২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০৩:০২:০১ অপরাহ্ন


কলেরা রোগ ছড়াচ্ছে প্রচণ্ড দাবদাহে
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৫-২০২৪
কলেরা রোগ ছড়াচ্ছে প্রচণ্ড দাবদাহে ঢাকায় কলেরা হাসপাতাল


বাংলাদেশে রেকর্ড তাপপ্রবাহে জনজীবনে চরম অস্বস্তি। হিট স্ট্রোকে মারা যাচ্ছে মানুষ। প্রাণিকুলের অবস্থাও শোচনীয়। আবহাওয়া দফতর বলছে সহসাই বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা। যেটা হতে পারে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে। তবে বাস্তবতায় তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে টুকটাক ঝোড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু সেটা সাময়িক। তাতে বড় কোনো সুফল বয়ে আনছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ বৃষ্টির জন্য ইসতিসকার নামাজ আদায় করছেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে মিনতি করছেন বৃষ্টির জন্য। এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন ধানকাটার মৌসুম। কৃষক মনে করছে, বৃষ্টিপাত হলে ফসল বিশেষ করে ধান ঘরে তোলা কষ্টকর হয়ে যাবে। বৃষ্টি আসুক সেটা তারও চায়, তবে সেটা কম। তবে কৃষকের প্রত্যাশা বৃষ্টির চেয়েও দাবদাহ যেন কমে যায়। তাহলেই স্বস্তি। বিশাল পরিমাণ অর্থ খরচা করে চাষাবাদ করে ধান পেকে গেছে। এখন ঘরে তোলার পালা। তুলছেনও। এ পর্ব চলবে আরো বেশ কিছুদিন। 

তবে কৃষি বিভাগ আবহাওয়া দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন, ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই ফসল কেটে ফেলার জন্য। শতভাগের জন্য অপেক্ষা না করাই উত্তম। কারণ যে কোনো মুহূর্তে মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। এতে বঞ্চিত হতে পারেন কৃষক, তার ফসল ঘরে তোলার ক্ষেত্রে। 

এদিকে দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। যারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে কলেরার জীবাণু মিলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নিজস্ব জরিপের মাধ্যমে ভয়াবহ তথ্য দিয়েছে। ঢাকার মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) জানিয়েছে, গত ১৬ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সেখানে সেবা নেওয়া ৪ শতাংশ ডায়রিয়া রোগীর শরীরে কলেরার জীবাণু পাওয়া যায়। তাপপ্রবাহ বাড়ার পর গত ৮ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ডায়রিয়ার সেবা নেওয়া ৬ শতাংশ রোগীর শরীরে কলেরার জীবাণু মিলেছে।

রাজধানীতে এখন চলছে পানি সংকট। বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকা, তাপপ্রবাহে অতিরিক্ত পানির চাহিদা থাকার কারনে যথাযথ পানি সাপ্লাই দিতে ব্যর্থ ওয়াসা। 

এতে করে প্রবাহমান পানির পাইপ শুকিয়ে যায়। যেহেতু রাজধানীর বেশির ভাগ স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক, তাই শূন্য পানির পাইপে বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে ড্রেনেজ, দুর্গন্ধযুক্ত বা জীবাণুবাহী পানি। মিশ্রিত হয়ে যাচ্ছে ওয়াসার সুপেয় পানির সঙ্গে। সমস্যার মূলে অনেকটাই এমন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। 

এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর পানি দ্বারা বরফ তৈরি এবং বিভিন্ন নোংরা (খাবার উপযোগী পানি নয়) এমন পানি দ্বারা প্রচণ্ড গরমের তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার ধারে শরবত তৈরি করে বিক্রি যেমনটা আখের রস, লেবু শরবতসহ এ জাতীয় নানা প্রক্রিয়ায় মানুষের পেটে জীবাণুযুক্ত পানি প্রবেশ করতে পারে। 

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৯টি দেশ এখনো কলেরার উচ্চঝুঁকিতে আছে; এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এসব দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কলেরা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। 

আইসিডিডিআর,বি সূত্র থেকে জানা গেছে, চলমান তাপপ্রবাহে তাদের হাসপাতালে দৈনিক গড়ে পাঁচ শতাধিক কলেরা রোগী ভর্তি হচ্ছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে গত ২২ এপ্রিল ৫৫০ জন, ২৩ এপ্রিল ৫২৮ জন, ২৪ এপ্রিল ৫১৮ জন, ২৫ এপ্রিল ৫৬৮ জন, ২৬ এপ্রিল ৫১২ জন, ২৭ এপ্রিল ৫২৯ জন এবং ২৮ এপ্রিল রোববার ৪৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে এক রিপোর্টে প্রকাশ। 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের গরমেও ডায়রিয়া রোগীদের মধ্যে কলেরা ভাইরাস বেশি ছিল। ওই বছর এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে সেবা নেওয়া ১২ থেকে ১৩ শতাংশ ছিলেন কলেরায় আক্রান্ত। বলে রাখা ভালো, কলেরা ভাইরাস মূলত পানি ও খাবারের মাধ্যমেই ছড়িয়ে থাকে। যার জীবাণু সাধারণত অপরিচ্ছন্ন খাবার বা দূষিত পানি থেকে আসে।

শেয়ার করুন