১৪ জুন ২০১২, শুক্রবার, ০৫:১৮:০৮ অপরাহ্ন


ইফতারে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী বিএনপির কে?
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৪-২০২৩
ইফতারে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী বিএনপির কে? বিএনপির ইফতারে সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়।


বিএনপির ইফতার মাহফিলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ঘটনা নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে কেনো, কারা এটি ঘটিয়েছে? এতে কার লাভ হয়েছে? যুবদলের ব্যানারে বিএনপি’তে আসলে এরা কারা ছিল? কারা এদের এমন ইন্দন জুগিয়েছে দেশের পাশাপাশি বিএনপি’র এমন মুহূর্তে। যদিও সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে কয়েকজনকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুব দল।

পেছন ফিরে দেখা..

ঘটনাটি ঘটে ৩১ মার্চ শুক্রবার। ছিল বিএনপির ইফতার মাহফিল মিরপুর ২ নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে। ঘটনার সময়ে পল্লবী ও রপুনগর থানার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে স্কাইপেতে প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমান যুক্ত ছিলেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ..

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যমের একজন কর্মী জানান তারা আমন্ত্রণ পেয়েই অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। এসময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্টিতে আসা যুবদলের কয়েকজন নেতাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। চলে বেশ কিছুক্ষণ বিশৃঙ্খলা। মঞ্চে থেকে নেতারা বার বার বারণ করা সত্ত্বেও তারা অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও কিছুই করতে পারছিলেন না। যদিও তার বেশ কয়েকবার উঁচু স্বরে ধমকের পর একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন এবং একটি ক্যামেরা ভেঙে যায়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এরা কারা?

প্রশ্ন হচ্ছে যুবদলের এমন আচরণ কেনো ঠিক এই মুহূর্তে? যখন সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশে- বিদেশে নিন্দার ঝড় বইছে। এমনিতেই আসকের রিপোর্টে দেখা গেছে যে গত তিন মাসে ৫৬ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি, মামলা ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এসব ঘটনায় দেশের ক্ষমতাসীনদের ওপরই অভিযোগের তীর ছিল। কিন্তু মাঠে বিরোধী দলের হাতে দাওয়াত পেয়ে সাংবাদিকরা এমন হামলার শিকার হবে-এটা কেউ আশাই করতে পারেনি। এমনকি খ্দো বিএনপি নেতারাই মঞ্চ থেকে যুবদলের শীর্ষ নেতাদের এমন আচরণ দেখে কুলকিনারা করতে পারছিল না। তবে প্রশ্ন থেকে যায় এমন ঘটনার পেছনে আসলে কারা ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সাংবাদিকদের ওপর যখন হামলা চলছিল তখন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাইক হাতে নিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন এ কে? এরা কারা? তিনি এসময় একজন হামলাকারী উদ্দেশ্য করে জানতে চান এ কে? এসময় তার পাশে একজন নেতা বলে, আমি ওকে চিনি না.. এমন উত্তর পেয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখানে সরকারের দালালরা ঢুকে পড়েছে। তিনি বলতে থাকে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সর্তক থাকতে। এর পাশাপাশ মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এধরনের ঘটনার জন্য গভীর দু:খ প্রকাশ করেন। 

শেষ কথা..

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, তারা হামলাকারীদের চিহ্নিত করছেন। এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে সদস্য সচিব আমিনুল হক যুক্ত করেছেন এই বলে যে, বর্তমানে দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা নিজেদের ঝুঁকি নিয়ে সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু ষড়যন্ত্রই নয়, ন্যাক্কারজনকও। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে পল্লবী ও রুপনগর থানার তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুব দল। 

বহিষ্কৃতরা হলেন, পল্লবী থানা ৬ নং ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, পল্লবী থানার সাবেক সহসভাপতি জুয়েল খান এবং রুপনগর থানার যুগ্ম সম্পাদক মো. আসিফ। যুব দলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ভারপ্রাাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। কিন্তু সংগঠন বিরোধী কাযর্কলাপের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে পল্লবী ও রুপনগর থানার বহিষ্কৃত তিন নেতা কেনো এই সময়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বা তার সাথে আরো কেউ ছিল কি-না বিএনপি’র তদন্তে তা উঠে আসেনি। আর ঘটনার সাথে জড়িত অনেকে পার পেয়ে গেছে। তাই প্রশ্ন সাংবাদিকদের ওপর হামলার যুবদলের এরা আসলে কারা? কি তাদের আসল পরিচয়? যদিও র্ভাচুয়ালি তবুও দলের চেয়ারাপারসনের সামনে এমন ঘটনা যারা ঘটায় তাদের হাতে দেশ ও জাতি কতটা নিরাপদ সে-প্রশ্নই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। তবে বিএনপি ও যুবদল ধন্যবাদ পেয়েছে পল্লবী থানা ৬ নং ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, পল্লবী থানার সাবেক সহসভাপতি জুয়েল খান এবং রুপনগর থানার যুগ্ম সম্পাদক মো. আসিফকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে।

শেয়ার করুন