১১ জানুয়ারী ২০২৬, রবিবার, ০৩:২৬:২২ পূর্বাহ্ন


বঙ্গোপসাগরে পারমাণিক বোমা পরীক্ষা
বাংলাদেশে নির্বাচন বানচালে ভারতের সামরিক হুমকি!
মঈনুদ্দীন নাসের
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-১২-২০২৫
বাংলাদেশে নির্বাচন বানচালে ভারতের সামরিক হুমকি!


বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত শুধু কূটনৈতিক হুমকির পর হুমকি দিয়ে কিংবা বাংলাদেশে গণহত্যাকারীকে মদত দিয়ে বা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে নয়, এখন ভারত বাংলাদেশকে পারমাণবিক হুমকির আওতায় নিয়ে এসেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত নেতা তারেক রহমান যখন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার জন্য লন্ডন থেকে উড়াল দিলো ঠিক সেদিন ভারত বঙ্গোপসাগরে বিশাখাপত্তম উপকূলের কাছ থেক মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে। আনবিক শক্তিধর ‘কে-ফোর’ সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) ৩৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের। এ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। পাকিস্তান ও চীনের বিরুদ্ধে ভারত তার সামরিক সজ্জার প্রমাণ হিসেবে এই মিসাইল টেস্ট করলেও এবারের মিসাইল টেস্টের এক ভিন্ন শানে নুজুল রয়েছে। ‘কে-ফোর’ মিসাইলটি ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট, অর্থাৎ বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের পর। যখন বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ, পাকিস্তান ও চীনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কারণ ভারত একের পর এক বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার চুক্তিসমূহ বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে নিজভূমিতে মোদি আশ্রয় দেয়। এ ক্ষেপণাস্ত্রের সংযোজনা স্থল, আকাশ ও সমুদ্র-এ তিন মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে সক্ষম সীমিতসংখ্যক দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান আরো দৃঢ় হলো। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে প্রতিরক্ষা বিভাগ সূত্রে বলা হয়, এ পরীক্ষা সম্পূর্ণ সফল। এটি কে-ফোর মিসাইলের দ্বিতীয় পরীক্ষা। বঙ্গোপসাগরে নিয়োজিত আইএনএস অরিঘাত থেকে পরিচালিত এই টেস্ট বস্তুত কি পাকিস্তানের জন্য প্রস্তুতি-না অন্য কিছু। এ পরীক্ষার মাধ্যমে কে-ফোর মিসাইলকে ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত করলো। 

অন্য কোনো সময় মিসাইল টেস্ট কখন কোথা থেকে করা হয় তা জানানো হয় না। গত মাসেও তারা অন্য মিসাইল টেস্ট করেছে। তবে কোথা থেকে করা হয়েছে তা জানা যায় সাধারণ্যে। এবার ভারত অফিসিয়ালি না বললেও মিডিয়ায় প্রচার করেছে এই মিসাইল বিশাখাপত্তম উপকূলের কাছে সাবমেরিন আইএনএস অরিঘাত থেকে উৎক্ষিপ্ত। বিশাখাপত্তম থেকে মোংলা পোর্টের দূরত্ব ১০৫৩ কিলোমিটার আবার চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ১৪১৩ কিলোমিটার। ভারত শুধু পাকিস্তান নয় দক্ষিণ এশিয়ার সর্বত্র এ মিসাইল রেঞ্জের আওতায় আনতে পারে। ভারত বাংলাদেশ নয় শুধু বাঙালিদের সঙ্গে যেভাবে নচ্চারের মতো কাজ করে যাচ্ছে তাতে এই মিসাইল উৎক্ষেপণ যে বাংলাদেশকে সাবধান করা নয়-তা কে বলতে পারে? বাংলাদেশ ভারতকেন্দ্রিক ব্যতিরেকে নিরাপত্তার জন্য যে বিকল্প পথ খুঁজছে তা বলাই বাহুল্য। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর ভারত যখন রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশকে কষ্টে ফেলার চেষ্টা করেছে তখন তিনি পাকিস্তানের জাহাজ দিয়ে অন্য দেশ থেকে পণ্য এনেছিল। ভারত বিষয়টাকে ভালোভাবে নেয়নি। ভারত তড়িঘড়ি করে কে-ফোর সাবমেরিন নৌবাহিনীতে সংযোজন করে। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে যেসব ঘটনা হয়েছে, তাতে গত ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করা, গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু এবং তার পরপর তারেক রহমান বাংলাদেশে আসার খবর প্রচার সবকিছুর মধ্যে ভারত কারণ খোঁজার চেষ্টা করে। ভারত বাংলাদেশের নির্বাচন বানচালে এখনো সক্রিয়। তারা অন্তর্বর্তীমূলক নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগকে পুনর্জীবনদানের জন্য। কিন্তু হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের মানুষকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভারতবিরোধী করে তোলে। মানুষ মনে করে ভারতের সঙ্গে সন্ধি করে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। 

সম্ভবত এজন্য ভারত এবার শুধু পাকিস্তান বা চীন নয়- বাংলাদেশের ভারতবিরোধী উত্থানকেও সামরিক নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। বিষয়টা নিয়ে আরো আলোচনার দাবি আছে। তবে বাংলাদেশের পত্রিকা জগতের ’পাদ্রীরা’ এ নিয়ে খুব নীরব। বিশেষ করে তারেকের বাংলাদেশে আসার জন্য একদিকে যখন তিনি বিমানে অন্যদিকে চলছে ভারতের আনবিক মিসাইল উৎক্ষেপণ।

শেয়ার করুন