০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৫:১৬:২১ অপরাহ্ন


পুলিশ পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৩-২০২৬
পুলিশ পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ পুলিশ কমিশনারের সাথে বৈঠক


জুলাই অভ্যুত্থানে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যে সেক্টরটি সেটা দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী। তৎকালীন আওয়ামী শাসক দলের সকল ইচ্ছার বাস্তবায়নের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা চলে দেশের এ বাহিনী দিয়ে। এতে জনগণের বন্ধু হয়ে ওঠা পুলিশ সবচে ঘৃণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় সরকারের শীর্ষস্থানীয়দের অর্ডারে। অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে সে সময়ের শাসক গোষ্ঠী পালিয়ে গেলেও পুলিশ তো পালাতে পারেনি। ফলে এদের কেউ কেউ রোষাণলে পড়ে। বিভিন্নভাবে নিগৃত হন তারা। এতে জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান থেমে যেয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও পুলিশ অনেকটাই ভয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। পুলিশের মনবল ফেরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ। কারণ সে সময় থানা লুট, থানায় আগুন দেয়া, পুলিশের গাড়িতে আগুন। পুলিশকে হত্যা করাসহ নানা নির্যাতন গেছে এ বাহিনীর উপর দিয়ে। পুলিশেরও অতি উৎসাহী কতিপয় অফিসার নানাভাবে এ বাহিনী ব্যাবহার করে এ বাহিনীর ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন ও আন্দোলনকারীদের রোষাণলে পরিণত হতে বাধ্য করে। পুলিশের শীর্ষস্থানীয় অনেকেই পালিয়ে চলে যায় দেশের বাইরে। যারা রয়েছেন, তারা এখনও ভীত। 

ফলে ওই আন্দোলনের দের বছরের অধিক সময় পার হয়ে গেছে। পুলিশের পোষাকের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু এখনও পুলিশ আগের জায়গায় ফেরেনি। এতে করে সাধারণ মানুষ এখনও ভীত শঙ্কায়। এতে করে পুলিশকে পুরাপুরি সক্রিয় ও মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ফেরাতে তারেক রহমানের সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

ওই সূত্র ধরে পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। দেশটি জাইকার মাধ্যমে মেট্রোরেল ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। জাপানের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। ডিএমপির ট্রাফিক সেফটি নিয়েও কাজ করেছে জাপান। ভবিষ্যতে পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপান সহযোগিতা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকটি উপযুক্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ পুনর্গঠন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিও’তে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্টটি গতবছর শেষ হয়েছে। আমরা পুলিশ ও ডিএমপি’র সঙ্গে আরও কাজ করতে আগ্রহী।

চলতি বছর হলি আর্টিজান হামলার দশ বছর পূর্তি হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আমরা জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ীসহ বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাপানি নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, জাপানের পক্ষ থেকে যে কোনো অনুরোধ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবো।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম-সচিব রেবেকা খান, জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব (পলিটিকাল) কমিনে কেন, প্রথম সচিব (ইকোনমিক) মচিদা ইউত্র প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন