১২ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৪:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকজনিত মৃত্যুহার কমলেও ফেন্টানিল এখনো প্রধান হুমকি ৩৮ মিলিয়ন মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে নেতাসহ ৮ জন গ্রেফতার নারী স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক ২ মুসলিম নারীকে হয়রানি ও হুমকি রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেটদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার’ পরামর্শ ইসরায়েলি বন্ড থেকে ৮৫ শতাংশ বিনিয়োগ প্রত্যাহার মেরিল্যান্ডের মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার থেকে এক বছরে বাদ ৫০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব আবেদনের ফি ১৩৩০ ডলার বাতিল হতে পারে ফি মওকুফ ২০৩৪ সালের পর সোশ্যাল সিকিউরিটি পেনশন সুবিধা কমার আশঙ্কা এক ফোটা রক্তেই মিলবে ৫০ ধরনের ক্যানসারের ইঙ্গিত গ্রিন কার্ডধারীকেও বহিষ্কারের ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের


সুপ্রিম কোর্টের রায়
গ্রিন কার্ডধারীকেও বহিষ্কারের ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৬-২০২৬
গ্রিন কার্ডধারীকেও বহিষ্কারের ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ইউএস সুপ্রিম কোর্ট


যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ২৩ জুন মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন মামলায় ৬-৩ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে গ্রিন কার্ডধারীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন প্রয়োগে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করেছে। আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, বিদেশ ভ্রমণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় কোনো গ্রিন কার্ডধারী বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য সন্দেহ থাকলে বা মনে করলে ইমিগ্রেশন অফিসার বা সীমান্ত কর্মকর্তারা তাকে ইমিগ্রেশন প্যারোল অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম শুরু করতে পারেন। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডধারীদের পুনঃপ্রবেশের অধিকার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা এবং অভিবাসন বিষয়ে নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে।

মামলাটি নিউ জার্সির বাসিন্দা ও গ্রিন কার্ডধারী মুক চয় লাউকে কেন্দ্র করে। ২০১২ সালে চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় সীমান্ত কর্মকর্তারা তাকে জাল পণ্যের ব্যবসার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে ইমিগ্রেশন প্যারোলে রাখেন। পরে লাউ নিউ জার্সিতে নকল পোশাক বিক্রির দায় স্বীকার করলে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) তার বিরুদ্ধে দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম শুরু করে। লাউয়ের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, সীমান্ত কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন, কারণ তখনও তিনি কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি। তাদের মতে, ওই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে তাকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে ফেলে।

তবে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে জাস্টিস ক্লেরেন্স থমাস লিখেছেন, সীমান্ত কর্মকর্তাদের ওপর এ দায় ছিল না যে তারা স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে দেখাবেন যে মুক চয় লাউ নৈতিক স্খলনমূলক কোনো অপরাধ করেছেন। অন্যদিকে ভিন্নমত পোষণ করে বিচারপতিকেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন সতর্ক করেন যে এই সিদ্ধান্ত সরকারকে অত্যধিক ক্ষমতা দিচ্ছে। তিনি লিখেছেন, লাউকে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই ইমিগ্রেশন লিম্বো বা অনিশ্চিত আইনি অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। জ্যাকসন তার ভিন্নমতে বলেন, আমি আশঙ্কা করছি আদালত এখন সরকারের হাতে একটি বিশাল ব্ল্যাঙ্ক চেক তুলে দিল। তার এই মতামতে আদালতের অপর দুই উদারপন্থী বিচারপতিও যোগ দেন।

ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, কোনো গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে অপরাধের যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকলেই তাকে ইমিগ্রেশন প্যারোলে রাখা বৈধ। ফেডারেল আইনজীবীরা অভিবাসন বিষয়ে নির্বাহী শাখার ক্ষমতার বিস্তৃত ব্যাখ্যা গ্রহণের জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান। রায়টি এমন এক সময়ে এসেছে যখন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রচেষ্টা, কঠোর আশ্রয়নীতি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ এবং যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের অস্থায়ী আইনি সুরক্ষা বাতিলের বিষয়।

একই দিনে সুপ্রিম কোর্ট আরেকটি ৬-৩ রায়ে লুইজিয়ানার এক সাবেক বন্দির মামলাও খারিজ করে। ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন যে কারা কর্মকর্তারা তার রাস্তাফারিয়ান ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থীভাবে তার জটাধারী চুল কেটে দিয়েছিলেন। আদালত রায় দেয় যে বন্দিদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার জন্য প্রণীত ফেডারেল আইন রিলিজিয়াস ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনালাইজড পারসন্স অ্যাক্ট (আরএলইউআইপিএ) ক্ষতিপূরণের অর্থ দাবি করে মামলা করার সুযোগ দেয় না। ফলে ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিকভাবে দায়ী করা যাবে না।বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিন কার্ডধারীদের মামলায় দেওয়া সর্বশেষ রায় ভবিষ্যতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।

নিউইয়র্কের নতুন অভিবাসন আইন চ্যালেঞ্জ করে আদালতে ট্রাম্প প্রশাসন

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সদ্য পাস হওয়া অভিবাসন আইনকে চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইউ এস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে) অভিযোগ করেছে, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে হস্তক্ষেপ করে নিউইয়র্ক আইনসভা তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ২২ জুন সোমবার নিউইয়র্কের বাফেলোর ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় বিচার বিভাগ দাবি করে, ২৭৭ বিলিয়ন ডলারের স্টেটের বাজেটের অংশ হিসেবে গৃহীত নতুন আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সুপ্রিমেসি ক্লজ বা ফেডারেল আইনের সর্বোচ্চতার নীতির পরিপন্থী। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো স্টেট ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধ করতে পারে না।

এর জবাবে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস পৃথক পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন, যাতে আইনটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্যকর করা যায়। দুই পক্ষের আইনি লড়াই মূলত নতুন আইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে ঘিরে। প্রথম বিধান অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা-যার মধ্যে আইস এজেন্টরাও অন্তর্ভুক্ত। দায়িত্ব পালনকালে এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের সময় মুখ ঢেকে রাখতে পারবেন না। তবে গোপন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। আইনটির এই অংশ চলতি সপ্তাহেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় বিধানটি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও আইসিইর মধ্যে তথাকথিত ২৮৭(জি) সহযোগিতা চুক্তি নিষিদ্ধ করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ বা শেরিফ অফিসগুলো নির্দিষ্ট অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমে ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে পারে। ইউ এস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস-এর মতে, এই দুটি ব্যবস্থাই অভিবাসন আইন কার্যকরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মামলায় বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের আইন ফেডারেল আইন প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গভর্নর হোচুল আইনটির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি ব্যাজের সঙ্গে জনগণের আস্থা রক্ষার দায়িত্ব জড়িত। নিউইয়র্কবাসীর জানার অধিকার রয়েছে কে তাদের কমিউনিটিতে আইন প্রয়োগ করছে এবং স্থানীয় সম্পদ জননিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে কি না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডেমোক্র‍্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আইসিই এজেন্টদের মুখোশ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপকারী আইন পাস হয়েছে। বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে নিউ জার্সি, কানেকটিকাট এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অনুরূপ আইনগুলোকেও আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন একটি ফেডারেল আদালত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, কারণ বিচারকের মতে সেটি ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক হতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্তবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা টম হোমান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে নিউইয়র্কে আরও বেশি আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হতে পারে। তার দাবি, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা না পাওয়ায় অভিবাসন আইন কার্যকরে অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে গভর্নর হোকুল বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নিউইয়র্কের অর্থনীতি ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে নিউইয়র্কের কয়েকটি কাউন্টিতে বিভিন্ন ধরনের ২৮৭(জি) চুক্তি কার্যকর রয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী এসব চুক্তি ৯০ দিনের মধ্যে বাতিল করতে হবে, যার সময়সীমা আগামী আগস্টের শেষ দিকে শেষ হবে। তবে কয়েকজন স্থানীয় রিপাবলিকান কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা এই নির্দেশনা মানতে রাজি নন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।পর্যবেক্ষকদের মতে, মামলাটি শুধু নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতির ভবিষ্যতই নির্ধারণ করবে না, বরং ফেডারেল সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর ক্ষমতার সীমা নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অভিবাসন আইন প্রয়োগে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভূমিকা কতটা হতে পারে, সে প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।

শেয়ার করুন