২৮ জুন ২০২৬, রবিবার, ০৫:৫৫:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক তারেক রহমান শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আজ বৈঠক মাদকজনিত মৃত্যুহার কমলেও ফেন্টানিল এখনো প্রধান হুমকি ৩৮ মিলিয়ন মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে নেতাসহ ৮ জন গ্রেফতার নারী স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক ২ মুসলিম নারীকে হয়রানি ও হুমকি রিপাবলিকান কনভেনশনে মুসলিম ডেলিগেটদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার’ পরামর্শ ইসরায়েলি বন্ড থেকে ৮৫ শতাংশ বিনিয়োগ প্রত্যাহার মেরিল্যান্ডের মেডিকেইড ও ওবামাকেয়ার থেকে এক বছরে বাদ ৫০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব আবেদনের ফি ১৩৩০ ডলার বাতিল হতে পারে ফি মওকুফ ২০৩৪ সালের পর সোশ্যাল সিকিউরিটি পেনশন সুবিধা কমার আশঙ্কা


বাংলাদেশ সরকারের মানবাধিকার সরক্ষণ বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন ও সত্য বচন
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০৪-২০২২
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন  ও সত্য বচন


বাংলাদেশ সরকারের মানবাধিকার সরক্ষণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার কমিশন প্রতিবেদন নিয়ে পক্ষে- বিপক্ষে আলোচনা এখন তুঙ্গে। মন্ত্রীরা বলছেন প্রতিবেদন তথ্য ভিত্তিক নয়। দেখলাম বাংলাদেশে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, সুনির্দষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃত পরিস্থিতি সংশ্লিট সবার জানা আছে। 

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য সব দেশ থেকে ভালো কিনা সেটি কিন্তু মুখ্য নয়।  আসল বিষয় হলো, খুন, গুম, বিরুদ্ধ মতকে নানাভাবে দমিয়ে রাখার যে সংস্কৃতি বাংলাদেশে চালু হয়েছে, সেটি প্রকারান্তরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা বলি- দুদকের এখন কথিত সাহসী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হলো। শুনছি উনি বেশ কিছু মহা দুর্নীতিবাজদের কথিত দুর্নীতির অনুসন্ধান করে প্রমাণাদিসহ তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছিলেন। 

চাকরি ফিরে পাবার জন্য বৈধ পন্থায় আবেদন করেও সাড়া মিলছে না। আরো একজন সৎ কর্মকর্তা র‌্যাব ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার দুর্নীতির অনেক আলোড়নকারী ঘটনা উন্মোচন করেছিলেন। অন্যান্য সহকর্মীদের যথা সময়ে পদোন্নতি হলেও উনাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দেশ থেকে চিহ্নত মহল বিপুল সম্পদ বিদেশে পাচার করলেও সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধেই এযাবৎ ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। কিছু কিছু চুনোপুটিকে ধরে জেলখানায় জামাই আদর করা হচ্ছে। 

সাড়া জাগানো কিছু হত্যাকাণ্ডের (সাগর- রুনি, তনু) বিচার নীরবে কাঁদছে। সেনাবহিনীর চৌকষ অফিসার না হলে মেজর সিনহার হত্যাকান্ডের বিচার এতো দ্রুত হতো না। 

জানি বিরোধী দল সুযোগের সন্ধান করছে। তিলকে তাল বানাচ্ছে। কিন্তু সরকারি দলের সবাই যে ধোয়া তুলসী পাতা তাও তো নয়। জনতা জানতে চায়- ফরিদপুরের সরকারি দল ঘনিষ্ঠ কিছু ভিআইপি দুর্নীতিবাজের দুর্নীতির কাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে কোন বিশেষ ব্যক্তি গৃহবন্দির কাহিনী। 

র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে? যদি শাসক দল এতো নিশ্চিত থাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ট নয়। তাহলে কেন এতো অস্থিরতা, কেন এতো কূটনৈতিক তৎপরতা? বাংলাদেশে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা যেতেই পারে। এটা বড় কথা নয়। প্রশ্নটা এখন বড় আকারে ধারণ করেছে যে- কিছু নির্লজ্জ মানুষের পাপে, দেশ কেন কলংকিত হবে? কেন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাটা উত্তরকোরিয়া, মায়ানমার টাইপের দেশের মত বাংলাদেশের উপরও এসেছে। আসলেই কী বাংলাদেশ ওই কাতারের? মোটেও না। তবু মার্কিনীরা এখন ওই কাতারেই রেখে দিয়েছে। এটা লজ্জার নয় কি!


শেয়ার করুন