২০২৫ সালে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার নিম্নমুখী থাকলেও ২০২৫ সালে দেশটিতে ৩৬ লাখের বেশি শিশুর জন্ম হয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৬ লাখ ৬ হাজার ৪০০ শিশুর জন্ম হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ কম। গত এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার ধীরে ধীরে কমছে। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট, শিশু লালন-পালনের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং পরিবার গঠনে বিলম্বের কারণে অনেক আমেরিকান সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জন্মহার কমে যাওয়া এবং জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, শ্রমবাজার, সোশ্যাল সিকিউরিটি এবং মেডিকেয়ার কর্মসূচির ওপর দীর্ঘমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ কোটি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা গ্রহণ করছেন, আর কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর তুলনায় অবসরপ্রাপ্তদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
জন্মহার ক্রমাগত কমতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিবাসনের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। জন্মহার কমে যাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রমবাজার, সোশ্যাল সিকিউরিটি এবং মেডিকেয়ার কর্মসূচির ওপর চাপ বাড়ছে। তরুণ কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে গেলে অবসরপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর ব্যয় বহন করা আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক জন্ম ও মৃত্যুর ব্যবধান ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বৃদ্ধি (জন্ম মাইনাস মৃত্যু) আগের তুলনায় অনেক কম অবদান রাখছে। এ পরিস্থিতিতে বৈধ অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, শ্রমশক্তি এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, জন্মহার নিম্নমুখী থাকা এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান, কর রাজস্ব এবং অবসরভাতা কর্মসূচির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসন নীতি, পরিবারবান্ধব কর্মসূচি এবং সন্তান লালন-পালনের ব্যয় কমানোর বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব দিতে হতে পারে। জনসংখ্যা গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমশক্তি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসন, পরিবারবান্ধব নীতি এবং জন্মহার বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।