১৪ জুন ২০১২, শুক্রবার, ০৭:০২:১৮ অপরাহ্ন


পলিসি কমিটির নির্বাহী সদস্য পদে বিপুল ভোটে জয়ী
অস্ট্রেলিয়া লেবার পার্টির নির্বাহী সদস্য বাংলাদেশের মিতা চৌধুরী
অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৯-২০২৩
অস্ট্রেলিয়া লেবার পার্টির নির্বাহী সদস্য বাংলাদেশের মিতা চৌধুরী মিতা চৌধুরী, “Yes” ক্যাম্পেইনে/ছবি সৌজন্য


অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশী মিতা চৌধুরী অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছেন। ভিক্টোরিয়ার লেবার পার্টির দুটি পলিসি কমিটির নির্বাহী সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। গত ৩১ জুলাই ২৫ অগাস্ট এ সময় অনুষ্টিত ভোটে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। দুই পলিসির একটি মাল্টিকালচারাল এফেয়ার্স এন্ড ফ্যামিলি এবং কালচারাল টুরিজম এন্ড স্পোর্টস। অণ্যটি ভিক্টোরিয়ান লেবার উইমেন্স নেটওয়ার্কের সদস্যপদ। মেলবোর্নে অবস্থানরত মিতা চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষায় অস্ট্রেলিয়ায় গমন করেন। তিনি শুধু একজন চিত্র শিল্পীই নন, একজন লেখক ও সংগঠকও। 

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মিতা চৌধুরী বলেন, আমি ২০১৪ সাল থেকে লেবার পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছি। একই সময়ে পরপর তিনটি সাফল্যে আমি বিস্মিত ও আনন্দিত হয়েছি। তাছাড়া ভিক্টোরিয়ান লেবর পার্টির বেশ কিছু অঙ্গসংগঠন আছে যার মধ্যে অন্যতম হলো ভিক্টোরিয়ান লেবার উইমেনস নেটওয়ার্ক। 

মিতা চৌধুরী আরো বলেন, আমি আসলে এমন ফলাফলে বিষ্মিত হই নাই ( দুই পলিসি কমিটি ও ওইমেন নেটওয়ার্কের নির্বাহি সদস্য নির্বাচিত) এটা আমার অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিলো, কারন গত প্রায় একদশক ধরে আমি লেবার পার্টিতে প্রচুর সময় দিয়ে সাংগঠনিক কাজ করে আসছি। আগামী ১৪ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানে সংশোধন আনার জন্য রেফারেন্ডামে যাচ্ছে। যেই রেফারন্ডম সফল হলে অস্ট্রেলীয় আদীবাসি এ টরস স্ট্রেইট আইল্যানিডের জনগোষ্ঠীকে সাংবিধানীকভাবে এই ভূমির আদী অধিবাসি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে। আমি সেই “Yes” কেম্পেইের একজন একটিভ ভলান্টিয়ার ও কমিউনিটি এ্যাম্বাসডর। 

নিজের সফলতা প্রসঙ্গে মিতা বলেন, উইম্যান নেটওয়ার্কের নির্বাহী কমিটিতে যে আমি প্রথম পর্বেই কোন প্রেফারেন্স ভোট ছাড়াই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো আসলে এমনটা ভাবিনি। সত্যিকার অর্থেই এটা আমার জন্য বিশাল অর্জন। 

উল্লেখ্য, ১৮৯১ সালে কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির জন্ম হয়। এটিই এদেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল। দলটির রয়েছে কয়েক স্তরের ক্ষমতা কাঠামো। তৃণমুল সদস্যরাই দলের মূল চালিকাশক্তি ও উৎস। ভিক্টোরিয়ার লেবার পার্টির কাঠামোর অন্যতম অঙ্গ হলো পলিসি কমিটি। 

এ প্রসঙ্গে মিতা বলেন,  পার্টির নীতিমালা কিভাবে সাধারণের মুল্যবোধকে প্রতিফলিত করতে পারে তা এই পলিসি কমিটির মাধ্যমে প্রকাশ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলির মধ্যে একটি or vice versa। এই কমিটিগুলির পরামর্শ ও সুপারিশের  মাধ্যমেই  ভিক্টোরিয়ান লেবার পার্টির নীতিমালার ভিত্তি হয়ে ওঠে যার উপর নির্ভর করে পরবর্তী নির্বাচনের পলিসি ও এজেন্ডা। কমিটিগুলো ভিক্টোরিয়ান লেবার সরকার নির্বাচিত হলে তার কর্মপরিকল্পনা ও কার্য্যক্রম কি হবে তার ভিত্তি তৈরি করে। ভিক্টোরিয়ান লেবর পার্টির এরকম ১৪টি পলিসি কমিটি আছে আর প্রতিটির ২০জন করে এক্সেকিউটিভ মেম্বার রয়েছে। এই সদস্যদের ভোট দেয়ার ক্ষমতা আছে নতুন কোনো প্রস্তাবিত নীতিমালার পক্ষে বা বিপক্ষে। আর এই পলিসি কমিটির এক্সেকিউটিভ মেম্বাররা নির্বাচিত হয় দলের FEA‘র ভোটে। 


ভিক্টোরিয়ান লেবার উইমেনস নেটওয়ার্ক হল ALP-এর অফিসিয়াল ভিক্টোরিয়ান নারীদের নেটওয়ার্ক। সংগঠনটি  উদ্দেশ্য  পার্টির কাঠামো, সরকার এবং জনজীবনের সমস্ত স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত ও উৎসাহিত করা যা পার্টির নীতিগত ফলাফল অর্জনের সর্বোত্তম উপায়। ভিক্টোরিয়ান লেবার উইমেনস নেটওয়ার্কের মোট ১৫জন এক্সেকিউটিভ মেম্বার আছে যারা পার্টির তৃণমূল নারী সদস্যেদের ভোট নির্বাচিত হয়ে থাকে। 


শেয়ার করুন