২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০৩:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন


ভাঙলো মিলন মেলা, শেষ হয়ে গেলো আমার অক্সিজেন
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-১১-২০২৩
ভাঙলো মিলন মেলা, শেষ হয়ে গেলো আমার অক্সিজেন


বিশ্বকাপের বিশ্বসেরা হওয়ার যে মহাযজ্ঞ, সেটা ফলো করছিলাম সেই অস্ট্রেলিয়া থেকে। এরপর চলে এসেছি ঢাকায়। আশাছিল পাশের দেশ কলকাতায় যেয়ে একটি সেমিফাইনাল হলেও দেখবো। সময় ও আনুসঙ্গিক কারনে হয়ে ওঠেনি। ফাইনাল গ্যালারীতে বসে দেখার প্লানটাও করিনি। দেশে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সবার ব্যস্ততা দেখছি। এতে আমিও এখন মত্ত। নির্বাচন বলে কথা, বাংলাদেশের মানুষের এ যেন এক উৎসব।

তবে যারা আমাকে চিনেন জানেন তারা অনুভব করেন আমি ক্রিকেট খাই ,পান করি এবং ক্রিকেট নিয়েই স্বপ্ন দেখি সেই ১৯৬০ দশকের শিশুকাল থেকেই।


এবারের বিশ্ব কাপ ক্রিকেটের প্রতিটি ম্যাচ শুরু থেকে শেষ অবধি দেখেছি। প্রতিটি ম্যাচ শেষে বাংলায় ,ইংরেজিতে ৩-৪ করে রিপোর্ট লিখেছি দেশ বিদেশী পত্রিকা সাময়িকীতে।  অন্তত ৫০ টি জুম আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছি। একটি নোট বুকে বরাবরের মত প্রতিখেলার উল্লেখযোগ্য সব কিছু লিখে রেখেছি। অস্ট্রেলিয়ায় থেকে খেলাগুলো দেখতে গভীর রাত জাগতে হয় বিধায় বাংলাদেশ চলে আসি।  এখানেও রেডিও ভূমি , এখন টিভি  চ্যানেল ২৪ কিছু কথা বলেছি। অবশেষে কাল রোববার আমার বর্তমান দেশ অস্ট্রেলিয়া হেক্সা  জয়ে যবনিকা হল বিশ্বকাপের।  জানিনা আরো একটি বিশ্বকাপ ক্রিকেট সুযোগ হবে কিনা ৭০ কাছাকাছি পৌছানো জীবনে।  আমার মায়ের দেশ বাংলাদেশকে এবারের বিশ্বকাপে   বিবর্ণ , বিপর্যস্ত দেখে কষ্ট পেয়েছি। সোনালী প্রজন্ম চলে গেলো।  যেভাবে চলছে ঘরোয়া ক্রিকেট অবকাঠামোর খোল নলচে পাল্টে ফেলা না হলে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে খাবি খেতে থাকবে।


যাক বাংলাদেশের কথা।  ২০০৫ -২০২১ প্রায় ১৬ বছর ছিলাম অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা শহর মেলবোর্ন। ক্রিকেটের সঙ্গে দারুন ভাবেই সম্পৃক্ত ছিলাম।  অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সকল স্টেডিয়ামে নানা ধরণের ক্রিকেট দেখেছি।  আইকনিক এমসিজিতে অন্তত ৫০-৬০ ম্যাচ দেখেছি।  সময়ের সেরা অস্ট্রেলিয়ান তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে।  বাংলাদেশ কিংবদন্তি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আমার এলাকার রিংউড ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কুইন্সল্যান্ড এসে কিছুটা সংযোগ বিহীন হলেও ছেলে শাহরিয়ার শুভ্র নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলায় নিয়মিত ক্রিকেট দেখি। আর দুনিয়ার কোথাও দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হলে সব গুলো দেখি নানা মিডিয়ায়।


এবার কিন্তু বিশ্ব কাপের সূচনায় আমি ভারত ,অস্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যান্ড  এবং  ইংল্যান্ড সেরা চারে খেলবে বলে পর্যালোচনায় লিখেছিলাম। এটিও বলেছিলাম ডার্ক হর্স হিসাবে পাকিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিবেচনায় রাখতে।  আমি কিন্তু বলেছিলাম বাংলাদেশ বড় জোড় দুটি বা তিনটি ম্যাচ জিতবে। আমাকে হতাশ করেছে ইংল্যান্ড ,পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। আমি আনন্দিত যে ভারত ,অস্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সেমী ফাইনাল খেলেছে।  সবাইকে বিস্মিত করে চমক দিয়েছে আফগানিস্তান যে দেশ আমাকে ২০১০-১৪ সেখানে থাকার সময় অনেক সমাদর করেছে।


আমি অস্ট্রেলিয়া সেমী ফাইনালে পৌঁছার পরেই লিখেছি বলেছি অস্ট্রেলিয়া জিতবে আরো একটি বিশ্বকাপ। আমি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট চরিত্র ঘনিষ্ট জানি। আরো জানি অস্ট্রেলিয়া কিন্তু " Advance Australia Fair " দীক্ষায় দীক্ষিত।  আমি অস্ট্রেলিয়ার বিশাল জয়ে গর্বিত অনুপ্রাণিত। আমি বলি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের ব্রাজিল।  ব্রাজিল কিন্তু হেক্সা মিশনে এখনো সফল হয় নি। অস্ট্রেলিয়া হয়েছে। ১৩ বিশ্বকাপে ৬ টি জয় ,দুবার রানার্স আপ।  ধারে কাছে কেউ নেই।  কেন তরুণ ক্রিকেট প্রজন্মকে বলবো অনুসন্ধান করুন।
আমার কিন্তু অক্সিজেন আপাতত শেষ হলো।  আবার শুরুর অপেক্ষায় দিন গুনবো।

শেয়ার করুন