকার করেছে। আন্দোলনে পুলিশ সদস্যরাও নির্মমভাবে নিহত হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি, জাতীয় সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে। সেসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বিচারের আওতায় আসবে। কীভাবে নিষিদ্ধ বোরের আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে গেল, সেগুলো দেখতে হবে।

এগুলো গুছিয়ে নিয়ে সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে।

আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের বিপ্লবী ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকুন। কিন্তু ছাত্রদের কাজ দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়া, শিক্ষাঙ্গনে উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং অবসর সময়ে সমাজ সংস্কারমূলক কাজ করা। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীকেও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের এখন প্রকৃত সময় নয়। সরকার ন্যূনতম সংস্কারের সুযোগ পেলে এমনিতেই অনেক কিছু ঠিক হয়ে যাবে। এখন প্রয়োজন আবেগ আর উচ্ছ্বাসের লাগাম টেনে ধরা।

শেয়ার করুন